
ঘাড়ব্যথা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। কিন্তু অনেক সময় ঘাড়ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এমন এক সমস্যা সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি। এটি একটি গুরুতর স্নায়ুজনিত রোগ। ঘাড়ের মেরুদণ্ডের মাঝে যে স্পাইনাল কর্ড থাকে, তার ওপর সৃষ্ট চাপের ফলে এ সমস্যা তৈরি হয়।
স্পাইনাল কর্ড বা স্নায়ুরজ্জু (স্পাইনাল কর্ড) আমাদের মস্তিষ্কের ও শরীরের অন্যান্য অংশের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহায্য করে থাকে। তাই এতে সমস্যা হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথির অনেক কারণ রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হলো—জন্মগতভাবে স্পাইনাল ক্যানাল সরু থাকা, কোনো কারণে ঘাড়ে আঘাত পাওয়া, ডিস্ক প্রলাপস, ঘাড়ের মেরুদণ্ডের ক্ষয়, অস্টিওফাইট ইত্যাদি।
হাত-পায়ের পেশিতে দুর্বলতা অনুভব করা।
হাতের সম্পূর্ণ কাজে সক্ষমতার অভাব।
ভারসাম্যহীনতা অনুভব করা।
হাত বা পায়ে ঝিন ঝিন ভাব অনুভূত হওয়া।
ঘাড়ের ব্যথা বা ঘাড় শক্ত অনুভব করা।
গুরুতর ক্ষেত্রে মূত্র বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া।
হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া।
চিকিৎসা রোগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত নির্দিষ্ট ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিতে পারলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্পাইনাল কর্ডের চাপ বেশি থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়ে থাকে। সারভাইক্যাল মাইলোপ্যাথি একটি ধীরে ধীরে অগ্রসরমাণ রোগ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।
অনেক সময় দীর্ঘ সময় ভুল পজিশনে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ডিভাইস দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের কারণে এ ধরনের সমস্যা বাড়ে। সঠিক পদ্ধতিতে ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
দীর্ঘ সময় ডিভাইস ব্যবহারের সময় ঘাড় সোজা রাখতে হবে। ঘাড়কে সুরক্ষিত রাখতে হবে আঘাত থেকে। উঁচু বালিশ পরিহার করুন। মাথায় বেশি পরিমাণ ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
মো. সাইদুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, রিঅ্যাকটিভ ফিজিওথেরাপি সেন্টার। তাজউদ্দীন আহমদ অ্যাভিনিউ, সাতরাস্তা তেজগাঁও, ঢাকা