মেট্রোরেলে পোশাকের জন্য ভোগান্তির পর মনে প্রশ্ন—রানারের পোশাক এত ছোট কেন

ঢাকার মেট্রোরেলে একজন ট্রায়াথলেটকে তাঁর হাফপ্যান্টের কারণে আটকে দেওয়ার ঘটনাটা বেশ আলোচিত। শুধু ঘটনাস্থলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনকি আমার পরিচিত অনেকের মধ্যেও প্রশ্ন দেখলাম—একজন পুরুষকে এত ছোট হাফপ্যান্ট পরে বাইরে বের হতে হবে কেন? প্রশ্নটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়; বরং এর উত্তর জানা দরকার। কারণ, উত্তরটা জানলে হয়তো বোঝা যাবে, সমস্যাটা হাফপ্যান্টের দৈর্ঘ্যের চেয়ে আমাদের খেলাধুলা, শরীর ও নগরজীবন সম্পর্কে ধারণার মধ্যে বেশি।

দৌড়ানোর হাফপ্যান্ট সাধারণ হাফপ্যান্ট থেকে একটু ছোট করে বানানো পোশাকের কোনো ফ্যাশন নয়। এটি দৌড়ানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি পোশাক
প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ট্রায়াথলেট সাজ্জাদ হোসেন স্নিগ্ধ সকালে রমনা পার্কে অনুশীলন করেছিলেন। এরপর ফার্মগেটে কিছু কাজ শেষ করে আরেকটা অনুশীলন পর্বের জন্য জিয়া উদ্যানে যাওয়ার উদ্দেশে মেট্রোরেলে উঠতে গেলে একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে থামান।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্নিগ্ধর পোশাককে ‘অশালীন’ বলা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি পেয়ে তিনি মেট্রোরেলে উঠতে পারেন। পরে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের নিরাপত্তা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘ঘটনাটি নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিব্রত’ বলে জানান।

কিন্তু এ ঘটনার বাইরে আমার আগ্রহ অন্য জায়গায়।

রানারের হাফপ্যান্ট এত ছোট হয় কেন

প্রথমে খুব সাধারণ একটি বিষয় বোঝা দরকার। দৌড়ানোর হাফপ্যান্ট সাধারণ হাফপ্যান্ট থেকে একটু ছোট করে বানানো পোশাকের কোনো ফ্যাশন নয়। এটি দৌড়ানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি পোশাক।

আপনি পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে গেলে যে পোশাকে কোনো সমস্যা হবে না, সেই একই পোশাকে ২০ বা ৩০ কিলোমিটার দৌড়ালে সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘ সময় দৌড়ানোর সময় একজন রানারের পা হাজার হাজারবার সামনে-পেছনে যায়। কাপড় ও ত্বকের ক্রমাগত ঘর্ষণ থেকে ‘চ্যাফিং’ হতে পারে। সহজ বাংলায়, একই জায়গায় বারবার ঘষা লেগে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বালা করা, এমনকি ক্ষত তৈরি হয়।

তার সঙ্গে আছে শরীরের তাপনিয়ন্ত্রণের ব্যাপার।

দৌড়ানোর সময় পেশির কাজ থেকে প্রচুর তাপ তৈরি হয়। শরীর সেই অতিরিক্ত তাপের একটা বড় অংশ ঘাম ও ঘামের বাষ্পীভবনের মাধ্যমে বের করে দেয়।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের তাপ ও দৌড়বিষয়ক নির্দেশিকাতেও ব্যায়ামের সময় ঘামের বাষ্পীভবনকে শরীর থেকে তাপ বের করার প্রধান পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

গরমের সঙ্গে আর্দ্রতা বেশি হলে কাজটা আরও কঠিন হয়; কারণ, বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হতে পারে না।

ঢাকার গরম ও আর্দ্রতায় বিষয়টা মোটেও তুচ্ছ নয়। এ কারণেই দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ের পোশাক সাধারণত হালকা, দ্রুত শুকায়, কম পানি ধরে এবং পায়ের স্বাভাবিক চলাচলে যতটা সম্ভব কম বাধা দেয়।

হাফপ্যান্ট ছোট হওয়ার পেছনে তাই খুব সাধারণ একটা নকশাগত যুক্তি আছে—যতটুকু কাপড় প্রয়োজন, ততটুকুই রাখা। এটা অশালীন হওয়ার চেষ্টা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এটা পোশাকটার কাজের অংশ।

দ্বিতীয় প্রশ্ন

দৌড়াতে গিয়ে নিজের ব্যাগটি রাখার মতো নিরাপদ জায়গা ঢাকার কোথাও আছে কি?

