পুষ্টিগুণে শজনে পাতা অনন্য। আবার শজনেডাঁটার উপকারিতার কথা কারও অজানা নেই। তবে সবার জন্য সব খাবার উপযোগী নয়।
খাবার হিসেবে শজনেডাঁটা বহুল প্রচলিত। পুষ্টিগুণেও শজনেডাঁটা দারুণ। তবে ইদানীং শজনেপাতার উপকারিতা জানার পর থেকে অনেকেই এখন পাতা খাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী হচ্ছেন।
ডাঁটা নাকি পাতা, আদতে শজনের কোন অংশটি উপকারী জানতে চেয়েছিলাম টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান এবং পুষ্টিবিদ, অধ্যাপক শম্পা শারমিন খানের কাছে। তিনি বললেন, শজনেডাঁটা আর শজনেপাতা দুটিই উপকারী। দুটিই সুষম খাদ্যতালিকায় স্থান পাবে। তবে পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পার্থক্য আছে। আর খেয়াল রাখতে হবে, পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও সব খাবার সবার জন্য উপযোগী নয়।
শজনেডাঁটায় আঁশের পরিমাণ পাতার চেয়ে অনেক বেশি। যদিও অনেক সময়ই ডাঁটার পুরোটা চিবিয়ে গিলে ফেলা সম্ভব হয় না, তবু পাতার চেয়ে ডাঁটাতেই মেলে বেশি আঁশ। আঁশ যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে সাহায্য করে, তেমনি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও কাজে আসে।
শজনেডাঁটার আরও একটি বড় সুবিধা হলো এর পিচ্ছিল অংশ। উদ্ভিদের এই পিচ্ছিল অংশ হলো এডিবল গাম (ভোজ্য গাম)। কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে এই উপাদান দারুণ কাজে আসে। শজনেপাতায় এ ধরনের উপাদান নেই। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে আপনার জন্য শজনেপাতার চেয়ে ডাঁটাই বেশি কাজে আসবে। তা ছাড়া ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ উপাদানগুলো শজনেপাতার চেয়ে শজনেডাঁটাতেই কিছুটা বেশি থাকে।
শজনেপাতায়ও আঁশ আছে, যদিও ডাঁটার চেয়ে পরিমাণে কম। তবে এই আঁশ থেকেও কিছুটা উপকার মিলবে। তবে শজনেপাতার মূল উপকার মেলে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থেকে। এতে ডাঁটার চেয়ে অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকে। ভিটামিন সি অবশ্য রান্নার সময় নষ্ট হয়ে যায়। তবে অন্যান্য অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট বেশ ভালো পরিমাণেই পাবেন। অ্যান্টি–অক্সিডেন্টজাতীয় উপাদান দেহকে ভেতর থেকে সুস্থ এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে, দীর্ঘদিন পর্যন্ত তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আর যাঁদের অতিরিক্ত আঁশ খেলে হজমের সমস্যা হয়, তাঁদের জন্য শজনেডাঁটার চেয়ে শজনেপাতা বেশি ভালো।
আপনার খাদ্যতালিকায় কোনো দিন শজনেডাঁটা, কোনো দিন পাতা—এভাবে রাখতে পারেন। তবে উপকারী বলেই যে এসব খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ভালো, তা কিন্তু নয়। খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে যেকোনো খাবারই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খেয়াল রাখবেন, শজনেডাঁটায় যে বীজ থাকে, তা কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শের বাইরে অন্য কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয়, তা সেটি যত উপকারী খাবারই হোক না কেন।