ঈদের আয়োজনে কিছু বিষয় খেয়াল না রাখলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ওই খাবার থেকেই
ঈদের আয়োজনে কিছু বিষয় খেয়াল না রাখলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ওই খাবার থেকেই

ঈদের সময় খাবার থেকে যেসব সমস্যা হতে পারে, সুস্থ থাকতে যা করবেন

দীর্ঘ একটা মাস সিয়াম সাধনার পর হুট করে ভারী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কেউ কেউ। তা ছাড়া লম্বা ছুটিতে গুরুপাক খাবার খেতে খেতে দীর্ঘমেয়াদি কিছু সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। খাবার থেকে কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে আর সুস্থ থাকতে কী করতে হবে, এসব বিষয়ে ঢাকার ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খানের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

সুস্বাদু খাবারদাবার ছাড়া কি আর উৎসব হয়? তাই তো ঘরে ঘরে ঈদের আয়োজনে সবাই চেষ্টা করেন সেরা খাবার প্রিয়জনের পাতে তুলে দিতে। খাবার হয়তো দারুণ, কিন্তু কিছু বিষয় খেয়াল না রাখলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ওই খাবার থেকেই।

পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত গ্যাস

অতিরিক্ত তেল বা মসলা দেওয়া খাবার কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার গ্রহণ করার কারণেই পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত গ্যাস হয়ে থাকে

উৎসবে ভূরিভোজের পর এ ধরনের সমস্যাই সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত তেল বা মসলা দেওয়া খাবার কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার গ্রহণ করার কারণেই পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত গ্যাস হয়ে থাকে। এমন সমস্যা এড়াতে রান্নার সময় এবং খাবার খাওয়ার সময় পরিমিতিবোধ বজায় রাখা জরুরি। আরও খেয়াল রাখবেন, খাবার এবং পানীয় গ্রহণের মাঝে অন্তত মিনিট কুড়ি সময়ের ব্যবধান থাকা প্রয়োজন।
আর এ ধরনের সমস্যা যদি হয়েই যায়, তখন কিন্তু নতুন করে গুরুপাক খাবার খাওয়ার সুযোগ নেই। বরং তখন বাধ্য হয়েই নিতান্ত হালকা তেল আর হালকা মসলায় রান্না করা খাবার খেতে হবে।
ঘরে টেলে নেওয়া জিরা দিয়ে তৈরি করা পানি বা টক দই দিয়ে তৈরি পানীয় খেলে আরাম পাবেন। প্রয়োজনে খাবার খাওয়ার আধঘণ্টা আগে গ্যাসের ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

পানি খাবেন পর্যাপ্ত

পোলাও জাতীয় পদ, মাংস, মিষ্টান্ন আর পানীয় ছাড়া অন্য খাবার কমই খাওয়া হয় উৎসবের দিনগুলোয়। কিন্তু শাকসবজি বা ফলমূলের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়ার কারণে এ সময় অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই উৎসব আয়োজনে এসব খাবার অবশ্যই রাখুন খাদ্যতালিকায়। পানি কম খাওয়ার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই পানি খাবেন পর্যাপ্ত। নানা রকম স্বাস্থ্যকর পানীয়ের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন। সবজির পদ রাখুন। রাখুন ফলের টুকরা দিয়ে তৈরি কোনো পদ। মনে রাখবেন, রস করে ফল খাওয়া হলে তা থেকে আপনি ফলের অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পেলেও আঁশ পাবেন না।

বমি, পাতলা পায়খানা ও পেটব্যথা

এ সময় দেখা দিতে পারে বমি, পাতলা পায়খানা বা পেটব্যথার মতো সমস্যা। খাবার প্রস্তুতকরণ, পরিবেশন এবং খাবার খাওয়ার সময় তাই সচেতন থাকুন। হাতের নখ ছোট রাখুন। পরিবেশন পাত্র, চামচ প্রভৃতি পরিষ্কার রাখুন। ডিনার ওয়াগনে উঠিয়ে রাখা শখের তৈজসপত্র নামানো হলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।মাংস এবং ডিম সঠিকভাবে সেদ্ধ করুন। আধা সেদ্ধ মাংসের পদ এড়িয়ে চলুন। ভাত বারবার গরম না করাই ভালো। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে দুধের তৈরি খাবার খেয়ে এ ধরনের সমস্যায় ভুগতে পারেন আপনি। দুধে অ্যালার্জি থাকলে এসব উপসর্গের পাশাপাশি আরও দেখা দিতে পারে চুলকানি, ফুসকুড়ি, কাশি; এমনকি শ্বাসকষ্টও। ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স কিংবা দুধে অ্যালার্জি থাকলে দুধের তৈরি খাবার এড়িয়ে চলাটাই সমাধান। বমি বা পাতলা পায়খানা হলে অবশ্যই ওরস্যালাইন খেতে হবে। তবে সমস্যার মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

উৎসবে রসনার তৃপ্তি মেটালেও সুস্থ থাকতে ক্যালরির দিকটা খেয়াল রাখতে হবে

ওজন বাড়ার ঝুঁকি

লম্বা ছুটিতে সুস্বাদু সব খাবার খেতে খেতে ওজন বেড়ে যেতে পারে সহজেই। এই সময় শরীরচর্চা কম হয়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। উৎসবে রসনার তৃপ্তি মেটালেও সুস্থ থাকতে ক্যালরির দিকটা খেয়াল রাখতে হবে অবশ্যই। উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার খুব বেশি পরিমাণে খাবেন না। সাধারণত এ ধরনের খাবার একজনের জন্য যে পরিমাণে করা হয়, তা দিয়ে অনায়াসেই একাধিক ব্যক্তির রসনার তৃপ্তি মিটে যায়। তাই এসব খাবার ভাগ করে নেওয়া ভালো। চিনি দেওয়া খাবার খাবেন খুব কম। সালাদজাতীয় পদ রাখুন খাদ্যতালিকায়। খানিকটা কায়িক শ্রমও করুন।