
শীত এলে বা আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে গেলে অনেকের হাত–পায়ের আঙুল হঠাৎ নীল, বেগুনি বা সাদা হয়ে যায়। সঙ্গে থাকতে পারে ঝিনঝিন ভাব, অবশ লাগা, কখনো হালকা ব্যথা। এটা স্বাভাবিক, নাকি কোনো রোগের লক্ষণ?
শীতে শরীর নিজের তাপ ধরে রাখতে হাত–পায়ের রক্তনালিগুলো সংকুচিত করে দেয়। ফলে আঙুলে রক্ত চলাচল কমে যায়। এতে অক্সিজেন কম পৌঁছায়, আর তখনই আঙুলের রং বদলে নীল বা বেগুনি হয়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়, এটা কিন্তু গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
রেনোড’স ডিজিজ: শীত বা মানসিক চাপের সময় আঙুলে রক্ত চলাচল হঠাৎ কমে যায়। লক্ষণগুলো হলো, প্রথমে আঙুল সাদা, পরে নীল, শেষে লাল বর্ণ ধারণ করে। হাত–পায়ের আঙুলে ঝিনঝিন ও ব্যথা করে। সাধারণত দুই হাতেই হয় এ সমস্যা।
অ্যাক্রোসায়ানোসিস: এ রোগে আঙুল প্রায় সব সময়ই নীলচে থাকে। তবে ঠান্ডায় বেশি চোখে পড়ে। ব্যথা কম বা প্রায় নেই বললেই চলে।
ডায়াবেটিস ও রক্তনালির রোগ: ডায়াবেটিস বা ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে রক্তনালি আক্রান্ত হয়। আঙুল নীল হওয়া, ঠান্ডা লাগা ও ক্ষত দেরিতে শুকানোর প্রবণতা থাকে।
চিলব্লেইনস: ঠান্ডা ও ভেজা পরিবেশে আঙুলে লাল–নীল ফোলা, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।
আঙুলে ঘা বা ক্ষত হলে, কালো রং ধারণ করলে, খুব বেশি ব্যথা হলে, এক হাত বা এক আঙুলেই সমস্যা বেশি হলে সতর্ক হতে হবে। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাত–পা উষ্ণ রাখতে হবে। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যামলোডিপিন বা নিফিডিপিন গোত্রের ওষুধ ও কিছু ক্ষেত্রে লো-ডোজ অ্যাসপিরিন ব্যবহার করা হয়। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন এই সমস্যায় অত্যন্ত উপকারী।
কুসুম গরম পানিতে হাত-পা ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
হাত মুঠো করে আবার খুলুন।
এক আঙুলে আরেক আঙুল ছোঁয়ান ও কবজি ধীরে ধীরে ঘোরান। দিনে ২-৩ বার এটা করতে হবে।
তোয়ালে দিয়ে আঙুল ঘষতে পারেন।
উলের দস্তানা (গ্লাভস) ব্যবহার করুন।
ঠান্ডা পানিতে হাত ধোবেন না। ফ্রিজ বা ঠান্ডা ধাতব জিনিস ধরার সময় গ্লাভস পরুন।
গোসলের পর হাত-পা ভালোভাবে মুছে মোজা পরুন।
শীত থেকে রক্ষায় সতর্ক থাকুন। গরম রাখুন শরীর। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। শীতে হাত-পায়ের আঙুল নীল হয়ে যাওয়া হতে পারে শরীরের কোনো জটিল সমস্যার প্রথম ইঙ্গিত। এমন ছোট ছোট সংকেতকেও আমলে নিতে হবে।