
সুস্থ হৃদয়, মজবুত হাড় আর ফুরফুরে মেজাজ—এসবের চাবিকাঠি আদতে নিয়মিত শরীরচর্চা। দিনে মাত্র ১০ মিনিটের শরীরচর্চাও হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। কিন্তু সমস্যা বাঁধে নিয়ম মানা নিয়ে। শুরু করার কয়েক দিন পর আলস্য বা সময়ের অভাবে ব্যায়াম বন্ধ হয়ে যায় অনেকের। কীভাবে ব্যায়ামকে একটি সহজ অভ্যাসে পরিণত করবেন? রইল কিছু কার্যকর পরামর্শ।
প্রথম দিনেই এক ঘণ্টা ব্যায়ামের কঠিন লক্ষ্য নেবেন না। শুরুতে মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের শরীরচর্চা করুন। শরীর যখন এতে অভ্যস্ত হবে, তখন ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। একে বলা হয় ‘টু-মিনিট রুল’।
ব্যায়াম মানেই কেবল জিমে যাওয়া নয়। আপনার যদি দৌড়াতে ভালো না লাগে, তবে সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা ইয়োগা বেছে নিতে পারেন। এমনকি প্রিয় গানের সঙ্গে নাচ বা পোষা প্রাণীকে নিয়ে দ্রুত হাঁটাও চমৎকার ব্যায়াম হতে পারে।
প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। আপনার যদি ভোরে ওঠার অভ্যাস থাকে, তবে নাশতার আগেই শরীরচর্চা সেরে নিন। আর যদি বিকেলে সময় পান, তাহলে সেটিই বেছে নিন।
ব্যায়ামের এক ঘণ্টা আগে হালকা শর্করা-জাতীয় খাবার (যেমন কলা বা ওটস) শরীরকে শক্তি জোগায়। ব্যায়ামের ঠিক আগে কফি খেলে শরীরে চনমনে ভাব আসে, যা আলস্য কাটাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, ভারী খাবার খাওয়ার অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা উচিত।
ব্যায়ামের আগে, চলাকালীন এবং পরে পর্যাপ্ত পানি খান। যদি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শরীরচর্চা করেন, তবে ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাব বা স্পোর্টস ড্রিংকস খেতে পারেন।
ব্যায়ামের পোশাক বা জুতা এমন জায়গায় রাখুন, যা আপনার চোখে পড়ে। এই ‘ভিজ্যুয়াল কিউ’ বা দৃশ্যমান সংকেত আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে আপনার ব্যায়াম করার কথা।
একা একা ব্যায়াম করতে বিরক্তি আসতে পারে। জীবনসঙ্গী, বন্ধু বা পরিবারের কোনো সদস্যকে সঙ্গে নিন। একে অপরকে উৎসাহ দিলে ব্যায়ামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়।।
ব্যায়ামের সময় পছন্দের গান বা পডকাস্ট শোনার অভ্যাস করুন। নিজের সঙ্গে চুক্তি করুন যে প্রিয় অডিও ক্লিপটি আপনি কেবল ব্যায়াম করার সময়ই শুনবেন। এতে ব্যায়াম করার আগ্রহ বাড়বে।
জীবন সব সময় রুটিন মেনে চলে না। কোনো দিন যদি ৩০ মিনিট ব্যায়ামের সুযোগ না পান, তবে হতাশ হয়ে ছেড়ে দেবেন না। অন্তত ১০ মিনিট হলেও শরীর নাড়াচাড়া করুন। মনে রাখবেন, বিরতি দেওয়ার চেয়ে কম সময় করাও ভালো।
পুরো সপ্তাহ ঠিকমতো লক্ষ্য পূরণ করলে নিজেকে ছোট কোনো পুরস্কার দিন। পছন্দের সিনেমা দেখা বা নতুন কোনো বই কেনা হতে পারে আপনার অনুপ্রেরণা।
শরীরের পেশি গঠনের জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন বিরতি দিন অথবা হালকা স্ট্রেচিং করুন। পর্যাপ্ত ঘুম পেশির মেরামতে সাহায্য করে।
একটি ডায়েরি বা মোবাইল অ্যাপে আপনার প্রতিদিনের অগ্রগতির রেকর্ড রাখুন। আপনার উন্নতি যখন নিজের চোখে দেখবেন, তখন আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যাবে।শরীরচর্চা কেবল ওজন কমানোর উপায় নয়, এটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন লাভের একটি সূত্র। তাই আজ থেকেই শুরু করুন, আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করবেন না।