
প্রতিবছর মেট গালার আগে কার্ডাশিয়ান-জেনার পরিবারের গ্রুপ চ্যাট নাকি খুবই সরগরম থাকে। সেখানে স্কেচ, আইডিয়া থেকে শুরু করে ফিটিংয়ের ছবি—সবই একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করা হয়, ‘ভোগ’–এর লাইভ স্ট্রিমে ঘনিষ্ঠ বন্ধু লা লা অ্যান্থনির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই তথ্য জানিয়েছিলেন কিম কার্ডাশিয়ান। নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্টে ঢোকার জন্য কিম সব সময়ই মুখিয়ে থাকেন। কারণ, সেখানে গিয়ে বোনদের শেষ মুহূর্তে তৈরি হওয়া লুকগুলো সরাসরি দেখতে পান। অনেক সময় পোশাকগুলো আগের পরিকল্পনার চেয়ে একেবারেই আলাদা হয়ে যায়।
কাইলি জেনার পরেছিলেন স্ক্যাপারেল্লি হটে কতুর। ডিজাইন করেছেন ড্যানিয়েল রোজবেরি। এই পোশাকে ছিল শক্ত ন্যুড রঙের করসেট বডিস আর নিচে ছিল ফোলানো স্কার্ট। স্কার্টে নজর কাড়ে হাজারো মুক্তা আর সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি। পোশাকটি তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ১১ হাজার ঘণ্টা। কাইলি লুক সম্পূর্ণ করেছেন কসমেটিকস দিয়ে করা মেকআপে।
কেন্ডাল জেনার পরেন জ্যাক পোজেনের ডিজাইন করা একটি গাউন। এই লুকের শুরু হয় একটি সাদা টি-শার্টকে নতুনভাবে ডিজাইন করে, যেটা লাগানো হয় লেদার বডিসের সঙ্গে। পুরো পোশাকটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন এটি শরীরের সঙ্গে মিশে যায়—একটি ‘সেকেন্ড স্কিন’ বা দ্বিতীয় ত্বকের মতো। বুলগারির গয়না পরেছিলেন কেন্ডাল। ‘দেবীর মতো’ দেখাতে চেয়েছিলেন নিজেকে কেন্ডাল, সেই ভাবনা থেকেই এই লুক তৈরি হয়েছে।
ক্রিস জেনার পরেন ডলচি অ্যান্ড গাবানার আলতা মোদা সংগ্রহের একটি লুক। ক্রিস জেনার প্রতিবছরই মেয়েদের পরামর্শ নিয়ে মেট গালার জন্য নিজের পোশাক বেছে নেন।
কিম কার্ডাশিয়ানের পোশাকে ছিল চমক। নিজের সৃজনশীল পরিচালক নাদিয়া লি কোহেনের সঙ্গে তিনি এবারের ‘ফ্যাশন ইজ আর্ট’ থিমকে ফুটিয়ে তুলতে অনুপ্রেরণা নেন শিল্পী অ্যালেন জোনসের কাজ থেকে। পোশাকটি বানাতে সময় লেগেছে প্রায় তিন সপ্তাহ। ফাইবারগ্লাস জোগাড় করা থেকে শুরু করে অটো শপে ব্রেস্টপ্লেট রং করা—সবই ছিল প্রক্রিয়ার অংশ। শুরুর দিকে পুরো শরীর ঢাকার কথা থাকলেও পরে কিম সেটিকে ছোট করে বডিস্যুট বানান, যাতে সহজে নড়াচড়া করা যায়।