কিছু আবেগ ও অভ্যাস আপনার ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করে। আবার কিছু আবেগ ও অভ্যাস আমাদের অজান্তেই আত্মবিশ্বাস কেড়ে নেয়, সম্পর্ক নষ্ট করে এবং জীবনের গতি থামিয়ে দেয়। আমরা অনেক সময় এসবকে স্বাভাবিক বলেও ধরে নিই। অথচ সঠিক সময়ে কিছু আবেগ, অনভূতি ও অভ্যাস ঝেরে না ফেললে আমাদের অনেক সম্ভাবনা আটকে যায়, আমাদের বিকাশ হয় না। এরকম এক ডজন আবেগ, অনুভূতি ও অভ্যাস চিনে নিন।
‘কমফোর্ট’ বা আরাম আপনার অগ্রগতির ‘সাইলেন্ট কিলার’। প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করান।
কোনো কিছু শুরু করার আগেই মনের কোণে উঁকি দেয়—‘আমি যদি না পারি? যদি ব্যর্থ হই?’ কাজটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর আপনি জানেন না। তবে দ্বিধা আপনাকে কাজটা শুরুই করতে দেবে না। আপনি যেকোনো কিছু সর্বোচ্চ ইতিবাচকতা নিয়ে শুরু করুন। যা হওয়ার, তা তো হবেই!
ভয়ের অনুভূতি আমাদের সুরক্ষা দেয় বটে। কিন্তু অকারণ ভয় সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি করে ও সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ করে দেয়।
অন্যের সাফল্যে ঈর্ষার অনুভূতি অনেকেরই হয়। তবে এর আরেক মানে হলো নিজেকে নিয়ে ‘ইনসিকিউর’ থাকা। সফলদের ঈর্ষা নয়, তাদের থেকে শিখুন।
এর চেয়ে নেতিবাচক অনুভূতি খুব কমই হয়। অন্যের খুশিতে দুঃখ পাওয়া এবং অন্যের দুঃখ ও ব্যর্থতায় খুশি হওয়ার মানে আপনার ইতিবাচক শক্তি ধ্বংস হচ্ছে। এই অনুভূতি আপনার উন্নতির পথে বড় বাঁধা।
ভুল থেকে শেখা দরকার। কিন্তু ছোটখাটো ভুলে প্রতিনিয়ত ‘মাইক্রো অ্যানালাইসিস’ করতে থাকা, নিজেকে সারাক্ষণ দোষারোপ করা নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করে।
আপনি নিজেই যদি নিজের মূল্যায়ন না করেন, কীভাবে আশা করেন অন্য কেউ তা করবে?
পুষে রাখা রাগ সম্পর্ক নষ্ট করে। নিজের ভেতরের শান্তি ধ্বংস করে। তাই রাগ হলে প্রকাশ করুন, তবে তা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়। রাগ মানেই সব ভেঙেচুরে, মেরেধরে বা অন্যকে অত্যাচার করে কিছু প্রকাশ করা নয়।
সবাইকে খুশি করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই হারিয়ে ফেলতে হয়। সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না, এটাই স্বাভাবিক। সবাই যদি আপনাকে পছন্দ করে, এর মানে আপনার ভেতর ‘বড় কোনো ঘাপলা’ আছে।
এই অনুভূতি আপনার উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা। সর্বোচ্চ সফলতা আর সর্বোচ্চ ব্যর্থতা একইভাবে সামলাতে পারেন যাঁরা, তাঁরাই শেষ পর্যন্ত লম্বা দৌড়ে টিকে থাকেন।
তুলনা আপনাকে অবাস্তব এক প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেয়। আত্মসম্মান নষ্ট করে। পৃথিবীতে কারও সঙ্গে কারও তুলনা হয় না। আপনার তুলনা কেবল নিজের সঙ্গেই।
সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাওয়াই মানসিক চাপের বড় কারণ। ‘লেট ইট গো’।