আপনার শিশুকে ‘না’ বলতে শেখান
আপনার শিশুকে ‘না’ বলতে শেখান

আপনার শিশুকে যে ২১টি শিক্ষা দেবেন

সময়ের সঙ্গে ‘প্যারেন্টিং’ বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অত্যন্ত জরুরি এই ‘ডিসিপ্লিন’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সরব। অভিভাবক হিসেবে আপনার শিশুকে এই ২১টি শিক্ষা দিন। তাঁরা বড় হয়ে এ কারণে আপনার প্রতি অবশ্যই কৃতজ্ঞ থাকবে, ধন্যবাদ জানাবে। কেননা জীবনে কৃতজ্ঞ হওয়া, দৈনন্দিন জীবনে কৃতজ্ঞতার চর্চা করাও এই শিক্ষার অংশ।

১. আপনার সন্তান যেন সব সময় কথা দিয়ে কথা রাখে।

২. আপনার সন্তানকে সম্মান করতে শেখান। মা-বাবা, ভাই-বোনকে, এমনকি নিজেকে। সম্মানের শিক্ষা মানুষ প্রথম বাড়ি থেকেই পায়।

৩. শিশুকে শেখান, জীবনে মেধার চেয়ে শৃঙ্খলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৪. স্বাস্থ্যই সম্পদ। কোনো কিছুই নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

৫. আপনার শিশুকে ‘না’ বলতে শেখান। সে যত দ্রুত কোনো অপরাধবোধ ছাড়া দ্বিধাহীনভাবে ‘না’ বলতে শিখবে, তাকে ‘ম্যানিপুলেট’ করা ততই কঠিন হবে।

৬. যে বেশি আওয়াজ করে, জোরে কথা বলে বা চিৎকার করে, সে ঘরের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি নয়। শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের চিৎকার করে নিজের শক্তির পরিচয় জানান দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা, নীরবে নিজের কাজের ভেতর দিয়ে জবাব দেওয়াই শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের লক্ষণ।

৭. টাকার চেয়ে সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সন্তানকে তাই বর্তমানে বাঁচতে শেখান। বর্তমানকে উপভোগ করতে শেখান।

৮. আপনার সন্তানকে ‘সরি’ বলতে শেখান। যে মুহূর্তে সে বুঝতে পারবে সে ভুল করেছে, সে যেন সবার আগে দুঃখপ্রকাশ করে। দুঃখপ্রকাশ করাতে কোনো লজ্জা বা সংকোচ নেই। বরং তা শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের লক্ষণ।

৯. আপনার শিশুকে শেখান, রাগ তাকে নিয়ন্ত্রণ করার আগেই সে যেন রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তবে রাগ চেপে রাখা যে ক্ষতিকর, সেটাও বলুন। তাই তাকে রাগ ঝেড়ে ফেলার সবচেয়ে ভালো উপায়গুলো শেখান। তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিন, রাগ ও আগ্রাসন বা সহিংসতার পার্থক্য।

১০. আপনার শিশুকে শেখান, কারও সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। সে যেন নিজের সঙ্গে কখনো কারও তুলনা না করে।

আপনার সন্তানকে শেখান, দিনের ছোট ছোট অভ্যাস নির্ধারণ করে জীবনটা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়

১১. তাকে বলুন, পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে পরিশ্রম না করলে নিশ্চিতভাবে ব্যর্থতা আসবেই।

১২. জীবন ‘ন্যায্য’ নয়। তবে সে যতই চেষ্টা করবে, ততই সুযোগ বাড়বে।

১৩. আপনার সন্তানকে বই, পোষা প্রাণী, প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে শেখান। তাহলে সে জীবনে কখনোই একা হবে না।

১৪. ব্যর্থতা একটা ‘ডেটা’। সেখান থেকে শিখুক। উঠে দাঁড়াক। নতুন করে শুরু করুক। কেননা ব্যর্থতা থেকেই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়।

১৫. জীবনে পুঁথিগত শিক্ষার চেয়ে দক্ষতা শেখা জরুরি।

১৬. আপনার সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই ‘মানি ম্যানেজমেন্ট’ শেখান। টাকা জমানো শেখান। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য শেখান।

১৭. সন্তানকে কৃতজ্ঞ হতে শেখান। প্রতিদিন কৃতজ্ঞতার চর্চা করতে শেখান।

১৮. আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে শেখান।

১৯. আপনার সন্তানকে শেখান, দিনের ছোট ছোট অভ্যাস নির্ধারণ করে জীবনটা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়।

২০. আপনার সন্তানকে ক্ষমা করাতে শেখান। সঙ্গে এটাও বলুন যে সে যেন ভুলে না যায়।

২১. আপনার সন্তানকে শেখান, সুখে থাকা সহজ, কঠিন কিছু নয়। সুখে থাকা, ইতিবাচক থাকা একটা দৈনন্দিন চর্চা। তাকে প্রতিদিন কৃতজ্ঞ হতে, সুখী হতে, তৃপ্ত হতে শেখান।

সূত্র: ভেরি ওয়েল মাইন্ড