
অনেকেই ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পান। তখন কারও ইচ্ছা হয় পবিত্র হজ পালন করার। কিন্তু উদ্বেগ কাজ করে, ‘আমি কি হজে যেতে পারব?’ উত্তর হলো—যেতে পারবেন, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
প্রথম কথা, নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি ক্যানসারের চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়ে থাকে এবং আপনি এখন ভালো অবস্থায় থাকেন, তাহলে হজে যাওয়া আপনার জন্য নিরাপদ। তবে কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি চলমান থাকলে তাড়াহুড়া না করে কিছুদিন অপেক্ষা করাই ভালো। হজ করতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিন। মানসিক প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
হজ পালনের সময় অনেক হাঁটাহাঁটি করতে হয়, ভিড়ের মধ্যে থাকতে হয়, আর আবহাওয়া থাকে খুব গরম। তাই আগে থেকেই নিজের সক্ষমতা বুঝে পরিকল্পনা করা দরকার। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে কাজগুলো করতে পারেন, বারবার বিশ্রাম নিতে পারেন, এমনকি হুইলচেয়ারও ব্যবহার করতে পারেন।
আরেকটি বড় বিষয় হলো সংক্রমণ থেকে বাঁচা। হজে লাখ লাখ মানুষের ভিড় হয়, তাই সর্দি-কাশি বা ফ্লু সহজেই ছড়ায়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। যেমন বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন। বারবার হাত ধুয়ে নিন বা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। অসুস্থ লোক থেকে একটু দূরে থাকুন। আপনি যে নিয়মিত ওষুধ খান, তা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঙ্গে নিন। প্রেসক্রিপশন এবং রোগের একটি ছোট ইংরেজি বিবরণ সঙ্গে রাখলে জরুরি সময়ে সুবিধা হবে।
গরমের কারণে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই বেশি বেশি পানি পান করুন। রোদে বের হলে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করুন। খুব ক্লান্ত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিন।
শেষ কথা
ক্যানসার জয় করে যাঁরা নতুন জীবন পেয়েছেন, তাঁদের জন্য হজ হতে পারে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক অসাধারণ সুযোগ। সঠিক প্রস্তুতি, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এই পবিত্র যাত্রা নিরাপদ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।