ঝকঝকে সাদা বিছানার চাদর, পরিপাটি করে সাজানো আসবাব আর বাতাসে হালকা সুবাস—একটি আদর্শ হোটেলরুমের দৃশ্যটা এমনই। সারা রাতের ক্লান্তিকর ভ্রমণ কিংবা সারা দিন নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি শেষে হোটেলরুমের সাদা বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়াই যেন একমাত্র শান্তি। তবে হোটেলরুমের এই ওপরের চাকচিক্যের আড়ালে কখনো কখনো লুকিয়ে থাকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

হোটেলের যেসব প্রয়োজনীয় জিনিস আমরা ব্যবহার করি, কখনো সেসব খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয় না। সময় স্বল্পতা, অতিথিদের অতিরিক্ত চাপ কিংবা অন্যান্য কারণে অনেক সময় বেশি ব্যবহৃত জিনিসগুলো জীবাণুসহ থেকে যায়।
ফলে আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ কিছু জিনিসই হয়ে ওঠে ব্যাকটেরিয়াদের আস্তানা।
আপনি কি জানেন, হোটেলের সবচেয়ে বিলাসবহুল রুমেও এমন ৮টি জায়গা বা জিনিস আছে, যা দেখতে পরিষ্কার হলেও আদতে প্রচুর ধুলাবালু ও জীবাণু বহন করে? জেনে নিন।
হোটেলরুমে ঢোকার পরপরই আমরা সাধারণত যে জিনিসগুলো প্রথমে হাতে নিই, তার মধ্যে টিভির রিমোট কন্ট্রোলার অন্যতম। মজার ব্যাপার হলো, এই জিনিসেই হোটেলের সেই অল্প কিছু জিনিসের একটি, যা প্রায় কখনোই জীবাণুমুক্ত করা হয় না।
বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসার কারণে একটি রিমোট কন্ট্রোলারে প্রচুর ময়লা এবং জীবাণু জমা হয়। তাই এটি ব্যবহার করার আগে স্যানিটাইজ করে নিন।
নিয়মিত রুম পরিষ্কার করা হলেও লাইট সুইচ সাধারণত কখনোই মোছা হয় না। অথচ অতিথিরা সুইচ বারবার স্পর্শ করার কারণে অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে বেশি জীবাণু জমা হয়।
বিছানার চাদর সাধারণত প্রত্যেক অতিথি চলে যাওয়ার পর ধুয়ে ফেলা হলেও বেডস্প্রেড (বিছানার ওপরের ভারী কভার) এবং আলংকারিক কুশন বালিশগুলো খুব কমই ধোয়া হয়।
ফলে এসব পরিষ্কার করার আগে বহুবার ব্যবহৃত হয় এবং প্রচুর ক্ষতিকারক উপাদান জমে থাকতে পারে। দেখতে খুব পরিপাটি লাগলেও এসব ব্যবহার করা এড়িয়ে চলাই ভালো।
হোটেলে রুম সার্ভিসকে ডাকা হোক, কিংবা খাবার অর্ডার করা, মাঝেমধ্যে হোটেলের ফোন ব্যবহার করতেই হয়। তবে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সাধারণত এটি পরিষ্কার করতে ভুলে যান।
ফোনের মাউথপিস (কথা বলার অংশ) এবং ডায়ালের বাটনগুলোয় সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমা হয়। কারণ, রুমে যেসব অতিথি আসেন, তাঁদের প্রায় সবাই ফোন ব্যবহার করেন।
বাথরুমের কমোড ও সিঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার করার হলেও বাথরুমের কলের হাতল কিংবা সিঙ্কের চারপাশ খুব একটা পরিষ্কার করা হয় না। তাই বাথরুমে বেশি স্পর্শ করা জায়গাগুলোয় জীবাণু থেকে যেতে পারে।
আবার বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ জীবাণু বেঁচে থাকার জন্য একদম উপযুক্ত জায়গা। নিয়মিত ব্যবহার এবং স্পর্শের কারণে এই জায়গাগুলো কমোড সিটের চেয়ে বেশি নোংরা হয়।
হেয়ার ড্রায়ার নিয়মিত ব্যবহার করা হলেও এটি খুব কমই পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত করা হয়। এর সুইচগুলোয় জীবাণু ছড়াতে পারে এবং এয়ার ভেন্ট বা বাতাস চলাচলের পথে ধুলাবালু ও ময়লা জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার করার সময় সাধারণত বিষয়টি অলক্ষ্যেই থেকে যায়।
হোটেলের পর্দা খুব কমই ধোয়া হয়। এসব ঘরের ভেতরের এবং বাইরের ধুলাবালু, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা এবং অন্যান্য দূষিত উপাদান আটকে রাখতে পারে। তাই আপনার অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে পর্দা খোলা বা বন্ধ করার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন।
কার্পেট, রাগ, সোফা এবং কাপড়ে মোড়ানো অন্যান্য আসবাবে পূর্ববর্তী অতিথিদের রেখে যাওয়া অনেক ময়লা এবং দূষিত উপাদান জমে থাকতে পারে। শুধু ভ্যাকুয়াম ক্লিন করলেই সাধারণত এসব আসবাব পরিষ্কার হয় না। এসব পরিষ্কার করার জন্য জীবাণুনাশক পদার্থ ব্যবহার করতে হয়, যা বেশির ভাগ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা করেন না।
হোটেলের এসব বিষয় জেনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরবর্তী ট্রিপে ব্যাগ গোছানোর সময় এক বোতল স্যানিটাইজার বা ওয়েট ওয়াইপস সঙ্গে নিন। বিছানায় সাজানো বালিশগুলো এক পাশে সরিয়ে রাখলে কিংবা ব্যবহারের আগে রিমোট কন্ট্রোলার কিংবা সুইচটা একটু মুছে নিলেই আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে অনেকটাই নিরাপদ।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট