রোজকার খাবার হিসেবে মসুর ডাল দারুণ জনপ্রিয়। তুলনামূলক কম খরচে আমিষের দারুণ এক উৎস এই ডাল। তবে বছরের পর বছর ধরে একই ডাল খাওয়া কি শরীরের জন্য ভালো? টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খানের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম
মসুর ডালে আমিষ ছাড়াও আছে পর্যাপ্ত আঁশ। আরও আছে ফোলেট এবং পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক আর কপারের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। কিছুটা আয়রনও পাবেন। এসব উপাদানের সব কটিই আমাদের সুস্থ থাকার জন্য দরকার।
মসুর ডালে আঁশ থাকায় হজম হতে একটু সময় লাগে। তাই এই ডাল খাওয়ার পর সহজে ক্ষুধা লাগে না। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আপনি এই ডাল খেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পাতলা ডালে আঁশ এবং অন্যান্য সব পুষ্টি উপাদানের পরিমাণই কম থাকে। সে ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে উপকার মিলবে না। আরও মনে রাখা প্রয়োজন, এতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিডের কারণে বিভিন্ন খাবারের কিছু খনিজ উপাদান শোষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মসুর ডাল নিরাপদ খাবার। কাজেই একজন সুস্থ মানুষ বছরের পর বছর মসুর ডাল খেলেও ক্ষতির তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে—
মসুর ডালে থাকা আঁশ কারও কারও হজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হলে সুস্থ মানুষও এমন সমস্যায় ভুগতে পারেন।
কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কতটা মসুর ডাল খেতে পারবেন, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। নইলে কিডনিজনিত জটিলতা বাড়তে পারে।
যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে, তাঁদের জন্য মসুর ডাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
একজন সুস্থ ব্যক্তির আমিষের চাহিদা পূরণ করতে খুব পাতলা করে রান্না করা ডাল তেমন কাজে আসে না। বরং ঘন ডালে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে। তবে কিডনির রোগ বা ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার প্রবণতা থাকলে আবার পাতলা ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।
কেবল একধরনের ডাল থেকেই আপনি দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড পাবেন না। মসুর ডালের পুষ্টি বাড়াতে মসুর ডালের সঙ্গে অন্যান্য ডাল, বীজ কিংবা ডিম যোগ করে বিভিন্ন পদ তৈরি করতে পারেন। তাতে আমিষের পরিমাণ এবং গুণগত মান বাড়বে।
মসুর ডালের যেকোনো পদ তৈরি করার আগে ভিজিয়ে রেখে ওই পানি ফেলে দেওয়া ভালো। অন্তত দুই ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ডালের ফাইটিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে যায়। ফলে খনিজ উপাদান শোষণে আর বাধা থাকে না।
মসুর ডাল সেদ্ধ করার সময় প্রথম যে ফেনাটা হয়, তা ফেলে দেওয়া উচিত। তাতে ফাইটিক অ্যাসিড ও পিউরিনের মাত্রা কমে যাবে। পিউরিনের উপস্থিতি বেশি থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে।
মসুর ডালে খুব বেশি আয়রন থাকে না। যতটা থাকে, তা পেতে হলেও সঙ্গে ভিটামিন ‘সি’–জাতীয় খাবার গ্রহণ করা আবশ্যক।