
দেশে কৃমি সংক্রমণের হার অনেক বেশি। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে বস্তি ও গ্রামীণ অঞ্চলে কৃমির সার্বিক প্রকোপ প্রায় ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। যদিও ২০০৫ সালের আগে এটি ৮০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। সরকার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন প্রোগ্রামগুলো এই প্রকোপ কমাতে ভূমিকা পালন করেছে। কৃমির সংক্রমণ যে শুধু শিশুদের হয়, এমন নয়; বড়দেরও আক্রান্ত করতে পারে। কৃমি একজনের কাছ থেকে অন্যজনে ছড়ায়। এ জন্য পরিবারের সবার একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খেতে হয়।
খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া
বমি বমি ভাব
ওজন কমে যাওয়া
পেটে ব্যথা
ডায়রিয়া
খিটখিটে আচরণ
শিশুদের মলদ্বারে চুলকানি হওয়া এবং চুলকানির কারণে শিশুর ঘুম কমে যাওয়া
মেয়েশিশুদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে
কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি করে রক্তপাত ও রক্তশূন্যতা হতে পারে, কখনো পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে
বমি বা কাশি হতে পারে
কোনো কোনো ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না
নোংরা পরিবেশ
অনিরাপদ পানি খাওয়া
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
খালি পায়ে হাঁটা
অপরিষ্কার হাতে খাওয়া
কৃমির সংক্রমণ রোধে করণীয়
শিশুর নখ বড় রাখা যাবে না
নিয়মিত ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে হবে
শিশুকে খালি পায়ে না রাখাই ভালো
খাবার ও পানি যেন অবশ্যই পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ থাকে
খাওয়ার আগে এবং টয়লেটের পর সাবান দিয়ে ভালোমতো হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে
কৃমির সংক্রমণ হলে ওষুধের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। কৃমির সংক্রমণের উপসর্গ থাকুক আর না থাকুক, শিশু-কিশোরদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত। কিন্তু অনেকেই কৃমির ওষুধ খাওয়া নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করে ওষুধ খান না, এমনকি শিশুদেরও খাওয়াতে চান না।
দুই বছর বয়সের ওপর শিশুসহ পরিবারের সবাই প্রতি তিন-চার মাস অন্তর কৃমির চিকিৎসা নিলে কৃমির আক্রমণ থেকে সুরক্ষা সক্ষম। তবে অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মা এবং গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন, এমন নারী অথবা যাঁদের কৃমির ওষুধে অ্যালার্জি আছে, তাঁদের এই ওষুধ দেওয়া যায় না।
কৃমি দূর করতে তিন মাস পরপর একটি করে অ্যালবেনডাজল বড়ি খেতে হবে, কখনো প্রয়োজন হলে ৭-১৪ দিন পর আরও একটি বড়ি খেতে হতে পারে। মেবেনডাজল হলে পরপর তিন দিন দুই বেলা করে খেতে হবে। শিশুরা ট্যাবলেট না খেতে পারলে তাদের ওজন অনুযায়ী একইভাবে সিরাপ খাওয়াতে হবে। দুই বছরের নিচে কোনো শিশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১. খালি পেটে নাকি ভরা পেটে?
অনেকেই বিভ্রান্তিতে থাকেন, ওষুধ খালি পেটে খাবেন, নাকি ভরা পেটে। আদতে এটি নির্ভর করে কোন ওষুধটি খাচ্ছেন, তার ওপর। অ্যালবেনডাজল সাধারণত খাবারের সঙ্গে খেলে ভালো, মেবেনডাজল খাবারের সঙ্গে কিংবা খাবার ছাড়াও খাওয়া যাবে।
২. চিনি খেলে কৃমি হয়?
চিনি খেলে বা মিষ্টি খেলে কৃমি হবে—এই ধারণা সঠিক নয়। মিষ্টি বা চিনি খাওয়ার সঙ্গে কৃমির কোনো সম্পর্ক নেই।
৩. গ্রীষ্মে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়া যাবে?
গরমকালে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না কিংবা কৃমির ওষুধ খেলে সঙ্গে ভিটামিন ওষুধ খেতেই হবে—এমন ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই।
কুসংস্কার বা অজ্ঞতা নয়, কৃমির সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়ম মেনে ওষুধ খেলে আর সহজ কিছু উপায় মেনে চললে সহজেই কৃমি দূর করা সম্ভব।
লেখক: মেডিক্যাল অফিসার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল