আলঝেইমারের প্রধান লক্ষণগুলো চিনে রাখুন

আলঝেইমার হলে যেকোনো কাজের প্রতিই আকর্ষণ কমে যাবে। মডেল: এলভিন।
ছবি: অধুনা

আলঝেইমার হলো মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগ। সচরাচর আলঝেইমার ডিজিজই ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিহ্রাসের সবচেয়ে বড় কারণ। আলঝেইমার একটি অগ্রগতিশীল রোগ। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্রেইনের আরও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। একে থামানো কঠিন।

আলঝেইমারের প্রধান লক্ষণ

স্মৃতিশক্তি লোপ

সাময়িকভাবে স্মৃতিলোপ পায়, যা স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটায়। যেমন, চেনা মানুষের নাম, চেনা মুখ, জায়গার নাম, পরিচিত টেলিফোন নম্বর ইত্যাদি ভুলে যাওয়া।

প্রতিদিনের কাজের বিভ্রান্তি

প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ করতে গিয়ে করতে না পারা। যেমন রান্না করা, বাতি জ্বালানো, টিভি চালানো এবং সাধারণ হাটবাজারের হিসাবনিকাশ করতে না পারা ইত্যাদি।

ভাষাগত সমস্যা

শিশুদের মতো এলোমেলো করে বাক্য বলা, অনেক সময় যা বোধগম্য হয় না।

সময় ও স্থান চিহ্নিত করতে অপারগতা

সময়জ্ঞান না থাকা। সকাল, বিকেল ও রাত বুঝতে না পারা। হারিয়ে যাওয়া বা রাস্তা হারিয়ে অন্যখানে চলে যাওয়া, বাড়ির রাস্তা খুঁজে না পাওয়া। বারবার রাস্তা ভুলে যাওয়া। পরিচিত জায়গায় এসেও চিনতে না পারা। বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা কমে যাওয়া, নিজের অবস্থানে থেকে কী কাজ করতে হবে, তা অনেক সময় বুঝতে না পারা। যেমন কোন অবস্থায় কী পোশাক পরবেন, রিকশায় উঠে কত ভাড়া দিতে হবে। অন্যমনস্ক হওয়া। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো একটা জিনিস দিয়ে কী করতে হবে, তা অনেক সময়ই বুঝে উঠতে না পারা।

জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা

নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র অদ্ভুত সব জায়গায় রেখে বেমালুম ভুলে যাওয়া।

মেজাজ ও স্বাভাবিক আচার-আচরণে পরিবর্তন

যখন-তখন মেজাজ পরিবর্তন হওয়া। খিটখিটে, রাগান্বিত হওয়া, দুর্ব্যবহার করা ইত্যাদি।

ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে ডিমেনশিয়ায় ভোগা ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। যেমন অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, সন্দেহপ্রবণতা বা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়া এবং ক্রমেই ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলা। বয়সের সঙ্গে কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলা, ক্লান্তিবোধ করা স্বাভাবিক, তবে এ ক্ষেত্রে যেকোনো কাজের প্রতিই আকর্ষণ কমে যায়।

ডিমেনশিয়া প্রধানত ৬৫ থেকে ৮৫ বছর বয়সে হয়। তবে, কম বয়সের লোকদেরও হতে পারে। পুরুষ বা মহিলা যে কারও ডিমেনশিয়া হতে পারে। বিজ্ঞানীরা ডিমেনশিয়ার সঙ্গে বংশগত সম্পর্ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। দেখা যাচ্ছে যে কিছু বিরল ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার জন্য দায়ী রোগগুলো বংশগত হতে পারে। কিছু লোকের নির্দিষ্ট ধরনের বংশগত গঠনের কারণে ডিমেনশিয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপন পদ্ধতি ডিমেনশিয়া থেকে হয়তো রক্ষা করে। বিশেষ করে ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ব্যায়াম, সচল জীবনযাপন এবং চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত।

অধ্যাপক ডা. এম. এস. জহিরুল হক চৌধুরী, ক্লিনিক্যাল নিউরোলজি বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট আব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা