আধুনিক জীবনের ইঁদুরদৌড় আর প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে উদ্বেগ, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দেয়। সুস্থ থাকতে হলে আমাদের প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করা বা স্নায়ু শিথিল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, আমাদের শরীর যখন সারাক্ষণ ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মোডে থাকে, তখন শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় শরীরে। সুস্থ থাকতে চাইলে স্নায়ুকে শিথিল রাখার কোনো বিকল্প নেই । এ জন্য কিছু সহজ অভ্যাসের চর্চা আপনার স্নায়ুকে শিথিল রাখতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নিই, কী সেই অভ্যাস।
স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করার দ্রুততম উপায় হলো গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস। যখন আমরা দ্রুত ও অগভীর শ্বাস নিই, তখন মস্তিষ্ক মনে করে আমরা বিপদে আছি। এর বিপরীতে ‘বক্স ব্রিদিং’ বা ‘৪-৭-৮’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। ৪ সেকেন্ড নাক দিয়ে শ্বাস নিন, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং ৮ সেকেন্ড ধরে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এটি সরাসরি মস্তিষ্কের ভেগাস নার্ভকে উদ্দীপিত করে এবং শরীরকে শিথিল হওয়ার সংকেত পাঠায়।
স্নায়ুর সুস্থতায় সঠিক পুষ্টির ভূমিকা অপরিসীম। ম্যাগনেশিয়ামকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক ট্রাঙ্কুইলাইজার’ বা প্রশান্তিদায়ক খনিজ। এটি স্নায়ুর অতিসংবেদনশীলতা কমায়। নিয়মিত খাবারের তালিকায় কাঠবাদাম, পালংশাক, কলা ও ডার্ক চকলেট রাখুন। এ ছাড়া ভিটামিন বি কমপ্লেক্স স্নায়ুর আবরণ পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
অতিরিক্ত তথ্য ও স্ক্রিনের নীল আলো আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে সারাক্ষণ উত্তেজিত রাখে। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন। পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম স্নায়ুতন্ত্রকে ‘রিসেট’ বা পুনরায় সচল করতে সাহায্য করে। ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা স্নায়বিক প্রশান্তির জন্য সহায়ক।
প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট খোলা বাতাসে হাঁটা বা সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে আনে। যোগব্যায়াম বা ধ্যানের অভ্যাস স্নায়বিক উত্তেজনা প্রশমন করে এবং মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এমনকি হালকা গরম পানিতে গোসলও পেশি ও স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত চা, কফি বা চিনিযুক্ত পানীয় স্নায়ুকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত করলেও পরে তা ক্লান্তি ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। এর বদলে ভেষজ চা বা সাধারণ পানি পানের অভ্যাস করুন।
প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে ছোট ছোট এ অভ্যাসই আপনার জীবনকে করবে আরও শান্ত, স্থিত ও প্রাণবন্ত।