মাহে রমজানে ত্বক সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিত পানি পান করা
মাহে রমজানে ত্বক সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিত পানি পান করা

ঋতুবদলের মধ্যেই রোজা, যেভাবে ভালো থাকবে ত্বক

পবিত্র রমজানে এবার গরম বেশ ভালোই থাকবে বলা যায়। ১৩–১৪ ঘণ্টা পানিসহ অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না। এসব কারণে আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, ত্বক হয়ে যেতে পারে শুষ্ক। প্রয়োজন রোজ কিছুটা সময় নিয়ে ত্বকের চর্চা করা।

শীতের শেষ ভাগেও বাতাসে থাকে শুষ্কতার ছাপ, বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্মের দিকে এগোতে থাকলে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা—দুটোই বাড়তে শুরু করে। আবহাওয়ার এই দুই বিপরীত টানাপোড়েনে ত্বক অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কখনো অতিরিক্ত শুষ্কতা, কখনো আবার নাক ও কপালে তেলতেলে ভাব—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। শুষ্ক ত্বকে রুক্ষতা ও টান টান ভাব আরও বেড়ে যায়। সংবেদনশীল ত্বকেও দেখা দেয় বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অন্যদিকে তৈলাক্ত ত্বক অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন শুরু করে। পাশাপাশি আগামী এক মাস থাকবে পবিত্র রমজান। এ সময় দৈনন্দিন নিয়মগুলো বদলে যায়। কাজের ধারায়ও আসে পরিবর্তন। রোজ কিছুটা সময় যদি ত্বকের চর্চা করা যায়, ত্বক ও চুল থাকবে সুস্থ।

রুটিনে হালকা পরিবর্তন

গরমের আগমনী সময়ে ধীরে ধীরে রুটিনে পরিবর্তন আনা দরকার। ব্যবহার করুন হালকা ধরনের ক্লিনজার, যা ব্যবহারে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হবে না। ময়েশ্চারাইজারও বেছে নিন লাইটওয়েট কিন্তু হাইড্রেটিং। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এ সময় আরও জরুরি, কারণ সূর্যের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ত্বক যদি যথাযথভাবে সুরক্ষিত না থাকে, তাহলে ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ, পোড়া ভাব বা অকালবার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দিতে পারে দ্রুত।

দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এ সময় আরও জরুরি

রোজার প্রভাব

এই ঋতু পরিবর্তনের মধ্যেই এবার এসেছে পবিত্র রমজান। এই মাসে ত্বকে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন, বলছিলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার থেকে বিরত থাকার কারণে শরীরে সাময়িক পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি ত্বকে প্রতিফলিত হয়। ত্বক নিস্তেজ দেখাতে পারে, ঠোঁট ফেটে যেতে পারে, চোখের নিচে গাঢ় হতে পারে ক্লান্তির ছাপ।

এ সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে শুষ্ক ত্বক, কারণ আর্দ্রতার ঘাটতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে, এ ছাড়া ত্বকের প্রাকৃতিক সিবামও কম উৎপন্ন হয় শুষ্ক ত্বকে। ফলে বলিরেখার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। আবার তৈলাক্ত ত্বকেও সমস্যা বাড়তে পারে; ডিহাইড্রেশনের প্রতিক্রিয়ায় ত্বক অনেক সময় অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে, ফলে দেখা দেয় ব্রণ বা ছোট ছোট ফুসকুড়ি।

রোজায় যেভাবে দূর করবেন পানিশূন্যতা

মাহে রমজানে ত্বক সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিমিত পানি। ইফতারের পর একসঙ্গে অনেক পানি পান না করে ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি গ্রহণ করা ভালো, বলছিলেন শারমিন কচি। এতে শরীর পানি শোষণ করার যথেষ্ট সময় পায় এবং ত্বকও উপকৃত হয়। ইফতারে এক থেকে দেড় গ্লাস পানি পান করে আধা ঘণ্টা বা ৪৫ মিনিট পর আরও এক গ্লাস পানি খাওয়া উচিত।

পানিসমৃদ্ধ ফল যেমন তরমুজ, শসা বা কমলা খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় থাকে। ডাবের পানি বা লেবুপানি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চা বা কফি পান এড়িয়ে চলাই উত্তম, কারণ ক্যাফেইন শরীরের পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।

ত্বক ভালো থাকবে রাতে ঠিকমতো যত্ন নিলে

রাতের ত্বকচর্চা

ইফতারের পর ত্বক পরিষ্কার করা খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি সারা দিন বাইরে থাকা হয়। মেকআপ থাকলে ডাবল ক্লিনজিং করে ত্বক সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা উচিত। ফেসওয়াশের ক্ষেত্রে কোমল ধরনের উপাদান ব্যবহার করা বেশি ভালো। এরপর একটি হাইড্রেটিং সিরাম ব্যবহার করে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগালে দ্রুত তার সতেজ ভাব ফিরে পায় ত্বক। দিনের বেলায় এ ক্ষেত্রে ভিটামিন সি সিরাম লাগালেও রাতে ভিটামিন ই বেছে নিতে পারেন, বলছিলেন শারমিন কচি।

সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করতে পারে, তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলা উচিত। এ সময় নতুন পণ্য ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ ত্বক তুলনামূলক সংবেদনশীল থাকে।

ঈদের প্রস্তুতি

রমজানের শুরু থেকেই পরিমিত পানি পান ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে

ঈদের ঠিক আগে হঠাৎ ফেশিয়াল বা নতুন ট্রিটমেন্ট নেওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু ত্বকের প্রকৃত উজ্জ্বলতা আসে ধারাবাহিক যত্ন থেকে। পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই যদি পরিমিত পানি পান ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলে নিয়মিত ত্বকচর্চা বজায় রাখা যায়, তাহলে ঈদের সকালে আলাদা করে খুব বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে না। পর্যাপ্ত ঘুমও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত ঘুম ত্বককে ক্লান্ত ও নিস্তেজ করে। তাই যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিশ্চিত করা উচিত। মানসিক প্রশান্তিও ত্বকের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুশ্চিন্তা কম থাকলে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই বেশি উজ্জ্বল দেখায়।

ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে তাই ধারাবাহিক ত্বকচর্চার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিলেন শারমিন কচি।