
শিশুর দৈনিক কত ক্যালরি খাদ্যের প্রয়োজন, তা শিশুর বয়স, ওজন ও শারীরিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। নির্ভর করে শিশুর বেড়ে ওঠার প্রকৃতি ও ক্ষুধা থাকা-না থাকার ওপর।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রিয়াশীল রাখতে, বিপাক প্রক্রিয়ায় খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে, বাড়ন্ত শিশুর দৈহিক কাজ ও খেলার জন্য ক্যালরি প্রয়োজন। শিশু যদি উষ্ণ না থাকে, কাপড়চোপড়ের অভাবজনিত শীতলতায় ভোগে, তবে অকারণে অনেক ক্যালরি খরচ হয়।
মানবদেহে ক্যালরির খরচ ঘটে কয়েকটা খাতে, যেমন দেহ অভ্যন্তরে প্রধান প্রধান অঙ্গের কাজকর্ম সাধনে বেসিক মেটাবলিজম, দেহের তাপমাত্রা সুরক্ষা দিতে থার্মোরেগুলেশন, মাংসপেশি চালনার কাজে ও নতুন নতুন কোষকলা তৈরিতে শারীরিক বৃদ্ধি।
শিশুদের প্রয়োজনীয় ক্যালরি হিসাব করা হয় প্রতি কেজি ওজন হিসাবে। যেমন ০ থেকে ১২ মাস বয়সে ১১০-৮৫ কিলোক্যালরি, ১ থেকে ৩ বছর বয়সে ৯৫-৮৫ কিলোক্যালরি, ৩ থেকে ১২ বছর বয়সে ৮৫-৬০ কিলোক্যালরি।
অকালিক বা প্রিম্যাচিওর শিশুর জন্য প্রায় ১২০ কিলোক্যালরি প্রতিদিন দরকার। সুস্থ স্বাভাবিক নবজাতক প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধ পান করে এই প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি পায়।
প্রথম বছরে শিশুর দরকার দৈনিক ১০০০ কিলোক্যালরি। পরে ১০০০ কিলোক্যালরির সঙ্গে বয়সের বছর যোগ করে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরির পরিমাণ জানা যাবে। যেমন দুই বছরের শিশুর দৈনিক ১০০২ কিলোক্যালরি, ৪ বছরের শিশুর দৈনিক ১০০৪ কিলোক্যালরি।
বয়স চার পেরিয়ে গেলে শিশুর ক্যালরি চাহিদা হ্রাস পায়। জীবনের প্রথম মাসগুলোতে প্রতি কেজিতে যেটা ১১০-১২০ কিলোক্যালরি ছিল, সেটা বয়ঃসন্ধিতে এসে ৪০ কিলোক্যালরি হয়। অপুষ্ট শিশুর ক্যালরি চাহিদা তার বর্তমান উচ্চতা অনুযায়ী হিসাব করা হয়, বর্তমান ওজন ধরে নয়।
দেহে ক্যালরির প্রধান জোগানদাতা খাবার। প্রধান খাবারগুলো মূলত শর্করা, আমিষ, স্নেহ বা চর্বি—এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। শ্রেণিচরিত্রভেদে খাদ্য উপাদানের শক্তি জোগানোর ধরন একেক রকম। যেমন শর্করায় ৪ কিলোক্যালরি, আমিষ ৪ কিলোক্যালরি, স্নেহ বা চর্বি ৯ কিলোক্যালরি।
অপুষ্ট শিশুর খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত তেল বা মাখন যুক্ত করা এবং স্থূলকায় শিশুর খাদ্যতালিকায় অতিমাত্রায় চর্বি না রাখা বাঞ্ছনীয়।
মায়ের দুধ ও সুষম খাবারে ক্যালরি জোগানোর ধরন একই। যেমন ক্যালরির ৯-১৫ শতাংশ আসে আমিষ থেকে, ৩৫-৫৫ শতাংশ আসে শর্করা থেকে আর ৩৫-৪৫ ভাগ আসে চর্বি থেকে।