এবার খুব স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় প্রশ্নটা আসে। দৌড়ানোর সময় ছোট হাফপ্যান্ট পরলেন, ঠিক আছে; কিন্তু দৌড় শেষ হলে একটা লম্বা প্যান্ট পরে নিলেই তো হয়। সঙ্গে একটা ব্যাগ রাখলেই হলো। কথাটা শুনতে এত সহজ যে মনে হয়—সমস্যার সমাধান হয়েই গেল।

কিন্তু ঢাকায় নিয়মিত দৌড়ান এমন কাউকে প্রথম প্রশ্নটা করুন, ব্যাগটা রাখবেন কোথায়?

রমনা পার্কে দৌড়াতে গেলেন। সঙ্গে স্বাভাবিক কাপড়, তোয়ালে, পানির বোতল, মানিব্যাগ, ফোন ও চাবি। এগুলো নিরাপদে রেখে এক ঘণ্টা দৌড়ে আসার ব্যবস্থা কোথায়?

রমনা পার্কে কোথায় নিরাপদ লকার আছে? সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কোথায়? সংসদ ভবনের আশপাশে কোথায়? হাতিরঝিলে কোথায়? আমাদের জনপ্রিয় দৌড়ানোর জায়গাগুলোয় একজন রানারের জন্য কাপড় বদলানোর জায়গা, ব্যাগ রাখার নিরাপদ ব্যবস্থা কিংবা গোসলের সুবিধা কতটা আছে?

আমার অভিজ্ঞতা

একসময় আমি রমনা পার্কে দৌড়াতে যেতাম। কাঁটাবনে আমার এক বন্ধুর বইয়ের দোকান ছিল। আমি প্রথমে সেই দোকানে যেতাম। সেখানে ব্যাগ আর কাপড়চোপড় রেখে হাফপ্যান্ট পরে হেঁটে রমনা পার্কে যেতাম। দৌড় শেষ করে আবার হেঁটে কাটাবনে ফিরে আসতাম। সেখানে কাপড় বদলে তারপর বাড়ি ফিরতাম।

আমার জন্য এটা সম্ভব ছিল। কারণ, আমি কোনো ট্রেইল রানার ছিলাম না, দীর্ঘ দূরত্বের রানারও ছিলাম না। প্রশিক্ষক তো নয়ই। একেবারেই শখের রানার। দু-এক কিলোমিটার দৌড়িয়েই মনে হতো বিরাট কিছু করে ফেলেছি।

এবার একজন পেশাদার দৌড় প্রশিক্ষকের দিনটা চিন্তা করুন। সকালে রমনায় একজনকে প্রশিক্ষণ করালেন। এরপর তাঁকে যেতে হবে ফার্মগেট। সেখান থেকে হয়তো সংসদ ভবনের পাশে আরেকজনকে প্রশিক্ষণ দেবেন। বিকেলে আবার হাতিরঝিল বা অন্য কোথাও আরেকটা পর্ব। ঢাকার যানজট এড়াতে তিনি মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। সারা দিন তাঁকে শহরের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হচ্ছে।

তাঁকে আমরা খুব সহজে বলে দিচ্ছি—একটা প্যান্ট সঙ্গে রাখলেই তো হয়।

ঠিক আছে। প্যান্টটা রাখবেন কোথায়? তার সঙ্গে যে ব্যাগ থাকবে, অনুশীলনের সময় সেটা কে পাহারা দেবে? প্রতিটা জায়গায় কি লকার আছে? কাপড় বদলানোর জায়গা আছে? নাকি প্রতিবার আমার মতো একজন বইয়ের দোকানদার বন্ধু খুঁজে বের করতে হবে?

আরও কিছু প্রশ্ন

এখানেই পুরো আলোচনার একটা অদ্ভুত দিক আছে। আমরা একজন খেলোয়াড়ের কাছে আমাদের নগরব্যবস্থার ঘাটতির সমাধান চাইছি; কিন্তু নগরব্যবস্থার কাছে কোনো প্রশ্ন করছি না।

আমরা চাই, রানার শহরের সঙ্গে মানিয়ে নিক; কিন্তু শহরটা একজন রানারের সঙ্গে কতটুকু মানিয়ে নিয়েছে, সেই প্রশ্ন করি না।

আরেকটা মন্তব্যও দেখলাম, সেটা আরও কৌতূহলোদ্দীপক—লোকটা এত শুকনা কেন?

কেউ কেউ রোগা শরীর দেখেই মাদকাসক্তির আশঙ্কা পর্যন্ত আবিষ্কার করে ফেলছেন। এখানেও একটু বিজ্ঞান জানা দরকার।

একজন ভারোত্তোলক, একজন ১০০ মিটার দৌড়বিদ এবং একজন ম্যারাথন দৌড়বিদের শরীর একরকম হওয়ার কথা নয়। কারণ, তাঁদের শরীরকে একেবারেই ভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়।

একজন ম্যারাথন দৌড়বিদকে দেখে ‘এত শুকনা কেন?’ বলা অনেকটা একজন ভারোত্তোলককে দেখে ‘হাত এত মোটা কেন?’ বলার মতো

১০০ মিটারের দৌড়বিদের প্রয়োজন খুব অল্প সময়ে বিপুল শক্তি উৎপাদন করা। অন্যদিকে দীর্ঘ দূরত্বের রানারের প্রয়োজন সেই কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া। সেখানে শরীরের অ্যারোবিক সক্ষমতা, অর্থাৎ অক্সিজেন ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে বহুল ব্যবহৃত একটি পরিমাপ হলো ভিওটু ম্যাক্স। সহজ করে বললে, অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের সময় একজন মানুষের শরীর সর্বোচ্চ কতটা অক্সিজেন গ্রহণ করে কাজে লাগাতে পারে, তার একটি পরিমাপ এটি।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের সাম্প্রতিক একটি ব্যাখ্যায় ব্যায়াম শারীরতত্ত্ববিদ অধ্যাপক অ্যান্ডি জোনস বলেছেন, দৌড়ের দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিযোগিতা যত বেশি অ্যারোবিকনির্ভর হয়, সাধারণত তুলনামূলক হালকা শারীরিক গঠন, কম পেশিভর এবং বেশি ভিওটু ম্যাক্স সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।

এটার পেছনেও যুক্তিটা খুব কঠিন নয়। একজন দীর্ঘ দূরত্বের রানারকে প্রতিটা পদক্ষেপে নিজের শরীরের ওজন সামনে নিয়ে যেতে হয়। ৫ বার বা ১০ বার নয়, হাজার হাজার বার। যে ওজন তাঁর কাজে লাগবে না, সেটিও তাঁকে পুরো পথ বহন করতে হবে।

তাই একজন ম্যারাথন দৌড়বিদকে দেখে ‘এত শুকনা কেন?’ বলা অনেকটা একজন ভারোত্তোলককে দেখে ‘হাত এত মোটা কেন?’ বলার মতো। দুজনের শরীরই তাঁদের কাজের চাহিদার সঙ্গে অভিযোজিত।

অবশ্যই সব দীর্ঘ দূরত্বের রানার রোগা নন; আবার রোগা হলেই কেউ ভালো রানার, এমনও নয়। শরীরের গঠন নির্ভর করে বংশগত বৈশিষ্ট্য, প্রশিক্ষণ, খাদ্যাভ্যাস, বয়সসহ অনেক বিষয়ের ওপর; কিন্তু কাউকে শুধু চিকন দেখে মাদকাসক্ত বলে সন্দেহ করা কোনো স্বাস্থ্যবিজ্ঞান নয়। সেটি আমাদের শরীর সম্পর্কে তৈরি কিছু সামাজিক ধারণার প্রকাশ; এবং এখানেই আমার কাছে হাফপ্যান্টের ঘটনাটা আরও বড় হয়ে ওঠে।

সমস্যাটা কোথায়

খেলাধুলার পোশাক যদি প্রতিবার সামাজিক রুচির পরীক্ষায় পাস করিয়ে তারপর জনপরিসরে প্রবেশ করতে হয়, তাহলে সমস্যাটা শুধু খেলোয়াড়ের পোশাকে নেই

সমস্যাটা আমাদের চোখের ‘প্রশিক্ষণে’। আমরা যে শরীর দেখতে অভ্যস্ত নই, তাকে অস্বাভাবিক ভাবি। যে পোশাকের কাজ জানি না, তাকে অশালীন ভাবি। যে জীবনযাপন আমাদের পরিচিত নয়, তার ওপর নিজেদের পরিচিত নিয়ম চাপিয়ে দিতে চাই।

এখানে আরেকটা পার্থক্য খুব গুরুত্বপূর্ণ—কোনো পোশাক আমার ব্যক্তিগতভাবে ভালো না লাগতেই পারে। আমি নিজে সেটা পরব না, এটাও স্বাভাবিক। আমার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধে সেটাকে অনুচিতও মনে হতে পারে।

কিন্তু ‘আমার ভালো লাগে না’ আর ‘তোমাকে গণপরিবহনে উঠতে দেওয়া হবে না’ এক কথা নয়। দ্বিতীয়টার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা যুক্ত হয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী—সাজ্জাদও জানতে চেয়েছিলেন, কোথায় লেখা আছে যে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠা যাবে না এবং কোন মাপকাঠিতে তাঁর পোশাককে অশালীন বলা হলো। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি এলে তিনি মেট্রোরেলে উঠতে পারেন।

এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর থাকা দরকার। কারণ, আজ একজন পুরুষ রানারের হাফপ্যান্ট আমাদের কাছে বেশি ছোট মনে হচ্ছে। কাল একজন নারী খেলোয়াড়ের পোশাক বেশি আঁটসাঁট মনে হতে পারে। পরশু একজন সাইক্লিস্টের পোশাক নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে। সাঁতারুর পোশাক নিয়ে তো আরও সহজেই বিতর্ক তৈরি করা সম্ভব।

শেষ কথা

খেলাধুলার পোশাক যদি প্রতিবার সামাজিক রুচির পরীক্ষায় পাস করিয়ে তারপর জনপরিসরে প্রবেশ করতে হয়, তাহলে সমস্যাটা শুধু খেলোয়াড়ের পোশাকে নেই। সমস্যাটা আমরা জনপরিসর বলতে কী বুঝি, সেখানেও।

ঢাকাকে যদি আমরা সত্যিই হাঁটা, দৌড়, সাইকেল চালানো এবং সক্রিয় জীবনযাপনের উপযোগী শহর হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে শুধু পার্ক বানানো যথেষ্ট নয়; মানুষ সেখানে গিয়ে কীভাবে খেলাধুলা করবে, কোথায় ব্যাগ রাখবে, কোথায় কাপড় বদলাবে, কোথায় পানি পাবে এবং অনুশীলন শেষে কীভাবে গণপরিবহনে বাড়ি ফিরবে, এগুলোও নগর–পরিকল্পনার প্রশ্ন।

একটা শহর শুধু উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল আর দ্রুতগতির সড়ক দিয়ে আধুনিক হয় না। সেই শহরে কত ধরনের মানুষ কত ধরনের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেটাও আধুনিকতার মাপকাঠি।

তাই একজন রানারের হাফপ্যান্ট ঠিক কত ইঞ্চি লম্বা হওয়া উচিত, সেই বিতর্কে যাওয়ার আগে হয়তো আরও সহজ একটা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার।

এই শহরে একজন রানার তাঁর ব্যাগটা নিরাপদে রাখবেন কোথায়? এর উত্তর আমরা এখনো দিইনি। সম্ভবত দেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করিনি; কিন্তু তাঁর হাফপ্যান্টের দৈর্ঘ্য নিয়ে মতামত দিতে আমাদের একমুহূর্তও লাগে না।

মুনতাসির মামুন: পর্বতারোহী ও অভিযাত্রী