শীতে সুস্থ ত্বক মানেই সুন্দর ত্বক—কেন এমনটা বলা হয়

শীতে ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখা সবচেয়ে জরুরি। কারণ, ত্বক সুস্থ থাকলেই তার সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবে ফুটে ওঠে
শীতে সুস্থ ত্বক মানেই সুন্দর ত্বক—কেন এমনটা বলা হয়

শীত এলেই যেন হারিয়ে যায় ত্বকের প্রাণ। তাই ত্বকের প্রাণ ফেরাতে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকে না। তবু যেন ফিরতে চায় না ত্বকের সেই স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও কোমলতা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় তাকালেই চোখে পড়ে রুক্ষ, শুষ্ক আর নিস্তেজ এক চেহারা। হাত-পা হয়ে ওঠে খসখসে, ত্বকে দেখা দেয় টানটান ভাব বা কখনো চুলকানি। বাইরে বের হলে ঠান্ডা বাতাস সেই শুষ্কতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

এই সময়ে শুধু মেকআপ বা সাময়িক সমাধানে ভরসা রাখলে সমস্যার সঠিক সমাধান মিলবে না। এতে ত্বকের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে একটি বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে। তাই এই সময়ে ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখা সবচেয়ে জরুরি। কারণ, ত্বক সুস্থ থাকলেই তার সৌন্দর্য স্বাভাবিকভাবে ফুটে ওঠে।

শীতকালে মূলত বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে, ফলে ত্বকের ওপরের স্তর থেকে দ্রুত পানি বাষ্পীভূত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় গরম পানিতে গোসল, ঘন ঘন সাবান ব্যবহার ও শীতের সময় কম পানি পান করার অভ্যাস।

এসব কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক অয়েল লেয়ার নষ্ট হয়ে যায়, দুর্বল হয়ে পড়ে স্কিন ব্যারিয়ার। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, রুক্ষ ও সংবেদনশীল। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং বয়সের ছাপও দ্রুত চোখে পড়ে।

সুস্থ ত্বকের জন্য প্রয়োজন সঠিক রুটিন

শীতে ত্বকের যত্ন মানে শুধু ময়েশ্চারাইজার লাগানো নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চলা। প্রথমেই প্রয়োজন মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার রাখা, যাতে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট না হয়।

গোসলের পরপরই ভালো মানের লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ত্বকের ভেতর থেকে সুস্থতা নিশ্চিত করে। ফলমূল, শাকসবজি, বাদাম ও পর্যাপ্ত প্রোটিন ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে এবং ত্বকে আনে প্রাণবন্ত ভাব।

এ ছাড়া শীতে ত্বককে সুস্থ রাখতে ব্যবহার করতে পারেন ১০ শতাংশ অ্যাকটিভ নিয়াসিনামাইড। কারণ, নিয়াসিনামাইড ত্বকের স্কিন ব্যারিয়ার শক্তিশালী করে, অসম টোন ও দাগ–ছোপ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।

এর সমাধানে বেছে নিতে পারেন ভ্যাসলিন হেলদি ব্রাইট লোশন। এতে রয়েছে ১০ শতাংশ অ্যাকটিভ নিয়াসিনামাইড। পাশাপাশি এতে উপস্থিত হিলিং জেলি ত্বকের আর্দ্রতাকে ‘লক’ করে রাখে, ফলে শুষ্কতা কমে এবং ত্বক দীর্ঘ সময় থাকে নরম ও মসৃণ। এই দুটি উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি লোশন শীতের রুক্ষ পরিবেশেও ত্বকের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

নিয়মিত এই দুই উপাদানসমৃদ্ধ লোশন ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা হ্রাস পায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা বৃদ্ধি পায়। সকালে গোসলের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে সারা দিন ও রাতজুড়ে ত্বক থাকে হাইড্রেটেড। ধীরে ধীরে ত্বকের রুক্ষতা কমে, ফিরে আসে স্বাভাবিক মসৃণতা ও কোমলতা।

ত্বকের শুষ্কতা হ্রাস করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করতে পারেন ভ্যাসলিন হেলদি ব্রাইট লোশন

আসলে শীতে সুন্দর ত্বক পেতে কোনো ম্যাজিক নেই। প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, সঠিক অভ্যাস ও কার্যকর স্কিনকেয়ার পণ্যের ব্যবহার। ত্বকের সুস্থতাকে গুরুত্ব দিলে শীতের রুক্ষতাও হার মানতে বাধ্য। কারণ, দিনশেষে এটাই সত্যি—শীতে সুস্থ ত্বক মানেই সুন্দর ত্বক।