
ঘাড়ব্যথা এখন আর বয়সভিত্তিক সমস্যা নয়। মুঠোফোন, কম্পিউটার, দীর্ঘ সময় গাড়িতে বা বিমানে যাতায়াত, যানজট—সব মিলিয়ে অল্প বয়স থেকেই অনেক মানুষ ঘাড়ব্যথায় ভুগছেন। এই ব্যথা কমাতে অনেকে নিজের ইচ্ছেমতো সফট সার্ভিক্যাল কলার বা গাড়িতে ব্যবহৃত নেক পিলো ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সব ঘাড়ব্যথায় কি এগুলো দরকার? ভুলভাবে ব্যবহার করলে কি ক্ষতি হতে পারে?
সফট সার্ভিক্যাল কলার হলো নরম ফোমের তৈরি একটি বস্তু, যা ঘাড়ে পরানো হয়। এটি ঘাড়ের নড়াচড়া কিছুটা কমিয়ে মাংসপেশিকে সাময়িক বিশ্রাম দেয়। হঠাৎ তীব্র ঘাড়ব্যথা, ঘাড়ে প্রচণ্ড টান বা মাংসপেশির সংকোচন, দুর্ঘটনা বা হঠাৎ ঝাঁকুনির পর ডিস্ক সমস্যার তীব্র ব্যথার সময় আর চিকিৎসকের পরামর্শে এটি পরতে হয়।
তবে হালকা বা পুরোনো ঘাড়ব্যথা শুধু এক্স–রে রিপোর্ট দেখে, প্রতিদিন নিয়ম করে বা দীর্ঘ সময় ধরে ও গাড়ি চালানোর সময় কলার পরা যাবে না। দিনে সর্বোচ্চ ২–৪ ঘণ্টার ও সাধারণত ৫–৭ দিনের বেশি পরবেন না। ঘুমানোর সময় পরার প্রয়োজন নেই। মনে রাখতে হবে, কলার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি স্থায়ী চিকিৎসা নয়।
নেক পিলো হলো ‘ইউ’ আকৃতির নরম বালিশের মতো, যা ঘাড়ের পেছনে সাপোর্ট দেয়। এর উদ্দেশ্য হলো, দীর্ঘ সময় বসে থাকার সময় ঘাড়ের ওপর চাপ কমানো। যাঁদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকতে হয়, তাঁরা পিলো ব্যবহার করতে পারেন। দীর্ঘ ভ্রমণে, যানজটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সময় ও যাঁদের গাড়ির ‘হেডরেস্ট’ ঘাড়ে ঠিকমতো সাপোর্ট দেয় না, তাঁরা ব্যবহার করতে পারেন।
নেক পিলো প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি এটি আরামদায়ক হয়, ব্যথা বা অস্বস্তি না বাড়ায় এবং ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। তবে ভুল ব্যবহারে ঘাড়ের মাংসপেশি দুর্বল, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, দীর্ঘ মেয়াদে ব্যথা বেড়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা হতে পারে।
সফট সার্ভিক্যাল কলার বা গাড়ির নেক পিলো কোনোটিই ঘাড়ব্যথার মূল চিকিৎসা নয়। এগুলো সহায়কমাত্র। ঘাড় ভালো রাখতে সবচেয়ে জরুরি সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও কাজ করা, নিয়মিত ঘাড়ের ব্যায়াম, দীর্ঘ সময় এক ভঙ্গিতে না থাকা। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা