
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলে রুপালি রঙের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। পাকা চুলেরও যত্ন নেওয়া দরকার।
চুলের ফলিকলে অবস্থিত মেলানোসাইট কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে, যা চুলের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলানিন উৎপাদন কমে গেলে চুল সাদা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সাধারণত শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে বয়স ৩০–এর দশকের মাঝামাঝি, এশীয়দের ক্ষেত্রে ৩০-এর দশকের শেষ দিকে এবং আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে ৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চুল ধূসর হতে শুরু করে। এশীয়দের ক্ষেত্রে ২৫ বছরে চুল পাকতে শুরু করলে তাকে অকালপক্বতা বলা যায়।
ভিটামিন বি–১২–এর ঘাটতি, থাইরয়েডের রোগ, শ্বেতীরোগ ও অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার মতো কিছু সমস্যার সঙ্গে চুলের রং পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক চাপ চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মানসিক চাপ সরাসরি চুল পাকার কারণ, এমন পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
গবেষণায় ধূমপানের সঙ্গে অকালে চুল পাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের ৩০ বছর বয়সের আগে চুল পাকার আশঙ্কা আড়াই গুণ বেশি।
একটি পাকা চুল তুললে তার জায়গায় তিনটি নতুন পাকা চুল গজায়—এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। বারবার চুল তুলে ফেললে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পাকা চুল অনেকের ক্ষেত্রে শুষ্ক, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার, অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ এড়িয়ে চলা এবং দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো থেকে চুলকে সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। সাদা বা রুপালি চুলে হলদেটে আভা দেখা দিলে বেগুনি রঞ্জকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।
অল্প চুল পাকলে হেয়ারস্টাইল পরিবর্তন, হেডব্যান্ডের ব্যবহার কিংবা চুলের সিঁথি পরিবর্তনের মাধ্যমে তা আড়াল করা যায়।
প্রয়োজনে আধা স্থায়ী বা স্থায়ী চুলের রং (হেয়ার ডাই) ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক মেহেদিও অনেকে চুলে ব্যবহার করেন। তবে তথাকথিত ‘ব্ল্যাক হেনা’ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এতে প্যারা-ফেনিলিনডায়ামিন নামক রাসায়নিক থাকতে পারে, যা ত্বকে তীব্র অ্যালার্জি করতে পারে।
ডা. পীযুষ পাল, সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল