কেউ বিষ খেলে পরিবারের সদস্য বা আশপাশের মানুষের মুখে প্রথম বলতে শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি পেট পরিষ্কার করাতে হবে!’
কেউ বিষ খেলে পরিবারের সদস্য বা আশপাশের মানুষের মুখে প্রথম বলতে শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি পেট পরিষ্কার করাতে হবে!’

বিষক্রিয়ায় পাকস্থলী কখন কত দ্রুত পরিষ্কার করাতে হয়

কেউ বিষ খেলে পরিবারের সদস্য বা আশপাশের মানুষের মুখে প্রথম বলতে শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি পেট পরিষ্কার করাতে হবে!’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব ধরনের বিষক্রিয়ায় পাকস্থলী (স্টমাক) পরিষ্কার তথা ওয়াশের প্রয়োজন হয় না; বরং ভুল সময়ে বা ভুল পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি বিপজ্জনকও হতে পারে।

স্টমাক ওয়াশ বা গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ হলো বিশেষ নল দিয়ে পাকস্থলীর ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করার চেষ্টা। উদ্দেশ্য হলো, বিষ শরীরে আরও শোষিত হওয়ার আগেই পাকস্থলী থেকে তা যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলা।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষ পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে চলে যায় এবং শরীরে শোষিত হতে শুরু করে। তাই সময় এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সময়

সাধারণত বিষ গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে রোগী হাসপাতালে এলে এবং বিষের পরিমাণ সম্ভাব্যভাবে প্রাণঘাতী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টমাক ওয়াশ বিবেচনা করতে পারেন।

তবে এটিকে কোনো ‘নির্দিষ্ট নিয়ম’ হিসেবে মনে করা যাবে না। রোগীর অবস্থা, কী বিষ খেয়েছেন, কতটা খেয়েছেন এবং কতক্ষণ আগে খেয়েছেন—সবকিছু বিবেচনা করা হয়।

কেন সব সময় করা হয় না

স্টমাক ওয়াশের কিছু গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। এতে—

  • খাবার বা পাকস্থলীর তরল ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে।

  • শ্বাসনালিতে খিঁচুনি

  • অক্সিজেন কমে যাওয়া

  • হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা

  • এমনকি গলা বা খাদ্যনালির আঘাতও হতে পারে

তাই রোগীর জ্ঞান কমে গেলে বা নিজের শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা না থাকলে, বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া স্টমাক ওয়াশ করা বিপজ্জনক।

কোন ক্ষেত্রে করা যাবে না?

অ্যাসিড বা ক্ষারজাতীয় ক্ষয়কারী পদার্থ পান করলে স্টমাক ওয়াশ করা উচিত নয়। এতে ক্ষত আরও বাড়তে পারে।

একইভাবে কেরোসিন বা উচ্চমাত্রায় ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকিযুক্ত হাইড্রোকার্বন পান করলেও সাধারণত এটি এড়ানো হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, বাড়িতে কখনো নিজে থেকে বমি করানো বা নল ঢুকিয়ে স্টমাক ওয়াশ করার চেষ্টা করবেন না।

এমন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কী বিষ, কতটা এবং কখন খাওয়া হয়েছে—এই তথ্য চিকিৎসককে জানান। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।