অলিভ অয়েল খেতে কেন উৎসাহ দিচ্ছেন আধুনিক গবেষকেরা

ইতিহাস বলছে, প্রাচীন রোমানরা বছরে ২০ লিটার অলিভ অয়েল খেত। অর্থাৎ রোজ প্রায় চার টেবিল চামচের মতো। এ যুগে মেডিটেরানিয়ান বা ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েটেও রোজ মোটামুটিভাবে এই পরিমাণ অলিভ অয়েল রাখার নিয়ম। ধারণা করা হয়, এভাবে এড়ানো যায় মস্তিষ্কের বার্ধক্য। এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন–এর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

ইতিহাস বলছে, প্রাচীন রোমানরা বছরে ২০ লিটার অলিভ অয়েল খেত
অলিভ অয়েল

জীবনধারণের জন্য রোজ নানা জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া ঘটতে থাকে আমাদের দেহের ভেতর। তৈরি হয় রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিশিস (আরওএস)। এসবের প্রভাবে বয়সের ছাপ পড়ে ত্বক ও দেহের ভেতরের নানা অংশে, এমনকি মস্তিষ্কে। আবার প্রদাহের কারণেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে ও দেহে।

কী আছে অলিভ অয়েলে

অলিভ অয়েলে যে ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, তা স্বাস্থ্যকর। এই তেলে থাকে নানান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সুরক্ষা দেয় আরওএসের প্রভাব থেকে। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়। এভাবে মস্তিষ্ক ও দেহে বয়সজনিত পরিবর্তনগুলোকে ধীর করে তুলতে পারে অলিভ অয়েল।

এ ছাড়া খাবারের ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে এবং লুটিন নামক পুষ্টি উপাদান শোষণের জন্যও কিছুটা তেল প্রয়োজন। অলিভ অয়েল থেকে সেই উপকারও পাওয়া যায়। এই চার পুষ্টি উপাদানও মস্তিষ্কের বুড়িয়ে যাওয়া রোধে সাহায্য করে।

স্মৃতিভ্রমের অন্যতম কারণ আলঝেইমারস ডিজিজ। এ রোগে মস্তিষ্কে জমা হয় ক্ষতিকর টাউ প্রোটিন। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল গ্রহণ করার অভ্যাস থাকলে তা এই টাউ প্রোটিন জমা হওয়া প্রতিরোধ করতে পারে।

যেভাবে খাবেন

অলিভ অয়েলের এত সব উপকারিতা গবেষণার তথ্য দিয়ে প্রমাণিত। তবে এ দেশে প্রচলিত অধিকাংশ খাবারই অলিভ অয়েল দিয়ে রান্না করা উচিত নয়। কারণ, এই তেল বেশ কম তাপমাত্রায়ই ভেঙে যায় আর তৈরি হয় ক্ষতিকর উপাদান।

তাই অলিভ অয়েল খেতে পারেন কাঁচা অবস্থায়। কিংবা এমন পদ রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন, যা কম তাপে এবং মিনিট দশেকের মধ্যেই হয়ে যায়। সালাদ বা ভর্তা মাখাতে কিংবা ডিম পোচ বা ডিম ভাজি তৈরির সময় অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়।

সতে (সাঁতলানো পদ) করতেও অলিভ অয়েল দারুণ। চাইলে বিভিন্ন রান্নায় বাগাড় দেওয়ার সময়ও এই তেল কাজে লাগানো যায়।

সালাদ বা ভর্তা মাখাতে কিংবা ডিম পোচ বা ডিম ভাজি তৈরির সময় অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায়

তবে ভুলে যাবেন না…

যত স্বাস্থ্যকরই হোক, সারা দিনে সব ধরনের তেল মিলিয়ে চার-পাঁচ টেবিল চামচের বেশি তেল খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। অন্য তেল বেশি খেলে অলিভ অয়েলের পরিমাণ কমাতে হবে হিসাব–নিকাশ করে।

কেবল অলিভ অয়েলই নয়; গাঢ় সবুজ রঙের পাতা, নানান রকম বাদাম ও ডাল, শিম, মটর প্রভৃতিও মস্তিষ্কের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই বেশি পরিমাণে এসব খাবার খেয়ে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল খেলেও উপকার মিলবে।

রেড মিট বা লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেলে অলিভ অয়েলের সব উপকার না-ও পেতে পারেন।

শরীর ও মস্তিষ্কের সুস্থতায় শরীরচর্চার বিকল্প নেই।

কেনার সময় খেয়াল রাখুন

যত স্বাস্থ্যকরই হোক, সারা দিনে সব ধরনের তেল মিলিয়ে চার-পাঁচ টেবিল চামচের বেশি তেল খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়
  • এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সবচেয়ে বেশি উপকারী।

  • মানসম্মত ব্র্যান্ডের অলিভ অয়েল বেছে নেওয়া উচিত।

  • ‘ফার্স্ট কোল্ড প্রেসড’ বা ‘কোল্ড প্রেসড’চিহ্নিত অলিভ অয়েল ভালো।

  • এমন অলিভ অয়েল বেছে নিন, যেটির ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ একটিই, একাধিক নয়।