লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা ক্ষতিকর। এ সমস্যা প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের অন্যতম প্রধান উপায় হলো ওজন নিয়ন্ত্রণ। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণ খুব একটা সহজ কাজ নয়। অতিরিক্ত কঠোর নিয়মকানুন মানতে গেলেও মুশকিলে পড়তে হয়। বরং সাদামাটা কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণের পথে যাত্রা শুরু করতে পারেন নতুন বছরে।
আঁশ হজম হয় ধীরে। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে ক্ষুধা লাগে না অনেক সময়। তাই তুলনামূলক কম ক্যালরি গ্রহণ করেও আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত। শাকসবজি রাখতে পারেন থালার অর্ধেকটা জুড়ে। সাদা আটা বা সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল, লাল আটা, ওটস, যব খেতে পারেন। ময়দা এড়িয়ে চলুন।
এক কাপ চা কিংবা কফিতে মেশানো আধা চা–চামচ চিনিই আপনার ওজন কমাতে না পারার কারণ হতে পারে। শরবত বা জুসের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তেমনই। এসব পানীয়তে লুকানো চিনি ক্ষতিকর। চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন চিনি ছাড়াই।
অল্প অল্প করে কমিয়ে আনুন চিনির পরিমাণ। পিঠা, পায়েস, পুডিং, কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট, কুকি প্রভৃতি খাবারেও চিনি থাকে। বিষয়টা খেয়াল রাখুন। ডেজার্ট হিসেবে বরং ফলমূল খেতে পারেন। টক দই দিয়েও মজাদার স্ন্যাকস তৈরি করতে পারেন। মনে রাখা প্রয়োজন, বাদামি চিনি, মধু, গুড়—কোনোটিই কিন্তু চিনির বিকল্প হতে পারে না। আর কৃত্রিম চিনিও এড়িয়ে চলা উচিত।
সকালের নাশতায় আমিষ রাখা ভালো। ডিম, দুধ, টক দই প্রভৃতি দিয়ে তৈরি করা খাবার খেতে পারেন সকালে। নাশতায় পর্যাপ্ত আমিষ গ্রহণের অভ্যাস করলে দুপুরের খাবারের আগে শিঙাড়া, সমুচা, পুরি বা বিস্কুটের মতো স্ন্যাকস গ্রহণের প্রবণতা কমে আসবে।
সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করুন। শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লেও অনেক সময় ক্ষুধা লেগেছে ভেবে আমরা ভুল করি। পানির সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। ডিটক্স পানি খেতে পারেন। স্যুপ কিংবা অন্যান্য তরল খাবার খেতে পারেন, যাতে চিনি নেই। পানিসমৃদ্ধ ফল এবং সবজি খেতে পারেন। আম, তরমুজ এবং অন্যান্য রসালো ফল, টমেটো, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল প্রভৃতি খেতে পারেন।
সময়মতো খাবার খাওয়া এবং ঘুমানোর অভ্যাস করুন। রাতের খাবার সেরে নিন যত দ্রুত সম্ভব। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমান। রাত জাগার অভ্যাসের কারণেও ওজন বাড়তে পারে। রাতে ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরি করুন। এড়িয়ে চলুন ডিজিটাল স্ক্রিন।
সূত্র: ওয়েবএমডি