
পোশাক সব সময়ই আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে। সঠিকভাবে নির্বাচিত একটি পোশাকের শক্তিই আলাদা। অনেক জায়গায় সেটা হয়ে ওঠে আপনার পরিচয়ের প্রথম পর্ব। পোশাক দেখেই বোঝা যায় আপনি সমাজের কোন স্তরে আছেন। নামীদামি ব্র্যান্ডগুলোর পোশাকও তৈরি হয় এই দৃষ্টিকোণ থেকে। সেসব কাপড়ের ব্র্যান্ডের মধ্যেও আবার দুটি আলাদা ধারা থাকে। সম্প্রতি বিশ্ব ফ্যাশনের দামি ব্র্যান্ডগুলোর ওট কত্যুর প্রদর্শনীর পর আলোচনা আরও বেড়েছে।
সাধারণত ওট কত্যুরে কাপড়ের মান, নকশা ও পোশাকের ওপরে করা সূক্ষ্ম কারুশিল্প—সবই বোঝায় এটি কেন আলাদা। প্রতিটি ব্র্যান্ডেরই সবচেয়ে দামি ও এক্সক্লুসিভ কালেকশন হলো ওট কত্যুর। এমনিতেই শ্যানেল, প্রাডার মতো ব্র্যান্ডের ফ্যাশন পণ্যের দাম থাকে আকাশচুম্বী। তার ওপর সেসব ব্র্যান্ডেরও এক্সক্লুসিভ সংগ্রহ। দামটা বুঝতেই পারছেন কেমন হতে পারে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, এত দামি পোশাক আসলে কারা কেনেন?
সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, পুরো বিশ্বে মাত্র ৪ হাজার মানুষই আর্থিকভাবে ওট কত্যুর কিনতে সক্ষম। এই সীমিত সংখ্যা বোঝায়, ওট কত্যুর শুধুই ফ্যাশন বা ট্রেন্ডের বিষয় নয়। এসব পণ্যের প্রতিটি তৈরি হয় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য, কখনোই দোকানের তাক বা গণ উৎপাদনের জন্য ওট কত্যুর বানানো হয় না।
ফ্রান্সের প্যারিসের নির্ধারিত কঠোর নিয়মের আওতায় পরিচালিত হয় ওট কত্যুর। প্রতিটি পোশাকই তৈরি হয় দক্ষ কারিগরের হাতে, নির্দিষ্ট করে বিশেষ অ্যাটেলিয়ারে। নিখুঁত নকশা আর সময়—দুটির কোনোটার সঙ্গেই আপস হয় না।
একটি ডিজাইন শেষ করতে লেগে যায় মাসের পর মাস, হাজার হাজার ঘণ্টা। কিছু কিছু ব্র্যান্ড প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করে রাখে বিশেষ কারুশিল্প কৌশল, যা আজও চর্চা করেন হাতে গোনা কয়েকজন কারিগর।
এমন সীমিত ক্রেতার জন্য গড়ে ওঠা ওট কত্যুর কখনোই সংখ্যা বা লাভের হিসাব করে না। এটি উত্তরাধিকার, শিল্পবোধ এবং পরিপূর্ণতার গল্প তৈরি করে যাচ্ছে যুগের পর যুগ ধরে। আর এ কারণেই ওট কত্যুর হয়ে ওঠে চূড়ান্ত বিলাসিতার প্রতীক।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিলাসবহুল পোশাক ওট কত্যুর বানাতে কী করতে হয় ব্র্যান্ডগুলোকে
প্রতিবছর প্যারিসে দুটি পোশাক প্রদর্শনী করতে হবে। প্রতি প্রদর্শনীতে ন্যূনতম ২৫টি পোশাক তুলে ধরা আবশ্যক।
২০টির কম ফ্যাশন হাউস পুরো বিশ্বে ওট কত্যুরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিতি পেয়েছে।
ওট কত্যুর ফ্রান্সের আইনগত নিয়মকানুন দ্বারা সংরক্ষিত। এর মর্যাদা বজায় রাখতে প্রতিটি কত্যুর হাউসকে প্রতিবছর পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
ওট কত্যুরের অধীনে থাকা হাউসগুলো কখনোই একটি পোশাকের অনেক রেপ্লিকা বানায় না। একটি নকশায় সাধারণত একটি, বড়জোর তিনটি পর্যন্ত পোশাক দেখা যেতে পারে। সেটাও সব ক্ষেত্রে না।
ওট কত্যুরের কিছু কিছু পোশাক এক হাজার ঘণ্টা পর্যন্ত হাতের কাজের নিদর্শন বহন করছে।
প্রতিটি ওট কত্যুর পোশাক বানানোর সময় বিশেষ একেকটি ম্যানিকুইন ব্যবহার করা হয়। বিশেষত্ব হচ্ছে, এসব ম্যানিকুইনের আকার ক্রেতার আকার অনুযায়ী হয়।
ওট কত্যুরের মাত্র একটি পোশাকের জন্য ক্রেতাদেরও প্যারিসে ৩ থেকে ৫টি ব্যক্তিগত ফিটিং সেশনে উপস্থিত থাকতে হয়।
প্রতিটি কাপড় কেবল একটি পোশাকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হয় এবং কখনো পুনরায় ব্যবহার হয় না।
বিশ্বজুড়ে মাত্র ৪ হাজার মানুষ ওট কত্যুরের ক্রেতা হওয়ায় এটি বিশ্বের সবচেয়ে একচেটিয়া ও বিলাসবহুল বাজারের মধ্যে একটি।
প্রতিটি ওট কত্যুর হাউস বৈশ্বিক ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে।
সূত্র: লাক্সারিয়াস