
৯৩ বছর বয়সে মারা গেলেন বিখ্যাত ইতালীয় ফ্যাশন ডিজাইনার ভ্যালেন্তিনো গারাভানি। ১৯ জানুয়ারি রোমে নিজের বাসভবনে ভ্যালেন্তিনোর মৃত্যু হয়। বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস ‘ভ্যালেন্তিনো’–র প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তাঁর ব্র্যান্ডের পোশাক পরেছেন বহু বিখ্যাত ব্যক্তি।
বিলাসবহুল ফ্যাশনকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন ভ্যালেন্তিনো গারাভানি। ১৯৫৯ সালে একটি ছোট অ্যাটলিয়ার থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ভ্যালেন্তিনো দ্রুতই জর্জিও আরমানি ও কার্ল লাগারফেল্ডের সঙ্গে ফ্যাশনজগতের শীর্ষে উঠে আসে।
ফলে বদলে যেতে থাকে ভ্যালেন্তিনোর জীবনযাপনও। এখানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ও বিলাসবহুল জীবনের নানা তথ্যও তুলে ধরা হলো।
ভ্যালেন্তিনো প্রতিষ্ঠার পর ভ্যালেন্তিনো গারাভানি যে আধুনিক হাউট কতুরের (সবচেয়ে উঁচু মাপের পোশাকের নকশাপদ্ধতি) ঝলক দেখান, সেটাই দ্রুত দেশে দেশে ফ্যাশনিস্তাদের কাছে চমক তৈরি করে।
নিজের অভিনবত্ব দিয়েই ভ্যালেন্তিনো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। আর তাই ভ্যালেন্তিনো গারাভানির মৃত্যুতে আধুনিক অভিজাত ফ্যাশন ডিজাইনের একটি অধ্যায়ের অবসান হলো।
রেডি–টু–ওয়্যার, হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, সানগ্লাস, পারফিউমের মতো যত পণ্যই এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডে যুক্ত হয়েছে, সবই পেয়েছে জনপ্রিয়তা। ট্রেন্ডের পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে নিখুঁতভাবে পণ্যটিকে বাজারে আনার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন ভ্যালেন্তিনো। একটি ব্র্যান্ড কতটা প্রভাবশালী হলে তার একটি নির্দিষ্ট রং বিশ্বব্যাপী সিগনেচার হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণ ‘ভ্যালেন্তিনো রেড’।
বিশ্বজুড়ে রং, রঙের নাম ও মান নির্ধারণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্যানটোন ‘ভ্যালেন্তিনো রেড’ নামটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমনকি প্যানটোন রং ব্যবস্থাপনায় ভ্যালেন্তিনো রেডের কোড হলো ২০৩৫ সি। যেটা কারমাইন শেড (উজ্জ্বল লাল), নীলের হালকা আভা ও কমলার ছোঁয়ায় তৈরি একটি বিশেষ লাল রং।
ভ্যালেন্তিনো রেড যুগ যুগ ধরে রোমান্স ও শক্তশালী ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভ্যালেন্তিনোর পোশাক পরেছেন সমাজের উঁচু স্তরের নারীরা। বিশেষ করে অনেক তারকারই প্রিয় ব্র্যান্ড ছিল ভ্যালোন্তিনো। বিভিন্ন সময় এলিজাবেথ টেলর, ন্যান্সি রেগান, শ্যারন স্টোন, জুলিয়া রবার্টসসহ বহু তাঁরকা পরেছেন ভ্যালেন্তিনোর পোশাক।
ভ্যালেন্তিনো গারাভানি মোট প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক ছিলেন। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যে সম্পদের একটি বড় অংশ আসে ১৯৯৮ সালে তাঁর ফ্যাশন হাউস বিক্রির মাধ্যমে, যা সে সময় প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
সরাসরি ডিজাইনের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরও ভ্যালেন্তিনোর নামটি বিশ্বব্যাপী লাইসেন্সিং হওয়ায় এবং ব্র্যান্ডটির বিস্তার ঘটার কারণে সম্পদের পরিমাণও বাড়তে থাকে।
নিজের জীবনকে খুব যত্নের সঙ্গে গুছিয়েছিলেন ভ্যালেন্তিনো। তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী জিয়ানকার্লোকে নিয়ে রোম, লন্ডন, প্যারিস, ম্যানহাটান ও সুইজারল্যান্ডে বাড়ি কিনেছিলেন ভ্যালেন্তিনো গারাভানি।
এর মধ্যে প্যারিসের কাছে একটি বাগানঘেরা বাড়িকে তাঁর সবচেয়ে লোভনীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখা হয়। কারণ, এই জমিটি এক মিলিয়নের বেশি গোলাপের বাগানে ঘেরা।
ভ্যালেন্তিনো ১৫২ ফুট লম্বা একটি সুপার ইয়টের মালিক ছিলেন, যার মূল্য প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার। ভ্রমণের জন্য এই ডিজাইনারের সংগ্রহে ছিল প্রাইভেট বোম্বার্ডিয়ার জেট।
বিখ্যাত অনেক চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্ম ছিল তাঁর সংগ্রহে। যার মধ্যে পাবলো পিকাসো, অ্যান্ডি ওয়ারহল, মার্ক রথকো, ফ্রান্সিস বেকন, জঁ মিশেল বাসকিয়া ও ডেভিড হকনির মাস্টারপিস তাঁর বিভিন্ন বাড়ির দেয়ালে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে।
সূত্র: বিবিসি, ইন্ডিয়া ডটকম ও কোলাতের