
‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—ভাবছেন কোনো এক ভোটারের উক্তি। যেমনটা ভেবেছেন, তা একেবারে ঠিক। তবে এই ভোটারের বয়স ৯-এর ঘরে। নাম ইফতেখার ফয়ুজ। পড়ছে নাসিরাবাদ সরকারি কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, চতুর্থ শ্রেণীতে। তাহলে ভোটার কীভাবে? এই ভোট ছোটদের ভোট। নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনে তারা ভোট দিয়েছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি নগরের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন’। উৎসবমুখর পরিবেশে খুদে শিক্ষার্থীরা নির্বাচন করেছে তাদের প্রতিনিধি।
নগরের কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিটি বিদ্যালয়ে উৎসবের আমেজ। কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ। এরপর ফলাফল ঘোষণা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্বাচিত হয় সাতজন।
বন্দর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুন কবির বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ভোটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকায় কোথাও কোনো অব্যবস্থাপনা হয়নি।
খুদে শিক্ষার্থীদের এই ভোটযুদ্ধ ছিল নির্বাচন কমিশনার, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মকর্তা। খুদে শিক্ষার্থীরাই এসব পদে দায়িত্ব পালন করে। নির্বাচনের আগে এসব পদের জন্য দায়িত্ব বণ্টন করে দেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা নির্বাচনে ভোট দেয়। প্রার্থীও হয়েছে তারা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সাল থেকে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া এই স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন এ বছর চট্টগ্রাম জেলার দুই হাজার ২০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘শিশুকাল থেকে গণতন্ত্রের চর্চা, নেতৃত্বের বিকাশ, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মতো ছয়টি উদ্দেশ্য সামনে রেখে নির্বাচনের মাধ্যমে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গঠন করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিদ্যালয়ের পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, ক্রীড়া ও সংসৃ্কতি, বৃক্ষরোপণ, বাগান তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।’
যাদের নিয়ে এই আয়োজন, তাদের মধ্যেও আনন্দের কমতি ছিল না। সেটি বোঝা যায় নগরের নন্দনকানন এলাকার সরকারি ন্যাশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী পারিজাত সেনগুপ্ত ও আবদুল্লাহ আল বাকেরের কথায়। তারা বলে, ‘ভোট দিয়ে অনেক মজা পেয়েছি। খুব খুশি লাগছে।’