লেবু পানির চমৎকার ৮ স্বাস্থ্যগুণ জানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ডায়েটিশিয়ান কাইলি বেনসলে এবং স্প্যানিশ স্লো লাইফ হাউসের পরিচালক ও পুষ্টিবিদ লোউরা পারাদা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানিতে এক টুকরো লেবু মিশিয়ে পান করুন। সুস্থ থাকার আলোচিত পরামর্শগুলোর একটি এটা। শুধু শরীর ‘ডিটক্স’ করা না, লেবু পানি খেলে আরও অনেক উপকার মেলে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ডায়েটেশিয়ান কাইলি বেনসলে বলেন, ‘শুধু পানিতে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ হয়। কিন্তু লেবুযুক্ত পানি খেলে শরীর ও মনে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অথচ পানিতে লেবু মেশানো খুবই সহজ একটি কাজ, যা সাধারণ পানিকে অসাধারণ করে তোলে।’
লেবু পানির চমৎকার ৮ স্বাস্থ্যগুণ জানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনপ্রিয় ডায়েটিশিয়ান কাইলি বেনসলে এবং স্প্যানিশ স্লো লাইফ হাউসের পরিচালক ও পুষ্টিবিদ লোউরা পারাদা।
লোউরা পারাদা বলেন, ‘সকাল সকাল শরীরের হজম প্রক্রিয়া শুরু করতে পানিতে এক টুকরো লেবু মিশিয়ে খাওয়া দারুণ অভ্যাস।’ এ ছাড়া, এটি অজীর্ণতা, হার্টবার্ন এবং পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। পেটে গ্যাসের সমস্যা ঠেকাতেও চমৎকার কাজ করে লেবুপানি।
লেবু পানি হজম প্রক্রিয়া সহজ করে। যে কারণে এটি সকালে খাওয়ার পর টয়লেটের সময়টাকে আরামদায়ক করে, কারণ লেবুপানি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া, লেবু ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
লেবু পানি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। কারণ লেবুর রসে ভিটামিন সি অনেক বেশি থাকে। এ ছাড়া লেবু ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন এনজাইম সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে, লেবুর মধ্যে এমন খনিজ থাকে যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি।
উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি ত্বকের কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। যে কারণে বয়স হওয়ার পরও ত্বকে কোনো ভাজ পড়ে না। কাইলি বেনসলে বলেন, ‘লেবুর খোসা ত্বকে অ্যান্টিএজিং সুবিধা দেয়। ত্বকের কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।’
প্রতিটি ব্যক্তির শরীরেই পর্যাপ্ত পানি দরকার হয়। লেবু পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। বিশেষ করে খালি পেটে সকালে লেবু পানি খাওয়ার অভ্যাস মেটাবলিজম বাড়ানোর করার একটি কার্যকর উপায়। লেবুর রস মেশানো পানিতে বাড়তি স্বাদ যোগ হয়, যে কারণে বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়।
লেবুর গন্ধ কেবল সুগন্ধিই নয়। ডায়েটেশিয়ান বেনসলে একটি নতুন গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে জানাচ্ছেন, অর্থোপেডিক সার্জারির রোগীদের লেবু ব্যবহার করে অ্যারোমাথেরাপি দিলে তাদের প্রিপ্রোসিডিউর উদ্বেগ কমে। এই গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, লেবু পানির গন্ধ নেওয়াতে ক্ষতির কিছু নেই।
কয়েকটি প্রাথমিক গবেষণার তথ্যমতে, লেবু পানি ওজন কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। লেবুর পলিফেনল ডায়েট-জনিত স্থূলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে সরাসরি লেবু পানি ওজন কমাতে কতটা প্রভাব রাখে তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিছু ধরনের কিডনির পাথর প্রতিরোধের জন্য লেবু পানি কার্যকর। নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মাউন্ট সিনাই মেডিকেলের জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক হিদার ভায়োলা বলেন, ‘লেবু পানি সাইট্রেট সমৃদ্ধ, যা ইউরিনের ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাথর তৈরির আশঙ্কা কমায়। ফলে লেবু পানি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে এবং পাথর তৈরির উপাদান হালকা হয়ে যায়।’
লেবুপানি ভালো। তবে কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে এটি এড়িয়ে চলতে হতে পারে। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে খাওয়া ভালো।
সূত্র: ভোগ