উইম্বলডনের টেনিস কোর্টকে কি ফ্যাশন রানওয়ে বানিয়ে ফেলেছেন নাওমি ওসাকা

প্রায় ১৫০ বছর ধরে উইম্বলডনে খেলোয়াড়দের পোশাকের রং সাদা। এ সময়ে কঠোরভাবেই ‘অল-হোয়াইট ড্রেস কোড’ মানা হয়েছে। শুধু পোশাকই নয়, জুতার ফিতা, মোজা, হাতের ব্যান্ড—প্রায় সবকিছুই সাদা হতে হয়। কলার বা হাতার কোনায় সামান্য রং ব্যবহার করা গেলেও তার প্রস্থ ১ সেন্টিমিটারের বেশি নয়। নারী খেলোয়াড়দের গাঢ় রঙের আন্ডারশর্টস পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ২০২৩ সাল থেকে। খেলোয়াড়দের একই ধাঁচের পোশাকের সেই রীতিতে বেশ বড়সড় ধাক্কা দিয়েছেন জাপানি টেনিস তারকা নাওমি ওসাকা। ২৯ জুন উইম্বলডনের প্রথম দিনেই নিজের ফ্যাশন দিয়ে আবারও নজর কাড়লেন তিনি। উইম্বলডনের ঐতিহ্যই তাঁকে নিজ সংস্কৃতির শিকড়কে নতুনভাবে তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করেছে।

