
বাঙালি ছেলেদের কোনো উৎসবই পাঞ্জাবি ছাড়া ঠিক জমে না। এবার আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে তাই ক্লাব হাউস নিয়ে এসেছে কটন ও লিনেনের যুগলবন্দী কাপড়ের পাঞ্জাবি। ক্লাব হাউসের ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক ইফতেখারুল ইসলাম জানান, এবারের বসন্তের যেহেতু শীত বা গরম কোনোটাই বেশি নয়, তাই এমন কাপড় বেছে নেওয়া হয়েছে, যা কিছুটা ভারী এবং একই সঙ্গে আরামদায়ক হয়।
লা রিভের পাঞ্জাবিগুলোতেও ব্যবহার করা হয়েছে কটন, ভিসকজ ও ব্লেন্ডেড ফেব্রিক। কিছু পাঞ্জাবিতে আছে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি, আবার কিছু পাঞ্জাবির নকশায় আছে প্রিন্ট। রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল লাল ও মেরুনের পাশাপাশি রাখা হয়েছে সাদামাটা কিছু রং; যেমন বেইজ, বাদামি ও সোনালি।
বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে টুয়েলভ এ বছর ছেলেদের কালেকশনে এনেছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি। কাপড় নির্বাচনে টুয়েলভ বরাবরের মতোই স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়েছে। কটন ও ভিসকজ কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে পাঞ্জাবিতে। এবারের আয়োজনে ছেলেদের জন্য আছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও টি-শার্ট—এই তিন ধরনের পোশাকই। ফ্যাশন হাউসগুলোয় পাঞ্জাবির দাম শুরু ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
লা রিভ এবারের বসন্তে এসেছে ভিন্ন এক ফিউশন ভাবনা, যার নাম দেওয়া হয়েছে হারমনি। এই কালেকশনের মূল ভাবনা হলো নিজের ভেতরের শান্তি, আত্মানুসন্ধান এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সুরেলা এক সম্পর্ক। তাই ডিজাইনে প্রাধান্য পেয়েছে মিনিমালিজম; একেবারেই যৎসামান্যভাবে নিজের মতো করে নিজেকে সাজিয়ে তোলার ব্যাপারটা।
ফতুয়া না থাকলেও এই বসন্তে লা রিভ এনেছে ফুল স্লিভ ও হাফ স্লিভ ক্যাজুয়াল শার্ট, পাশাপাশি পোলো ও টি-শার্ট কালেকশন। বেশির ভাগ ডিজাইনই একরঙা, কিছু টি–শার্টে মিনিমাল গ্রাফিক ও থিমেটিক ডিজাইনও আছে। ট্রেন্ডি ড্রপ শোল্ডার টি-শার্টও আছে, যা ক্যাজুয়াল লুকের জন্য বেশ মানানসই। লা রিভে বটমওয়্যারেরও আছে আলাদা কালেকশন। যার মধ্যে আছে সাদা প্যান্ট-পায়জামা, ওয়াশড ডেনিম ও বাদামি, সাদা বা বেইজ রঙের চিনো প্যান্ট।
টুয়েলভের টি–শার্ট ও ফতুয়ায় রঙের ক্ষেত্রে বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস—দুটিকেই মাথায় রেখে ব্যবহার করা হয়েছে লাল, মেরুন ও বাসন্তী, হলুদের মতো উজ্জ্বল ও উৎসবমুখর রং।
টি–শার্টের দাম সাধারণত ৬০০ টাকায় শুরু। এ ছাড়া ক্লাব হাউসে বসন্তের টি–শার্ট পেয়ে যাবেন ৯৯৯ টাকায়।
এই মৌসুমে ক্লাব হাউসের বিশেষ সংযোজন কাতোয়া, যা ফতুয়া বা শার্টের মতো নয়; কিছুটা সেমি ফরমাল বা ক্যাজুয়াল পোশাক। শান্ত ও স্নিগ্ধ রং সাদা ও বেইজে তৈরি এই কাতোয়াগুলোয় আছে স্ট্রাইপড প্রিন্ট ও প্যাচওয়ার্ক অলংকরণ। যাঁরা পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরতে পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে ভালো বিকল্প।
ক্লাব হাউস এবারের কালেকশন তৈরি করেছে এমনভাবে, যাতে পোশাকগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট উৎসব নয়; বরং বিভিন্ন সময়ে পরা যায়। ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, প্রিমিয়াম ফেব্রিক ব্যবহারের কারণে এবারের ছেলেদের পোশাকে অলংকরণ তুলনামূলক কম রাখা হয়েছে। কিছু পোশাকে কারচুপি ও হ্যান্ড স্টিচের কাজ আছে। কাতোয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত মানের লিনেন। এসবের দাম শুরু ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
রঙের ক্ষেত্রে বেইজ রংকে প্রাধান্য দিলেও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে লাল ও মেরুন কালেকশনও রাখা হয়েছে এবারের কালেকশনে।