
অ্যাজমা বা হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এই রোগে প্রধানত ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালিগুলো আক্রান্ত হয়। প্রদাহের কারণে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। রোগীরা সাধারণত কাশি, শোঁ শোঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট ও বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতির মতো উপসর্গ নিয়ে আসেন। এসব উপসর্গ কখনো একসঙ্গে, কখনো আলাদাভাবে দেখা দিতে পারে।
অ্যাজমা যে কারও হতে পারে। তবে কিছু মানুষের ঝুঁকি বেশি থাকে। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে মা-বাবা বা ভাই-বোনের অ্যাজমা থাকলে ঝুঁকি বেশি হয়। যাঁদের অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত রোগ আছে, যেমন একজিমা বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। যাঁরা বেশি বায়ুদূষণ, ধুলা বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকেন।
শৈশবের শুরুর কিছু ঘটনা ফুসফুসের বিকাশকে প্রভাবিত করে ও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন কম ওজন নিয়ে জন্ম, সময়ের আগে জন্ম, তামাকের ধোঁয়া ও অন্যান্য বায়ুদূষণের সংস্পর্শ এবং ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ।
পরিবেশে উপস্থিত বিভিন্ন অ্যালার্জেন ও জ্বালাময় উপাদান অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ঘরের ভেতর ও বাইরের বায়ুদূষণ, গৃহস্থালির ধূলিকণা, ছত্রাক ও কর্মক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থ, ধোঁয়া বা ধুলার সংস্পর্শ। যেসব শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগেন, তাঁদের অ্যাজমার ঝুঁকি বেশি।
অ্যাজমা অ্যাটাক হলো এমন একটি অবস্থা, যখন শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয় এবং উপসর্গ দ্রুত গুরুতর হয়ে যায়।
শ্বাসকষ্ট দ্রুত বাড়া, রিলিভার ইনহেলার আগের মতো কাজ না করা বা বারবার প্রয়োজন হওয়া, কথা বলতে কষ্ট হওয়া বা পুরো বাক্য বলতে না পারা, হাঁটতে বা স্বাভাবিক কাজ করতে কষ্ট হওয়া, পিক ফ্লো রিডিং স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে বুঝতে হবে আপনার অ্যাজমা অ্যাটাক হয়েছে।
অ্যাজমার কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য অ্যাজমার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উন্নত রাখা এবং অ্যাজমার সংক্রমণ প্রতিরোধ করা।
অ্যাজমা নিয়ে জীবন যাপন করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বেশির ভাগ রোগী ভালো থাকতে পারেন।
যদি আপনার অ্যাজমা থাকে, তাহলে যতটা সম্ভব ট্রিগার বা উদ্দীপক কারণগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি। ট্রিগার শনাক্ত করুন। নিজের উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করে কোন পরিবেশ বা পরিস্থিতিতে সমস্যা বাড়ছে, তা লিখে রাখুন।
প্রয়োজনে অ্যালার্জি টেস্ট করান। অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলুন। যেসব জিনিসে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। যেকোনো ধরনের ধোঁয়া এড়িয়ে চলতে হবে। ঠান্ডা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউমোনিয়া ও ফ্লুর টিকা নিন। অ্যাজমার ওষুধ নিয়মিত নিন। উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
ডা. রওশন আরা খানম, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি বিভাগ, ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল