
কেউ গোসল করেন সকালে, কেউবা সারা দিনের কাজের শেষে বাসায় ফিরে গোসল করেন। কারও জন্য আবার দুপুরের সময়টায় গোসল করা সুবিধাজনক। তবে কেউ কেউ মনে করেন, সকালে চুল ধোয়া ঠিক না। আবার রাতে ভেজা চুল নিয়ে অস্বস্তিতেও পড়েন কেউ কেউ। চুল কখন ভেজানো হচ্ছে, কত সময় ধরে ধোয়া হচ্ছে—এসব বিষয় কি আদতে চুলের সুস্থতার জন্য জরুরি? এ প্রসঙ্গে বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচির সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
সারা রাতে মাথার ত্বকে যে স্বাভাবিক তেলের নিঃসরণ হয়েছে, সকালে চুল ধোয়া হলে সেই তেল ধুয়ে যায়। তাতে কোনো ক্ষতি নেই। সকালে মাথার ত্বক পরিষ্কার করে নিলে সারা দিন আপনি সতেজ থাকবেন। চুলে চিটচিটে ভাব হবে না। তবে ভেজা চুলে রোদে যাবেন না। তাতে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বের হওয়ার আগে অবশ্যই চুল শুকিয়ে নিন।
সারা দিনে চুলে বা মাথার ত্বকে যে ধুলা জমা হয়, রাতে চুল ধোয়া হলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়। মাথার ত্বক ঘামলে সেটাও পরিষ্কার হয়ে যায়। কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে রাতের ঘুমটাও ভালো হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা চুল নিয়ে শুয়ে পড়লে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে গোসল করুন।
দুপুর বা বিকেলেও গোসল করলে ক্ষতি নেই। কেউ ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরেন দুপুরে। কারও অফিস শেষ হয় বিকেলে। ঘরে ফিরে গোসল করা ভালো অভ্যাস। কেউ কেউ একাধিকবার গোসল করেন। তাতেও কোনো সমস্যা নেই। গরমের সময় স্বস্তির জন্য আপনি তা করতেই পারেন। তবে পানির অপচয় করবেন না। পানির অপচয় এড়াতে এক বালতি পানিতে গোসল করতে পারেন। বাথটাব কিংবা শাওয়ারে পানি খরচ হয়ে যায় বেশি।
মাথার ত্বক ও চুলের সুস্থতার জন্য নিয়মমাফিক শ্যাম্পুও করতে হবে। তবে সাধারণত রোজ শ্যাম্পু করার প্রয়োজন পড়ে না। রোজ শ্যাম্পু করা হলে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তৈলাক্ততা হারিয়ে যেতে পারে। চুল হয়ে পড়তে পারে রুক্ষ ও শুষ্ক। এক দিনে একাধিকবার শ্যাম্পু না করাই ভালো। সব মিলিয়ে সপ্তাহে দু-তিন দিন শ্যাম্পু করাটাকেই আদর্শ ধরে নেওয়া যায়।
চুল ধুতে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানি ব্যবহার করবেন না।
চুল ধোয়ার পর নরম তোয়ালের সাহায্যে আলতো করে মুছে নিন। গরমের সময় ফ্যানের বাতাসে চুল শুকিয়ে নিতে পারেন।
হেয়ার ড্রায়ারজাতীয় অনুষঙ্গ ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষত এর গরম বা উষ্ণ বাতাস এড়িয়ে চলা উচিত।
ভেজা চুলে চিরুনি ব্যবহার না করাই ভালো। যে ধরনের স্টাইলের জন্য চুলে তাপ প্রয়োজন পড়ে, সেগুলো করার আগে চুল শুকিয়ে নিন খুব ভালোভাবে। ভেজা চুলে তাপ প্রয়োগ করবেন না।
খুব বেশি সময় ধরে চুল ধোয়া ঠিক নয়, তাতে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু বেছে নেওয়া উচিত। রোজকার ব্যবহারের জন্য মৃদু ধরনের শ্যাম্পু ভালো। যাঁদের মাথার ত্বক সংবেদনশীল কিংবা চুল শুষ্ক, কোঁকড়া বা রং করানো, তাঁদের জন্য সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু ভালো।
শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত।
লিভ ইন কন্ডিশনার বা সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। চুল সুন্দর থাকবে।
সপ্তাহে অন্তত একদিন উষ্ণ তেল মালিশ করুন গোসলের মিনিট দশেক আগে। কিংবা করিয়ে নিন হেয়ার স্পা।