করোনা মহামারির পর থেকেই সারা বিশ্বে অনলাইন কোর্সের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন কোর্স করার সুযোগ বেড়েছে। এ ছাড়া কোর্সেরা-এডেক্সসহ নানা দেশি-বিদেশি প্ল্যাটফর্মে কোর্স করার সুযোগ মিলছে। অনলাইন কোর্স করার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন, পরামর্শ দিচ্ছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক আসিফ বিন আলী

প্রথমে নিজের পড়াশোনা: আপনি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী হন, তাহলে সবার আগে নিজের পড়াশোনা ও পরীক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। নিজের একাডেমিক জীবন যেন স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। ক্লাসের পড়াশোনা, পরীক্ষা-কুইজে আগে গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির গুরুত্ব বেশি। চাইলে ক্লাসের পড়াশোনায় কাজে আসে, এমন অনলাইন কোর্স করতে পারেন।
ড্রপ আউটদের জন্য সুযোগ: নানা কারণে অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন না। অনলাইন কোর্সগুলো তাদের দারুণ সব সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আপনি ইচ্ছা করলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কোর্সের সনদ নিতে পারেন। এ ছাড়া যাঁরা ক্যারিয়ারে উন্নতি বা ক্ষেত্র পরিবর্তনের সুযোগ খুঁজছেন, তাঁরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে পারেন।
কোর্স কেন করবেন: কোন কোর্স কেন করবেন, তা আগে বুঝতে হবে। হুজুগে বা সবাই যে কোর্স করছে প্রয়োজন না থাকলেও সে কোর্স বেছে নেওয়া ভুল হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে পড়ছেন, সেখানে কোনো বিষয় না বুঝলে তার জন্য অনলাইন কোর্স হতে পারে ভরসার জায়গা। বিবিএর শিক্ষার্থীরা হিসাববিজ্ঞান না বুঝলে কোর্সেরা থেকে ‘ইন্ট্রোডাকশন টু অ্যাকাউন্টিং’ কোর্স করে দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা করতে পারেন। আবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর যদি ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকে, যোগাযোগ দক্ষতার ওপর কোর্স করতে পারেন। অনেকের দেখা যায় গণিত বা পরিসংখ্যানে দুর্বলতা আছে। তাঁদের জন্য খান একাডেমিসহ নানা প্ল্যাটফর্মে একেবারে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গণিত, পরিসংখ্যান শেখার সুযোগ আছে। এখন যেহেতু প্রযুক্তিই সব, যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ নেই, তাঁরা কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং শেখার অনলাইন কোর্স করতে পারেন।
কোর্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন: অনলাইন কোর্সের পুরো গতি নিজের ওপর নির্ভর করে। এখানে তিন মাসের কোর্স চাইলে এক সপ্তাহে শেষ করতে পারেন, আবার ছয় মাসেও করতে পারেন। খুব ভালো হবে যদি নিয়ম করে সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি সময় অনলাইন কোর্সে সময় দেন। তাড়াহুড়া করে কোর্স শেষ করার চেয়ে সময় নিয়ে কোর্সের বিভিন্ন পাঠ্যক্রম ও অ্যাসাইনমেন্ট করে ধীরেসুস্থে কোর্স শেষ করুন।
কীভাবে কোর্স করবেন: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা চার বছরের স্নাতক শ্রেণিতে বছরে ছয়-আটটি কোর্স করি। অনলাইন কোর্সের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থী অনেক অনেক কোর্স করতে আগ্রহী হন। কোর্স শুরু করলেও শেষ করার আগ্রহ থাকে না। হুট করে একসঙ্গে অনেক কোর্সে যুক্ত হবেন না। মাসে এক বা দুটি অনলাইন কোর্স নিয়মিত করুন। যেসব কোর্স করবেন, তার যেন পর্বভিত্তিক অংশগ্রহণ থাকে। কোনো কোর্সের প্রাথমিক বা ইন্ট্রোডাকশন পর্যায় শেষ করার পরে স্পেলাইজেশন (বিশেষ) কোর্স করুন। সাধারণত ছয়-সাতটি কোর্স নিয়ে কোন বিষয়ে ‘স্পেশালাইজেশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়। ছয়-সাতটি কোর্সে ধারাবাহিকতা রাখুন।
কতগুলো কোর্স করবেন: কাজের প্রয়োজন বা শিক্ষার জন্য যা জানতে চান, তার ওপরে কোর্স করতে পারেন। কেউ ৩টি কোর্স যেমন করতে পারেন, আবার কেউ ১০-১২টি কোর্স করতে পারেন। নিজের আগ্রহ ও জানার স্পৃহাকে গুরুত্ব দিয়ে কোর্স করে নিজের দক্ষতা বিকাশ করুন। কোর্স সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে শেখার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
যেভাবে কোর্স বাছাই করবেন: বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঘাঁটলেই অসংখ্য কোর্সের দেখা মিলবে। কোর্স পছন্দের ক্ষেত্রে যার যার মতো করেই কোর্স পছন্দ করা ভালো। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে পারেন, আপনার ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার বা গবেষণার ক্ষেত্রে কোন কোর্সগুলো কাজে আসবে। মনে করুন, আপনি ভবিষ্যতে করপোরেট ক্ষেত্রে কাজ করবেন। তাহলে মাইক্রোসফট এক্সেল ব্যবহার বা ডেটা অ্যানালাইসিসের ওপর কোর্সেরা প্ল্যাটফর্মের ‘এক্সেল স্কিলস ফর বিজনেজ স্পেশালাইজেশন’ কোর্স করতে পারেন, যা হয়তো সরাসরি আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্সে নেই। আবার আপনি ভবিষ্যতে গবেষক হতে চাইলে স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাইটিং ইন দ্য সায়েন্সেস’ কোর্সটি করার মাধ্যমে লেখালেখির কৌশল শিখতে পারেন।
ব্যবহারিক কোর্স খুঁজুন: গুগল, মেটা বা অনেক আলোচিত প্রতিষ্ঠানের নানা কারিগরি বিষয়ের কোর্স অনলাইনে পাওয়া যায়। গুগলের ডেটা অ্যানালিটিকস, ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা কোর্স কোর্সেরা ও এডেক্সের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পেয়ে যাবেন।