সোনার দাম এখন ‘আকাশছোঁয়া’র বদলে মহাকাশের দিকে বলাই ভালো। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার টাকা। মধ্যবিত্তের কথা না হয় বাদই দিলাম, উচ্চবিত্তরাও কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন সোনার গয়না কিনতে গিয়ে। কিন্তু বিয়ে তো থেমে নেই। কনেরাও সাজছেন গয়নায়। তবে সোনার গয়নার চেয়ে অন্য ধাতুর গয়না বেশি পরছেন কনেরা।
কনের গয়নায় সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তন চোখে পড়ে, তা হলো ভারী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা। একসময় কনের সাজ মানেই ছিল যত বেশি গয়না, তত দেখতে ভালো। গলাভরা হার, দুই হাতে ভারী বালা, মাথা থেকে পা পর্যন্ত নানা রকম গয়না। কিন্তু একালের কনে আর শুধু ঐতিহ্যের ভার বইতে চান না; তিনি চান নিজের ব্যক্তিত্বটাও সেই সাজের মধ্যে থাকুক। তাই গয়না এখন আর শুধু ভরির ওজনে নয়; বরং স্টাইলের ভাষায় কতটা ওজনদার, সেটাই দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বদলের কেন্দ্রে আছে ভারসাম্য বজায় রাখা। আর তাতে আছে পুরোনো ধাঁচের নকশার সঙ্গে এ সময়ের ফিউশন। শরীরজুড়ে গয়না পরার বদলে এখন নির্দিষ্ট একটি অঙ্গেই বেশি মনোযোগ তৈরি করা হচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে সেটা গলায়—একটা বড় চোকার, আবার কারও ক্ষেত্রে কানের দুলই পুরো লুকটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বড় চান্দবালি বা ঝুমকা পরেই অনেকে নেকলেস বাদ দিচ্ছেন। এতে মুখের অভিব্যক্তি আরও স্পষ্ট হয়, সাজটাও লাগে আধুনিক।
যে বিষয়টি এখন বেশি চোখে পড়ছে, তা হলো ঐতিহ্যবাহী গয়নার নকশা ফিরে আসা। গয়না আর কেবল নতুন করে বানানোর জিনিস নয়; অনেক কনে খুঁজে নিচ্ছেন দাদি-নানির সেই পুরোনো গয়নার বাক্স। হার, কানের দুল, বালার বাক্স খুলে যেমন পরতে পারেন আবার মা–দাদির গয়নার নকশার আদলে নতুন গয়না বানিয়েও নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সোনা বা রুপার বদলে অন্য ধাতুর ব্যবহার খরচ কমিয়ে আনবে। কখনো সামান্য নকশা বদলে, কখনো হুবহু রেখেই সেগুলো পরছেন কনেরা। আধুনিক লেহেঙ্গা বা বেনারসির সঙ্গে যখন সেই পুরোনো গয়না মিলিয়ে নেওয়া হয়, তখন সাজটা আর শুধু ধারার মধ্যে আটকে থাকে না। সেখানে তৈরি হয় এক নতুন বাঙালি কনের চেহারা—যেখানে অতীতের মায়া আর বর্তমানের আত্মবিশ্বাস পাশাপাশি হাঁটে।
কপালের ভারী সাজ অনেকেই বাদ দিচ্ছেন, তার বদলে বেছে নিচ্ছেন হালকা নকশার একটা টিকলি। কারণ হিসেবে অনেকে মনে করছেন, কনের মুখটাই বিয়ের দিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আলো, মেকআপ আর অভিব্যক্তি—সব মিলিয়ে মুখটাকে কেন্দ্র করেই সাজটা ভাবা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাকি গয়না একটু ভারী হতে পারে। গলায় চোকার স্টাইলের কুন্দনের ভারী গয়নাটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
খাঁটি সোনার গয়না পরার চল কমেছে। তার চেয়ে এখন কনের গয়নায় গুরুত্বপূর্ণ ডায়মন্ডের সঙ্গে যোগ হচ্ছে রঙিন পাথর, এমারেল্ড বা রুবি, কখনো মুক্তা। গয়নায় এমন মিশ্রণ একধরনের আভিজাত্য আনে কনের লুকে।
বিয়ের একটি আয়োজনে অনেককেই আজকাল সাহস করে সাদা রং বেছে নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে বউভাতে এমন লুক চোখে পড়ে। এমন পোশাকের সঙ্গে জার্মান সিলভার পরা যেতে পারে, যার রং একেবারে চকচকে নয়; বরং হালকা ম্যাট ধাঁচের। নিরপেক্ষ পোশাকের রং হিসেবে সাদার ওপর গয়নাটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। জার্মান সিলভারের গয়নায় সাধারণত নকশা আর হাতে করা কাজের ছাপ থাকে। সাদা পোশাকে এই খুঁটিনাটিগুলো চোখে পড়ে বেশি