ভালো থাকুন

বন্ধ্যত্বের কারণ না পাওয়া গেলে কী করতে হবে

সন্তানধারণের পরিকল্পনার পর কোনো কোনো দম্পতি অল্প সময়ের চেষ্টাতেই সফল হন। কারও আবার দীর্ঘ সময় লাগে। যাঁরা এক বছর জন্ম নিয়ন্ত্রণপদ্ধতির ব্যবহার ছাড়া চেষ্টা করেও সন্তানধারণে ব্যর্থ হন, তাঁদের ক্ষেত্রে এর কারণ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা–নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে বন্ধ্যত্বের কারণ নির্ধারণ করতে পারেন। সে অনুযায়ী দম্পতিদের চিকিৎসা দেন তাঁরা। প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণের জন্য ন্যূনতম কয়েকটি শর্ত পূরণ করা জরুরি। সেগুলো জেনে রাখা উচিত।

  • স্ত্রীর ডিম্বাণু তৈরি ও নিঃসরণ ঠিকঠাক হতে হবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলে ওভুলেশন।

  • দুটি ফেলোপিয়ান টিউবের অন্তত একটি খোলা থাকতে হবে। এই টিউব দিয়েই ডিম্বাণু, শুক্রাণু ও ভ্রূণ চলাচল করে এবং জরায়ুতে এসে ভ্রূণ প্রতিস্থাপিত হয়।

  • জরায়ুর ধারণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। জরায়ুর একেবারে ভেতরের আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) যেন ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত থাকে।

  • স্বামীর শুক্রাণু স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুসারে ‘সিমেন অ্যানালাইসিস’ (শুক্রাণু বিশ্লেষণ) করে এ রিপোর্ট করা হয়।

  • স্বামীর সহবাসের সক্ষমতা থাকতে হবে। সহবাসে অক্ষমতা থাকলে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু মিলিত হতে পারে না।

এসব শর্ত পূরণ করার পরও যদি কোনো দম্পতি এক বছরের মধ্যে সন্তানধারণে ব্যর্থ হন, তখন একে ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যত্ব বা ‘আনএক্সপ্লেইনড ইনফার্টিলিটি’ বলা হয়।

কী করণীয়

গবেষণা বলছে, ব্যাখ্যাহীন বন্ধ্যত্বে ভুগতে পারেন ১০ থেকে ৩০ শতাংশ দম্পতি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দুই বছর পর্যন্ত নিজেরা চেষ্টা করলে একসময় সফল হওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে শুধু ডিম্বাণু তৈরি হওয়ার ওষুধ না নিয়ে, এর পাশাপাশি আইইউআই (IUI) বা সরাসরি আইভিএফ /ইকসি (IVF/ ICSI) চিকিৎসা নিলে ফল ভালো পাওয়া যায়। সামর্থ্য থাকলে এ ধরনের চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

তবে ল্যাপারোস্কপি ও হিস্টেরোস্কপি অস্ত্রোপচার কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ ছাড়া জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন, সীমিত চা ও কফি পান এবং মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে পারলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • শাহীনা বেগম শান্তা, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি, বিআরবি হাসপাতাল