স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ঘুমের এই অদ্ভুত পরিস্থিতির পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ দেখিয়েছেন
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা ঘুমের এই অদ্ভুত পরিস্থিতির পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ দেখিয়েছেন

সারা দিন ক্লান্ত লাগে, তবু রাতে ঘুম নেই? জেনে নিন ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্রের রহস্য

সারা দিন কাজের চাপে শরীর ভেঙে আসছে, দুই চোখে রাজ্যের ক্লান্তি। কিন্তু যেই না বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন, অমনি যেন ঘুম উধাও! উল্টো রাজ্যের চিন্তা আর হাজারো ভাবনা এসে ভিড় জমাল মাথায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ওয়্যারড–টায়ার্ড’ চক্র। অর্থাৎ শরীর ক্লান্ত হলেও মস্তিষ্ক তখনো জাগ্রত অবস্থায় থাকে। স্নায়ুবিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত পরিস্থিতির পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ দেখিয়েছেন।

১. কর্টিসল হরমোনের প্রভাব

আমাদের শরীরের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ আছে। দিনের বেলা সক্রিয় থাকার জন্য শরীর ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ করে এবং রাতে ঘুমের জন্য তৈরি করে ‘মেলাটোনিন’। কিন্তু সারা দিনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে রাতেও কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। ফলে শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক মনে করে, সে কোনো বিপদের মধ্যে আছে, যা আপনাকে ঘুমাতে দেয় না।

ঘুমানোর ঠিক আগে মুঠোফোনের ব্যবহার এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ

২. নীল আলোর কারসাজি

ঘুমানোর ঠিক আগে মুঠোফোন বা ল্যাপটপের ব্যবহার এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। এই ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ বা নীল আলো আমাদের মস্তিষ্কে ভুল সংকেত পাঠায় যে এখনো দিন ফুরোয়নি। ফলে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে ওঠে।

৩. ‘বেডটাইম প্রোকাস্টিনেশন’ বা চিন্তার পাহাড়

সারা দিন আমরা যখন কাজে ব্যস্ত থাকি, তখন নিজের মনের সঙ্গে কথা বলার সময় পাই না। বিছানায় যাওয়ার পর যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন মস্তিষ্ক সারা দিনের জমানো চিন্তা, আগামীকালের পরিকল্পনা কিংবা পুরোনো কোনো স্মৃতি নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু করে। এই অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা প্রি–ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সক্রিয় করে তোলে, যা ঘুমের পথে প্রধান বাধা।

কীভাবে এই চক্র থেকে মুক্তি পাবেন

স্নায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য তৈরি করতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি:

ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন।

নিয়মিত রুটিন: প্রতিদিন একই সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন, এমনকি ছুটির দিনেও।

৪–৭–৮ শ্বাস ক্রিয়া: ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নিন, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৮ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে জাদুর মতো কাজ করে।

ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: দুপুরের পর চা বা কফি এড়িয়ে চলুন। কারণ, ক্যাফেইনের প্রভাব শরীরে দীর্ঘ সময় থেকে যায়।

ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়; বরং মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্য এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় জৈবিক প্রক্রিয়া। তাই নিয়মিত ঘুমের এই লড়াইয়ে জয়ী হতে লাইফস্টাইলে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা জরুরি।
সূত্র: এমএসএন