
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। স্মৃতি হারানো, মনোযোগে দুর্বলতা, শেখার গতি ধীর হওয়া—এসব চল্লিশের পর থেকেই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু গবেষণা বলে, সঠিক অভ্যাস ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে মস্তিষ্ককে তরতাজা রাখা সম্ভব।
১. মগজের ব্যায়াম
পাজল, শব্দ খেলা, মেমোরি গেম, নতুন দক্ষতা শেখা—এসব মস্তিষ্ককে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ফলে নিউরোলজিক্যাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়। যেমন দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য খুব ভালো ব্যায়াম।
২. শারীরিক ব্যায়াম
হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং—কার্ডিও কার্যকলাপ মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতা উন্নত করে।
৩. স্বাস্থ্যকর খাবার
ফল, সবজি, বাদাম, ওমেগা-৩–সমৃদ্ধ খাবার—এসব মস্তিষ্ককে পুষ্টি জোগায়, প্রদাহ কমায়।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম
গভীর ঘুমে মস্তিষ্ক বর্জ্য পদার্থ (অপ্রয়োজনীয় স্মৃতি, ক্ষতিকর প্রোটিন) বের করে দেয়। স্মৃতি সুন্দরভাবে গুছিয়ে সংরক্ষণে সাহায্য করে।
৫. সামাজিক জীবন
বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময় মানসিক চাপ কমায়। মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখে।
৬. স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ
ধ্যান, শ্বাস-ব্যায়াম বা রিল্যাক্সেশন মেথড মেজর স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখে।
৭. নতুন কিছু শেখা
নতুন ভাষা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ইউটিউব দেখে নতুন কোনো রান্না বা প্রযুক্তি শেখা মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল সংযোগ তৈরি করে, যা স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়ায়।
৮. রুটিনে বৈচিত্র্য আনা
প্রতিটি দিন যাতে একই রকম একঘেয়ে না হয়ে যায়, সে জন্য সেখানে বৈচিত্র্য আনুন। রং যোগ করুন। যেমন হতে পারে নতুন পথে হাঁটা, ভিন্ন হাতে কাজ করা বা নতুন জায়গায় যাওয়া। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। মাঝেমধ্যে বাজার থেকে ক্যানভাস আর রংতুলি এনে পেইন্টিং করাও শুরু করে দিতে পারেন। এতে আক্ষরিক অর্থেই আপনার দিনে যুক্ত হবে নতুন রং। এসবে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।
৯. দীর্ঘ সময় শুয়ে–বসে না থাকা
একটানা বসে থাকা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন কমায়। প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর উঠে ১০–১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে উপকার পাওয়া যায়।
১০. পর্যাপ্ত পানি খাওয়া
ডিহাইড্রেশন মনোযোগ কমায়, ক্লান্তি ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। দিনে পর্যাপ্ত পানি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
১১. শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির যত্ন
কানে কম শোনা বা চোখে কম দেখা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপ বাড়ায়। মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রয়োজনে চশমা বা হিয়ারিং এইড ব্যবহার করুন।
১২. মাছ, গাছ বা পোষা প্রাণীর যত্ন
মানুষ বাদে যেসব প্রাণীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ুন। গাছ, মাছ বা পোষা প্রাণীর যত্ন নিন। প্রতিদিন একটু একটু করে ডায়েরি লিখতে পারেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার সেই স্মৃতিকথাই হতে পারে অমূল্য সম্পদ। যেকোনো একটা আনন্দদায়ক শখকে রাখুন নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে। মানসিকভাবে ফুরফুরে থাকুন।
দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক চিন্তা স্মৃতি ও মনোযোগে প্রভাব ফেলে। কৃতজ্ঞতা চর্চা, প্রার্থনা ইতিবাচক চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বয়সের ক্যালেন্ডারে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল ও থাইরয়েড সমস্যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট