
বিশ্বের প্রথম আইভিএফ বেবি লুইস ব্রাউন জন্ম নেয় ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই, ইংল্যান্ডের একটি হাসপাতালে। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য যুগান্তকারী একটি মাইলফলক। এ কারণে প্রতিবছর ২৫ জুলাইকে বিশ্বজুড়ে আইভিএফ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, আইভিএফ পদ্ধতির অন্যতম আবিষ্কারক রবার্ট জি এডওয়ার্ডসকে ২০১০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
বাংলাদেশের প্রথম আইভিএফ বেবি হীরা, মণি ও মুক্তা জন্ম নেয় ২০০১ সালে। আর প্রথম হিমায়িত ইকসি বেবি অপ্সরা জন্মগ্রহণ করে ২০০৮ সালে। বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই এ ধরনের চিকিৎসার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। বেসরকারিভাবে এর ব্যয় বেশ বেশি।
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের সংক্ষিপ্ত রূপ আইভিএফ। এ চিকিৎসায় নারীর ডিম্বাশয় (ওভারি) থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণুর সঙ্গে নিষিক্ত করা হয়। তারপর মানবভ্রূণটিকে ইনকিউবেটরে প্রস্তুত করা হয়।
উপযুক্ত সময়ে মাতৃগর্ভে একে প্রতিস্থাপন করা হয়। পরে ভ্রূণ মাতৃগর্ভেই প্রসব পর্যন্ত বড় হয়। প্রসব ও জন্মদান প্রক্রিয়া অন্যান্য মানবশিশুর মতোই হয়।
বন্ধ্যত্বের সব চিকিৎসা ব্যর্থ হলে
৩ থেকে ৬ সাইকেল আইইউআই চিকিৎসায় সফলতা না পেলে
দম্পতির বয়স যদি বেশি হয়, বিশেষত নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলে
ডিম্বাণুর স্বল্পতা থাকলে
শুক্রাণুর সংখ্যা, নড়াচড়া বা গঠনগত সমস্যা থাকলে
এমনকি বীর্যে শুক্রাণু না থাকলে অণ্ডকোষ থেকে সংগ্রহ করে এ চিকিৎসা করা সম্ভব।
ফেলোপিয়ান টিউব বন্ধ থাকলে বা কোনো কারণে দুটি টিউব কেটে ফেলতে হলে
সহবাসে অক্ষমতা থাকলে
তীব্র মাত্রার এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলে
বারবার গর্ভপাতের রোগীদের ক্ষেত্রেও আইভিএফ প্রযোজ্য হতে পারে
আইভিএফ চিকিৎসায় ডিম্বাণু ও শুক্রাণু নিজেরা মিলিত হয় এবং ল্যাবরেটরিতে প্রাকৃতিকভাবেই নিষিক্ত হয়।
ইকসি পদ্ধতিতে প্রতিটি ডিম্বাণুতে ইনজেকশনের মাধ্যমে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং নিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি থাকে। এটা আইভিএফের চেয়ে আধুনিকতর চিকিৎসা।
তবে এই চিকিৎসায় খরচ কিছুটা বেশি এবং এম্রায়োলজিস্টের বেশি দক্ষতার প্রয়োজন। ইকসির সফলতার হার আইভিএফের চেয়ে সামান্য বেশি হতে পারে।
আইভিএফ বা ইকসির মতো চিকিৎসায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ সফলতা স্বামী-স্ত্রীর অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
ডা. শাহীনা বেগম, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, আইভিএফ ও ইনফার্টিলিটি, বিআরবি হাসপাতাল