এই সময়ের ব্যস্ত অভিনেতা খায়রুল বাসার। সম্প্রতি ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নাটকে ‘সামির’ চরিত্রে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে একাধিক নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেতা। ছোটবেলার ঈদ ও তখনকার মজার স্মৃতি নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

শত ব্যস্ততার ভিড়েও ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিগুলো আজও তাঁর কাছে সতেজ। ‘তখন ঈদের বেশির ভাগ সময়ই কাটত দাদাবাড়ি, কিশোরগঞ্জে। পরিবারের সবার সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের আনন্দই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নতুন পোশাক ছিল ছোটবেলার ঈদের প্রধান আকর্ষণ।’ বলছিলেন খায়রুল বাসার।
ঈদের জামা কয়েক দিন আগেই কেনা হলেও সেটি যত্ন করে লুকিয়ে রাখতেন—কখনো বাক্সে, কখনো–বা চালের ড্রামে—যেন ঈদের দিন সেই নতুনত্বের আমেজ অটুট থাকে। কিন্তু লুকিয়ে রাখলেও প্রতিদিন একবার বের করে দেখার লোভ সামলাতে পারতেন না। সেই আগ্রহ আর ভালো লাগার তীব্রতাই ছিল আলাদা।
ঈদে তাঁর আরেক প্রিয় অনুষঙ্গ ছিল পিঠাপুলি। এখনকার ব্যস্ত জীবনে সেসব পিঠাপুলির স্বাদ খুব মিস করেন। ঈদ নিয়ে এই অভিনেতার স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে আরও একটি মজার অভিজ্ঞতা—ঈদের দিন ভাড়া করা সাইকেলে ঘুরে বেড়াতেন।
‘তখন বাজারে দুই টাকা ঘণ্টা হিসাবে সাইকেল ভাড়া পাওয়া যেত। ভাইবোনেরা সবাই মিলে ঈদের দিন বেরিয়ে পড়তাম। গ্রামকে গ্রাম ঘুরে বেড়াতাম সাইকেলে। এটা বেশ মিস করি,’—মুচকি হাসিতে জানান খায়রুল বাসার। ছোট ছোট এই মুহূর্তগুলোই তাঁর শৈশবের ঈদকে করে তুলেছিল অনন্য।
সময়ের সঙ্গে ঈদের অর্থও বদলেছে। খায়রুল বাসারের ভাষ্যে, এখনকার ঈদ আনন্দের চেয়ে দায়িত্বের বেশি। ছোটবেলায় নিজের আনন্দটাই ছিল মুখ্য; আর এখন আশপাশের মানুষের হাসিমুখ দেখতেই বেশি স্বস্তি পান তিনি। সুযোগ পেলে এখনো আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গেই ঈদ কাটানোর চেষ্টা করেন। যদিও কাজের ব্যস্ততায় তা সব সময় সম্ভব হয় না। তিনি জানান, এবারের ঈদও তাঁর দেশের বাইরে কাটবে।
অভিনয়ের বাইরে অবসরে কবিতা পড়তে ভালোবাসেন তিনি। গান শোনা, সিরিজ বা সিনেমা দেখা—এসবও তাঁর পছন্দের তালিকায় আছে। ছোটবেলায় আঁকাআঁকির ঝোঁক ছিল প্রবল; ক্রিকেট খেলতেও দারুণ ভালোবাসতেন। হেসে বলেন, ‘একটা সময় ভাবতাম, ক্রিকেটারও হব।’
এ ছাড়া ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। দূরদূরান্তে ভ্রমণই যে করতে হবে, এমন নয়—ফুটপাত ধরে নিজের মতো হাঁটাহাঁটি করাতেও তাঁর আলাদা ভালো লাগা কাজ করে। যদিও ব্যস্ততার কারণে এখন সেই সময়টুকুও সহজে পান না।
খায়রুল বাসার অভিনীত ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিক নাটকটিতে মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণের চরিত্রটি দর্শক আপন করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যের মতোই। এ প্রসঙ্গে খায়রুল বাসার বলেন, ‘“এটা আমাদেরই গল্প” আক্ষরিক অর্থেই আমাদের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। দর্শকেরা পরিবার নিয়ে নাটকটি উপভোগ করছেন। “সামির” হিসেবে আমি যেন অনেক পরিবারের একজন সদস্য হয়ে উঠেছি। এখন আমার একটা নয়, অনেক অনেক পরিবার—যাঁরা আমাকে নিয়ে ভাবেন, ভালোবাসেন। প্রাপ্তির জায়গাটা আসলে এখানেই।’
ব্যস্ত সময়েও স্মৃতিমাখা ঈদ আর দর্শকের ভালোবাসাই যেন খায়রুল বাসারের পথচলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।