শুভ জন্মদিন ক্লারা

ক্লারা জেটকিন
ছবি: সংগৃহীত

উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানিতে শিল্প-কারখানার ব্যাপক প্রসারের ফলে স্পষ্টত দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে জার্মান সমাজ—বুর্জোয়া ও প্রলেতারিয়েত। শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে দানা বাঁধতে থাকে অসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মার্কস ও অ্যাঙ্গেলসের মতবাদ। এর ফলে সেখানে দুটো আন্দোলন সংঘটিত হয়—সমাজতান্ত্রিক ও নারীবাদী আন্দোলন। আর এই দুটি সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনেই যিনি বিশেষ অবদান রেখেছিলেন, তিনি হলেন ক্লারা জেটকিন। নিজেকে আদ্যোপান্ত একজন সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেই পছন্দ করতেন বেশি। কিন্তু এরই সমান্তরালে তাঁর আরেকটি পরিচয় ছিল—নারী অধিকারকর্মী। সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে তিনি সফলভাবে নারীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে কাজে লাগাতে পেরেছিলেন। জেটকিনের মা ছিলেন নারীবাদী আইনজীবী, ফলে শৈশব থেকেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন নারীদের বঞ্চনা। ছাত্রাবস্থায় একদল রাশিয়ান নির্বাসিতের সংস্পর্শে সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যোগ দেন জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে। এরপর থেকেই শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ গঠন আর নারীর অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তাঁর ক্রমাগত জীবনব্যাপী পথচলা।

১৮৭৮ সালে বিসমার্ক জার্মানিতে সমাজতান্ত্রিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে জেটকিন প্রথমে সুইজারল্যান্ড ও পরে প্যারিসে নির্বাসিত হন। সেখানে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সংগঠন গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৮৯০ সালে তিনি আবার জার্মানিতে ফিরে এসে যুক্ত হন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষ থেকে প্রকাশিত নারীদের অধিকারবিষয়ক ডাই গ্লাইসাইট (সমতা) পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে। পত্রিকাটি খুব দ্রুতই হয়ে ওঠে নারীদের অধিকার আন্দোলনের মুখপাত্র। সমাজ ও পরিবারে নারীদের ভঙ্গুর অবস্থান ও নানা বৈষম্য, পুরুষের সমানতালে কাজের অধিকার ও সমান মজুরি, রাজনৈতিক অধিকার, নারীর প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন ইত্যাদি বিষয়ে পত্রিকাটিতে নিয়মিত লেখা প্রকাশ হতে থাকে। ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে জেটকিনসহ অন্যান্য নারী নেত্রীরা নারীদের অধিকার ও মুক্তির লড়াইয়ের প্রতি সম্মান জানাতে বছরের একটি দিন ছুটি রাখার আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রতিবছর ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন জেটকিন। ১৯৩৩ সালে হিটলার জার্মানিতে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ করলে জেটকিন মস্কোতে নির্বাসিত হন। সে বছরই ৭৬ বছর বয়সে সেখানে তিনি মারা যান।

আজ ৫ জুলাই, তাঁর জন্মদিন।