
শীতকালে অনেকের ত্বকে একধরনের ক্লান্ত আর নিষ্প্রাণ ভাব চলে আসে। নরম রোদ আর শীতল বাতাস যতই মন ভালো করুক না কেন, ত্বকের ক্ষেত্রে এ সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক দ্রুত স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারায়, ফলে উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ।
আয়নায় তাকালে মনে হয়, যেন ত্বক তার স্বাভাবিক প্রাণশক্তিই হারিয়ে ফেলেছে। অনেকের ক্ষেত্রে মেকআপ করেও কাঙ্ক্ষিত গ্লো পাওয়া যায় না, বরং ত্বক আরও নিষ্প্রাণ ও প্যাচি দেখায়।
ঠান্ডা বাতাস, গরম পানি দিয়ে গোসল, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং অনিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন—সব মিলিয়ে এই সময়ে ত্বকের পানিশূন্যতা আরও বেড়ে যায়। অথচ একটু সচেতন যত্ন, সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন এবং উপযুক্ত পণ্যের ব্যবহারে শীতকালেও ত্বকের হারানো লাবণ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
শীতকালে উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বক পেতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন মৃদু অথচ কার্যকর ক্লিনজিং। এমন ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি স্বাভাবিক আর্দ্রতাও বজায় রাখে। অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত বা হার্শ ক্লিনজার ত্বককে আরও শুষ্ক করে তুলতে পারে, তাই সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
এরপর টোনার ও হালকা সিরাম ব্যবহার করলে ত্বক আরও ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকে এবং পরবর্তী স্কিনকেয়ার ধাপের জন্য প্রস্তুত হয়। তবে এই পুরো রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন, যা দীর্ঘক্ষণ ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং গভীরভাবে হাইড্রেশন নিশ্চিত করতে ‘ভ্যাসলিন গ্লুটা হায়া ডিউই রেডিয়েন্স’ হতে পারে একটি কার্যকর সমাধান। এতে থাকা গ্লুটা গ্লো টেকনোলজি ভিটামিন সির চেয়েও ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী, যা ত্বকের নিস্তেজ ভাব কমিয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি হায়ালুরন ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেটেড রাখে এবং এর ১০ গুণ অ্যাকটিভ নিয়াসিনামাইড ত্বকের টোন সমান করে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক হয়ে ওঠে ডিউই, সফট ও প্রাণবন্ত, যা সারা দিন ধরে সতেজ অনুভূতি দেয়। তবে এই লোশন শুধু শীত নয়, ত্বকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে ব্যবহার করতে পারেন বছরজুড়ে।
এ ছাড়া সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বকের স্বচ্ছতা বাড়ে। এতে স্কিনকেয়ার পণ্যগুলোও ভালোভাবে শোষিত হতে পারে এবং ত্বক আরও মসৃণ দেখায়।
তবে অতিরিক্ত স্ক্র্যাব বা কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে, এমনকি লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়াও দেখা দিতে পারে।
তাই এক্সফোলিয়েশনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
শীতকালীন নিস্তেজ ত্বক মানেই যে উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাবে, এমন নয়। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কম রাখাও ত্বকের স্বাভাবিক গ্লো বজায় রাখতে সহায়ক।
এর পাশাপাশি সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ভ্যাসলিন গ্লুটা হায়া ডিউই রেডিয়েন্সের মতো কার্যকর পণ্যের নিয়মিত ব্যবহারে সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব ত্বকের হারানো লাবণ্য। একটু যত্ন আর সচেতনতায় শীতকাল তো বটে, বছরজুড়েই ত্বক থাকবে উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত।