শিশুকে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর আগে যা জানতেই হবে

বেড়ে উঠতে উঠতে নতুন স্বাদ চিনবে শিশু। ফলমূল থেকে পাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। যদিও ছয় মাস বয়স থেকেই শিশুকে অল্প অল্প করে বিভিন্ন ধরনের খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে সব খাবার তার জন্য নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খেতে দেওয়ার আগে শিশুর নিরাপত্তার দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান–এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম

ফলের বীজ শিশুর জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে
শিশুকে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর আগে যা জানতেই হবে

কেন প্রয়োজন সতর্কতা

ফলের বীজ শিশুর জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বরই, লিচু, জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল তো বটেই, আপেল, আঙুর, কমলা বা ডালিমের মতো ছোট বীজযুক্ত ফল খেতে গিয়েও ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। এমনকি কিছু কলায়ও বীজ থাকে, যা বিপজ্জনক হতে পারে।

কেন ঘটে এই বিপদ

খাবার গিলে নেওয়ার জন্য মুখ এবং গলার যেসব পেশি ব্যবহার করা হয়, সেসব যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে, তখনই আমরা সঠিকভাবে খাবারটা খেতে পারি। অর্থাৎ এর কোন অংশটা মুখের ভেতর যাবে, কোন অংশটা ফেলে দিতে হবে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কম।

তাই শক্ত যেকোনো কিছুই তাদের গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। বীজজাতীয় শক্ত জিনিস শিশুর শ্বাসনালিতে আটকে শিশুর প্রাণহানিও হতে পারে।

ফলমূল খাওয়ার সময় এমন ঘটনা বেশি ঘটতে দেখা যায়। ফলমূল পিচ্ছিল ধরনের। তাই মুখ থেকে ফলের বীজ সহজেই গলার দিকে নেমে যায়। এমনকি শক্ত ফলের টুকরাও শিশুর গলায় আটকে যেতে পারে।

যে বয়সে যেভাবে ফলমূল দেবেন

অনেক সময় ছোট ফলের বীজও শিশুর বিপদের কারণ হতে পারে

বুঝতেই পারছেন, শিশুকে ফলমূল দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতার বিকল্প নেই। ছয় মাস বয়স পার হলেই আপনি শিশুকে ফলমূল দেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে শুরুতে কেবল দেবেন ফলের নরম অংশটা। বীজ এবং খোসা ফেলে, নরম অংশটা কচলে মিহি করে দিতে হবে। আপেল–জাতীয় শক্ত ফল সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে কচলে দিতে হয়।

এরপর সে যখন একটু একটু চিবিয়ে খেতে পারবে, তখন নরম ফলের ছোট টুকরা খেতে দিন। এই সময়ও বীজ এবং খোসা দেবেন না। শিশুর বয়স দুই বছর পূর্ণ হলে টুকরা না করেও আপনি তার হাতে ফলমূল দিতে পারেন। তবে এ বয়সের পরও অবশ্যই সব ফলের বীজ ফেলে তবেই শিশুকে দেবেন।

সুস্থ, স্বাভাবিক শিশুর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলে বীজসহ ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবে লিচু, জাম এবং বরইয়ের মতো বড় বীজযুক্ত ফল পুরোটা একবারে মুখে ঢোকাতে দেওয়া উচিত নয়। বরং বীজ মুখের বাইরে রেখেই তার চারপাশ থেকে ফল খাওয়ার কৌশল শিখিয়ে দিন।

জানুন জীবন বাঁচানোর কৌশল

শিশুকে ফল খাওয়ানোর আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

শিশু খাবার খাওয়ার সময় আশপাশে অন্তত একজন দায়িত্বশীল মানুষকে রাখা উচিত। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে সেটির লক্ষণগুলো কী, জরুরি মুহূর্তে জীবন বাঁচাতে কী করা উচিত—এসব বিষয় শিখে রাখুন। সিপিআর প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখুন। এসব বিষয় সবারই জানা থাকা প্রয়োজন।