উইম্বলডনের মাঠে ঢোকার সময় খেলোয়াড়দের একই ধাঁচের পোশাকের সেই রীতিতে বেশ বড়সড় ধাক্কা দিয়েছেন জাপানি টেনিস তারকা নাওমি ওসাকা। এই কোর্ট ফ্যাশন দেখে নড়েচড়ে বসেছে পাশ্চাত্যের নামি ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোও।ওসাকার কাছে গ্র্যান্ড স্লাম শুধু টেনিস নয়, নিজেকে প্রকাশেরও মাধ্যম
ছবি: এএফপি
টুর্নামেন্টগুলোয় তাই নাইকির ড্রেসের ওপর লেয়ারিং করে কত্যুর-অনুপ্রাণিত পোশাক পরে মাঠে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। এ কারণে প্রতিবারই তাঁর কোর্টে প্রবেশের মুহূর্তগুলো দর্শক থেকে শুরু করে ফ্যাশনিস্তা—কেউই মিস করতে চাইছে না
ভিনটেজ কিমোনো ও ঐতিহ্যবাহী শিরোমুকু বিয়ের পোশাকসহ সাত ধরনের পুরোনো কাপড় পুনর্ব্যবহার করে এ ধরনের পোশাক তৈরি করা হয়।এদিন ওসাকার চুলে ছিল ঐতিহ্যবাহী কানজাশি অলংকার। কোর্টে ঢুকে গাউন খুলে ফেলেন ওসাকা
২৯ জুন উইম্বলডনের প্রথম দিনেই নিজের ফ্যাশন দিয়ে আবারও নজর কাড়লেন নাওমি ওসাকা। দেড় শ বছরের সেই বিশেষ ড্রেসকোড মেনেই তিনি টোকিওভিত্তিক ডিজাইনার হানা ইয়াগির তৈরি বিশেষ পোশাক পরে কোর্টে আসেন। ওসাকা মনে করেন, কিমোনোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, রং না দেখেও সেটি চেনা যায়। ‘কিল বিল’ সিনেমায় লুসি লিউ অভিনীত ও-রেন ইশির সাদা কিমোনোর লুকও এই নকশার অনুপ্রেরণা ছিল
জাপানি ঐতিহ্যবাহী কিমোনো ও অভিজাত নারীদের ব্যবহৃত বহুস্তর (লেয়ারিং) পোশাক জুনিহিতোয়ে থেকে অনুপ্রাণিত এই গাউন তৈরি করা হয়।পোশাকে ছিল সারস পাখি ও চেরি ফুলের সূচিকর্ম
গাউনের নিচে পরেছিলেন জাপানি কিরিগামি শিল্প থেকে অনুপ্রাণিত সাদা নাইকি টেনিস ড্রেস। নাওমি ওসাকা বলেন, ‘কোর্টে প্রবেশের প্রতিটি মুহূর্তই আমার সৃজনশীল জগতের অংশগুলো তুলে ধরার সুযোগ।’
‘ব্রিটিশ ভোগ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসাকা জানান, ‘ফ্যাশন শুধু পোশাক নয়, গল্প বলারও একটি মাধ্যম। উইম্বলডনের ঐতিহ্যই আমাকে নিজ সংস্কৃতির শিকড়কে নতুনভাবে তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করেছে।’
এবারই প্রথম নয়, নাওমি ওসাকা এর আগেও একাধিকবার এমন পোশাক পরে কোর্টে এসেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে ফ্রেঞ্চ ওপেনে ওসাকা পরেছিলেন নাইকির তৈরি বিশেষ টেনিস ড্রেস
কোর্টে নামার আগে তিনি সুইস ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ের তৈরি কালো করসেট ও প্লিটেড স্কার্ট পরেছিলেন।
পোশাকটি তাঁর পুরোনো টেনিস কিটের পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।
নাইকির স্টাইলিস্ট মার্টি হার্পার ও সুইস ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ের যৌথ উদ্যোগে ওই লুক তৈরি করা হয়েছিল। ডিজাইনার দলটি এই পুরো লুকের পেছনে যে ধারণা, সেটার নাম দিয়েছিল ‘কোর্ট-উরে’, অর্থাৎ কোর্টওয়্যার ও কতুরের মিশেল
তামাটে-সোনালি রঙের এই পোশাকে ছিল ঝলমলে সিকুইন ও ধাতবের কাজ। তবে নকশা থাকলেও পোশাকটি ছিল পুরোপুরি খেলার উপযোগী
সাক্ষাৎকারে পোশাকটি নিয়ে ওসাকা জানিয়েছিলেন, সিকুইনের চমক বেশি হতে পারে ভেবে তিনি সঙ্গে দুটি অতিরিক্ত পোশাকও এনেছিলেন। কারণ, যদি আম্পায়ার পোশাক বদলাতে বলেন!
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ড ম্যাচের আগে নাওমি ওসাকা কোর্টে নামেন ব্রিটিশ কতুর ডিজাইনার রবার্ট উনের তৈরি জেলিফিশ-অনুপ্রাণিত বিশেষ পোশাকে
তাঁর মেয়ে শাইয়ের জেলিফিশের প্রতি ভালোবাসা থেকে অনুপ্রাণিত এই লুকে ছিল চওড়া সাদা টুপি, মেঝে ছোঁয়া ভেইল, ছাতা এবং সবুজ-নীল টাই-ডাই নকশার লেয়ারিং পোশাক। ম্যাচ শুরুর আগে বাইরের স্তর খুলে তিনি নাইকির টেনিস ড্রেস পরে খেলায় নামেন
লন্ডনভিত্তিক ডিজাইনার রবার্ট উন, যিনি এর আগে আরিয়ানা গ্রান্ডে, বিয়ন্সে ও লেডি গাগার মতো তারকাদের পোশাক ডিজাইন করেছেন, তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ওপেনে পরা ওসাকার পোশাকটির অনুপ্রেরণা ছিল ২০২১ সালে এই খেলোয়াড়ের মুখে শোনা প্রজাপতির এক ঘটনা থেকে...
...সেই স্মৃতির অনুপ্রেরণায় ওসাকার টুপি ও ছাতাজুড়ে ছিল সাদা প্রজাপতির মোটিফ। কাজটি করার অভিজ্ঞতা অনেকটা নাচের মতো।’

সূত্র: দ্য গার্ডেনিয়ান, ভোগ, লোঅফিশিয়াল, অ্যাথলেটিক ও দ্য জাপান টাইমস