
শিশুরা সব মৌসুমেই ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বয়স ভেদে উপসর্গ ভিন্ন হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণে নবজাতকের আকস্মিক জ্বর, নিস্তেজ ভাব, মায়ের দুধ খেতে অনীহা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলোকে নিউমোনিয়ার লক্ষণের মতো মনে হতে পারে। তবে ভাইরাসজনিত রোগের শুরুতে সর্দি, নাক বন্ধ ইত্যাদি উপসর্গ দেখা যায়।
আবার খুব বেশি জ্বর, নাক থেকে সর্দি ঝরা, খিঁচুনি, বমি, ডায়রিয়া, ফুসকুড়ি বা র্যাশ—এসব লক্ষণ নিয়ে অল্পবয়সী শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রকাশ পেতে পারে। একটু বড় শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই, যেমন হঠাৎ জ্বর, চোখ-মুখ লাল, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, সারা গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা থাকে। জ্বরের মাত্রা ১০২ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছায়। পাশাপাশি শুকনো কাশি, সর্দি ভাব, গলাব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ জ্বলা, চোখে ব্যথা এবং ডায়রিয়াও থাকতে পারে। জ্বর সাধারণত দু-তিন দিন বা কখনো পাঁচ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আর কাশি ৪ থেকে ১০ দিন থাকতে পারে।
ভাইরাসজনিত ইনফ্লুয়েঞ্জা কখনো কখনো বেশি জটিল হয়ে ওঠে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে শিশু নিউমোনিয়া, কানপাকা, সাইনোসাইটিস এবং কখনো মস্তিষ্কে সংক্রমণের সমস্যায় পড়তে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত শিশুকে অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হলে ‘রি-ই সিনড্রেম’ নামের সাংঘাতিক রোগ হওয়ার ঝুঁকি দেখা যায়।
কী করবেন?
ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