চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া বেগম স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের টেকনিশিয়ান
চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া বেগম স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের টেকনিশিয়ান

গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের প্রযুক্তিবিদ চাঁদপুরের রাবেয়া

দেশে ‘পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’য় পাঠ চুকিয়ে বিদেশ থেকে নিয়েছেন নগর জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা। এ বিষয়েই এখন তিনি স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের টেকনিশিয়ান বা প্রযুক্তিবিদ। চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া বেগম ইউরোপের এই নগরী বদলে দিতে কী কাজ করছেন, শোনাচ্ছেন এ বি এম খায়রুল কবীর

গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। নগরবাসীর ভ্রমণকালীন আচরণ পরিবর্তনে পরবর্তী বছরে কী কী প্রকল্প নেওয়া যায়, তা নিয়েই আলোচনা। স্থানীয় দাতব্য সংস্থা অনেক প্রস্তাব করে থাকে। ২০২৩ সালে যেমন ২০টির মতো প্রস্তাব এসেছে। সেগুলো নিয়েই দীর্ঘ আলোচনা চলছিল, পক্ষে-বিপক্ষে উপস্থাপন করা হচ্ছিল যুক্তিতর্ক কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছা যাচ্ছিল না। শেষে সভার প্রধান সিটি কাউন্সিলের টেকসই পরিবহন বিভাগের গ্রুপ ম্যানেজার ঘোষণা দিলেন, ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে ১০টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে উপস্থাপন করবেন রাবেয়া বেগম। সেটাই সিটি কাউন্সিল বাস্তবায়ন করবে।’

দুই দিন পর ঠিকই সময়োপযোগী, স্বল্প সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য এবং শহরের অধিবাসীদের জন্য কল্যাণকর ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপিত হলো। অনুমোদিত হলো বড় ও ছোটদের সাইকেল চালানো শেখানো, সাইকেল মেরামত প্রশিক্ষণ, অনুপযুক্ত সাইকেল ঠিকঠাক করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার মতো কিছু প্রকল্প। আর এ প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করার নেতৃত্ব পেলেন বাংলাদেশের রাবেয়া বেগম।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে জোরেশোরে কাজে নেমে পড়লেন রাবেয়া। এই দায়িত্বপ্রাপ্তির মাস কয়েক আগেই গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে টেকনিশিয়ান বা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে যোগ দেন রাবেয়া বেগম।

নগর জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন রাবেয়া বেগম

রাবেয়া যেভাবে গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে

২০২৪ সালের বড়দিনের ছুটিতে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের সময় রাবেয়া বেগমের সঙ্গে পরিচয়। তার পর থেকে তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। গত মাসে হোয়াটসঅ্যাপে দীর্ঘ আলাপ।

চাঁদপুরের মেয়ে রাবেয়া। বিদ্যুৎ–বিহীন ছোট একটা গ্রামে বেড়ে ওঠা। গ্রামের স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকার একটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ভর্তি হন পরিবেশবিজ্ঞানে। পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে স্নাতকোত্তর করেন রাবেয়া। এরপর কয়েক বছর একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ প্রোগ্রামে আবেদন করেন। তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এই বৃত্তি। এর আওতাতেই তিনি গ্লাসগো যান। পরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি, ফিনল্যান্ডের ল্যাব ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স এবং স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব হোয়েলভা থেকে আরবান ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। এরপরই যোগ দেন গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলে।

রাবেয়ার প্রকল্পগুলোর কল্যাণে নগরবাসীর ভ্রমণবিষয়ক আচরণগত পরিবর্তন হচ্ছে। গ্লাসগো সিটি কাউন্সিলের লক্ষ্য হাঁটা এবং সাইক্লিং কার্যক্রম বাড়ানো। এতে শহরে বায়ুদূষণ, যানজট ও দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি সক্রিয় ভ্রমণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে রাবেয়ার প্রকল্পগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাবেয়ার আরেকটি প্রকল্প, নগরবাসীর জন্য সুরক্ষিত সাইকেল স্টোরেজের ব্যবস্থা। পাশাপাশি সাইকেল চালানোর উপযুক্ত রাস্তাগুলোকে চিহ্নিত করে জিআইএসের (ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা) মাধ্যমে একটি ম্যাপ তৈরি, যাতে সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ রাস্তা চিহ্নিত করতে পারে নগরবাসী।