একসময় ক্রকস ছিল ফ্যাশন–দুনিয়ায় প্রায় অচ্ছুত। ‘পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত জুতা’র তকমাও জুটেছিল। অথচ আজ সেই ক্রকসই হয়ে উঠেছে স্টাইল ও আরামের নিখুঁত সমন্বয়। সহজ ডিজাইন, পরতে আরাম এবং বহুমুখী কার্যকারিতার কারণে এখন নানা বয়সের মানুষ পরছে এই জুতা।

‘ক্রকস’ নামটির উৎস ক্রোকোডাইল বা কুমির। জল ও স্থলে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে কুমির, ঠিক তেমনি ক্রকসও বিভিন্ন পরিবেশে ব্যবহারযোগ্য। রাবার দিয়ে তৈরি বলে এটি হালকা, টেকসই এবং পানিতে নষ্ট হয় না।
দীর্ঘ সময় পরলেও পা ব্যথা করে না। পরিষ্কার করাও সহজ। মূলত চীন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আসা এই জুতা এখন বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
অনলাইন বা অফলাইন—যেকোনো বাজারেই এই জুতা এখন সহজলভ্য। ঢাকার বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, উত্তরার আলাউদ্দিন টাওয়ার, রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স, নিগার প্লাজায় পেয়ে যাবেন বিভিন্ন মাপের ও স্টাইলের ক্রকস। দোকান থেকে কিনলে দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা।
এ ছাড়া চীন থেকে আনা বিভিন্ন ক্রকস পাবেন মিনিসোয়, দাম ২ হাজার ৯৯৯ টাকা থেকে শুরু। ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে ক্রকস পাওয়া যায় রাস্তার পাশের দোকান বা ভ্যানগুলোয়।
এ ছাড়া শিশুদের জন্যও কিনতে পারবেন রাবারের আরামদায়ক এই জুতা। দাম পড়বে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
অনলাইনে ফোম, গ্রেসিয়া, ভাইব ওয়্যার বিডি ইত্যাদি অনলাইন শপেও পেয়ে যাবেন নানা রঙের ক্রকস। যেখানে দাম সাধারণত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকার মধ্যে।
ক্রকস জুতা শুধু দেখতেই অন্য রকম নয়, এর আছে এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যও। এই জুতাকে আলাদা করে চেনা যায় এর ‘চার্মস’ দিয়ে, যা পরিচিত ‘জিবিটজ’ নামে।
ক্রকস ব্র্যান্ড নিজেই নানা ধরনের জিবিটজ তৈরি করে। জিবিটজে থাকে কার্টুন, বর্ণ, ফুল, খাবার কিংবা মিনিমাল আইকনের বিভিন্ন নকশা। তবে আরও বিভিন্ন নকশার চার্মস কিনতে পাওয়া যায়।
ব্যবহারকারী চাইলে নিজের পছন্দ, মুড বা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতা সাজিয়ে নিতে পারেন চার্মস দিয়ে। নিজের জুতা নিজের সাজানোর এই সুযোগই ক্রকসকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বর্তমানে ক্রকসের সঙ্গে মোজা পরেও স্টাইল করার ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, যা আধুনিক স্ট্রিট ফ্যাশনের অংশ হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন অনলাইন পেজে পাবেন ক্রকসের জিবিটজ, যা কোথাও বিক্রি হয় সেটে, কোথাও আবার সিঙ্গেল পিস হিসেবে। ১০টি চার্মের সেট পাওয়া যায় ৩৫০ টাকায়, আবার একটি করে জিবিটজ কিনতে গুনতে হবে ৩৫ থেকে ৬০ টাকা।
ক্রকসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি আরামদায়ক। হালকা, টেকসই এবং সহজে পরা ও খোলার সুবিধার কারণে এটি বিশেষ করে ভ্রমণের সময় খুবই জনপ্রিয়। কাদা, পানি, ধুলা কিংবা দীর্ঘসময় হাঁটা—সব পরিস্থিতিতেই এই জুতা বেশ উপযোগী।
দামও সব শ্রেণির হাতের নাগালে বলে সবাই পায়ে গলাতে পারে। তাই অল্প সময়েই ‘পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত জুতা’র তালিকা থেকে নাম সরিয়ে অন্যতম জনপ্রিয় জুতা হিসেবে নাম লিখিয়েছে এই ক্রকস।