
পোষা প্রাণী নিয়ে প্রাণিচিকিৎসকের কাছে যান অনেকেই। কেউ কেউ পথের প্রাণীও নিয়ে যান। এসব প্রাণীকে নিরাপদ রাখতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন। রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের বিশ্বাস ভেটেরিনারি কেয়ারের প্রাণিচিকিৎসক ডা. সুশ্যাম বিশ্বাস–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম
যাওয়ার আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবাদানের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে নিন।
প্রাণীর টিকার কার্ড এবং আগের চিকিৎসার অন্যান্য কাগজপত্র সঙ্গে নিন।
চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে প্রাণীটি আপনার কাছে ধরা দিতে নাও চাইতে পারে। প্রাণীটি উত্তেজিত হয়ে গেলে তাড়াহুড়া না করে তাকে শান্ত হতে সময় দিন।
চিকিৎসা–সংক্রান্ত খরচ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে রাখতে পারেন। চিকিৎসাকেন্দ্রের খরচ মেটানোর পদ্ধতি (পেমেন্ট অপশন) জানা থাকা ভালো।
যাতায়াতের পথে প্রাণীদের সাবধানে রাখুন। প্রাণীটি আপনার বহুদিনের চেনা হলেও সতর্ক থাকুন। কারণ, রাস্তার ভিড়ে বা শব্দে সে ভয় পেয়ে ব্যতিক্রমী আচরণ করতে পারে।
বিড়াল, খরগোশ বা ছোট আকারের অন্য প্রাণীর জন্য আরামদায়ক ঝুড়ি বা ক্যারিয়ারের ব্যবস্থা করা ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরিন ম্যাট বা কাপড় রাখুন তাতে। ঝুড়ির ঢাকনা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা উচিত, যাতে প্রাণীটি তা খুলে বের হতে না পারে।
বড় কুকুরের উপযোগী ক্যারিয়ার না থাকলে কলার পরিয়ে রাখুন, নিজের হাতে রাখুন কুকুরের নিয়ন্ত্রণ। যানবাহনের যেখানে কুকুরকে বসানো হবে, সেখানে পুরু ছালাজাতীয় জিনিস বিছিয়ে নিতে পারেন।
যানবাহনের চালককে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন, আপনার সঙ্গে প্রাণী আছে। যানবাহনের ভেতরে প্রাণীটিকে সাবধানে রাখুন।
মেট্রোরেলে প্রাণী নিয়ে ওঠা নিষেধ। অন্য কোনো গণপরিবহনে উঠলেও অন্য যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রাখুন।
প্রাণীটি যাতে পর্যাপ্ত বাতাস পায়, যানবাহনের তাপমাত্রা যাতে খুব বেশি বা খুব কম না হয়, এসব বিষয় খেয়াল রাখুন।
পানি, খাবার, বাড়তি কিছু কাপড় (যেমন প্রাণী প্রস্রাব করলে তা বদলে দেওয়ার জন্য) প্রভৃতি নিজের সঙ্গে রাখা ভালো।
খরগোশ সহজেই ভয় পেয়ে যায়। রিকশা, সিএনজি কিংবা বাসের পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে খরগোশ নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভালো।
কিছু রোগ সহজেই এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীতে ছড়িয়ে পড়ে। আপনার প্রাণীর মধ্যে সংক্রামক রোগের উপসর্গ থাকলে অন্য সব প্রাণীর থেকে একটু দূরে রাখতে চেষ্টা করুন। প্রাণীর ওয়েটিং স্পেস বা অপেক্ষার জায়গায় না নিয়ে আপনার প্রাণীটিকে বাইরের দিকে বা আলাদা জায়গায় রাখতে পারেন।
সবচেয়ে ভালো হয় যদি প্রাণীটিকে নিয়ে ঢোকার আগেই তার উপসর্গের বিষয়ে ক্লিনিকে কর্তব্যরত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলে দেবেন, প্রাণীটিকে আলাদা রাখার প্রয়োজন আছে কি না।
প্রাণিচিকিৎসকের কাছে আসা অন্য কোনো প্রাণীকেই স্পর্শ করবেন না। সুস্থ কিংবা অসুস্থ যা-ই হোক না কেন।
অন্য কোনো প্রাণী বা মানুষকেও আপনার প্রাণীটিকে স্পর্শ করতে দেবেন না। কেবল চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের স্পর্শ করতে দেবেন।
ঝুড়ি বা ক্যারিয়ারে থাকা প্রাণীকে চিকিৎসা–সংক্রান্ত কাজ ছাড়া অন্য কোথাও (যেমন অপেক্ষার স্থানে বা সিঁড়িতে) বের করবেন না। অপেক্ষার স্থানে বড় কুকুরের বসার জন্য বড় ক্যারিয়ার না থাকলে একটি ম্যাট সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।
সঙ্গে স্যানিটাইজারের ছোট বোতল রাখতে পারেন। ক্লিনিকের দরজা, টেবিল প্রভৃতি স্পর্শ করার পর স্যানিটাইজারের সাহায্যে নিজের হাত পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এরপর হাত পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে আপনার প্রাণীকে স্পর্শ করুন।
প্রাণীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত ঝুড়ি বা ক্যারিয়ার, সঙ্গে নেওয়া ব্যাগ, কাপড় এবং নিজের পোশাক সবই বাসায় ফেরার পর পরিষ্কার করে ফেলা ভালো।
চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে নিজের কাজ বা অন্য দায়িত্বের অজুহাতে তাড়াহুড়ো করবেন না। অন্য যেসব মানুষ কোনো প্রাণী নিয়ে এসেছেন, তাঁরাও হয়তো আপনার মতোই কোনো কাজ ফেলে এসেছেন।
চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে থেকে তাঁকে তাড়া দেবেন না। প্রাণীরা নিজের রোগের ইতিহাস বলতে পারে না। রোগ নির্ণয় করতে প্রাণিচিকিৎসকের সময় লাগতেই পারে।
রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে কিংবা ইনজেকশন দেওয়া বা কৃমির ওষুধ খাওয়ানো—প্রাণীর ক্ষেত্রে যেকোনো কাজেই অনেকটা সময় লাগতে পারে। তাই নিজের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় চলে এলেও ভেতরে থাকা রোগীর কাজ শেষ করার জন্য সময় দিন।
চিকিৎসাকেন্দ্রে কোনো বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে সেখানে গোলমাল করা যাবে না। চিৎকার-চেঁচামেচি হলে আপনার এবং অন্যদের প্রাণী ভয় পেতে পারে। প্রয়োজনে সমস্যাটির কথা কর্তৃপক্ষকে জানান, অবশ্যই শান্তভাবে।
চিকিৎসাকেন্দ্রে কুকুর থাকলে অবশ্যই খরগোশকে সেটির থেকে আলাদা রাখুন, যাতে অপেক্ষা করার সময় বা অন্য কোনো সময় খরগোশ আতঙ্কিত হয়ে না পড়ে।