ভালো থাকুন

খেজুরের কাঁচা রস পান করা পরিহার করুন

নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ একধরনের জুনোটিক ডিজিজ। জুনোটিক ডিজিজ মানে যা প্রাণীর দেহ থেকে মানব শরীরে সংক্রমিত হয়। নিপাহ ভাইরাস সাধারণত বাদুড় থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। বাদুড় দ্বারা দূষিত খাবার বা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও এটি ছড়াতে পারে। শীতকালে ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয় বেশি। বাদুড় খেজুরগাছে বাঁধা হাঁড়ি থেকে রস খায়, রসের সঙ্গে বাদুড়ের লালা মিশে যায়। রস খাওয়ার সময় বাদুড় মলমূত্র ত্যাগ করলে রসে ভাইরাস সংক্রমিত হয়। বাদুড়টি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই রস পান করলে মানুষের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বাদুড়ে খাওয়া ফলমূলের অংশ খেলেও রোগ ছড়াতে পারে।

লক্ষণ কী

ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৫ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। জ্বর, মাথা ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, পেটব্যথা, বমি এবং মস্তিষ্কে এনসেফালাইটিস হয়ে প্রলাপ বকা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। বেঁচে যাওয়া অনেকেই স্মৃতি হারায় ও পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা কী

নিপাহ ভাইরাসের কোনো ওষুধ নেই। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয় এবং রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। সাপোর্টিভ চিকিৎসা দিতে হবে।

প্রতিরোধ: এ রোগের কোনো টিকা নেই। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা খুবই জরুরি।

১. খেজুরের কাঁচা রস পান করা উচিত নয়, টগবগ করে ফুটিয়ে তারপর ঠান্ডা করে পান করা যায়।

২. গাছ থেকে রস সংগ্রহের হাঁড়ি ঢেকে রাখতে হবে যেন বাদুড়ের লালা, মলমূত্র, রসের সঙ্গে মিশে না যায়।

৩. যাঁরা রস সংগ্রহ করেন, তাঁদের মাস্ক পরতে হবে, রস সংগ্রহের পর সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৪. ফলমূল পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। পাখি বা বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল খাওয়া যাবে না।

৫. আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, রোগীর পরিচর্যা করার পর সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে।

এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত রোগী বেড়ে গেছে। খেজুরের কাঁচা রস খেয়ে কারও জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

  • ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, ইমেরিটাস অধ্যাপক, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়