
চা বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় পানীয়। চায়ের যেমন নানা ধরন আছে, স্বাদেও আছে বৈচিত্র্য। চিনির মতো কোনো উপাদান যোগ করা না হলে চায়ের ক্যালরির মাত্রা খুব কম। সেই হিসেবে চা স্বাস্থ্যকর পানীয়। তবে খাবারের পুষ্টি উপাদান শোষণ করার ক্ষেত্রে চা কিছুটা বাধার সৃষ্টিও করতে পারে। জেনে নেওয়া যাক, চা খেলে কী উপকার আর চায়ের ক্ষতিই-বা কী।
চা-পাতায় কিছু খনিজ উপাদান থাকলেও চা-পাতা প্রক্রিয়াজাত করার সময় এবং তা থেকে চা তৈরি করার সময় এসব খনিজ উপাদানের অনেকটাই চা থেকে হারিয়ে যায়। চায়ের পুষ্টি উপাদানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তা থেকে পাওয়া সতেজ অনুভূতি, অর্থাৎ ক্যাফেইনের প্রভাব। বিভিন্ন ধরনের চায়ে অবশ্য ক্যাফেইনের মাত্রা আলাদা। তবে যেকোনো চায়েই কফির চেয়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ কম। আবার ক্যাফেইন ছাড়াও চা হতে পারে।
চায়ের ক্যাফেইন মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। মানসিক চাপের মুহূর্তে আপনি একটুখানি প্রশান্তি পেতে পারেন এক কাপ চায়ে। উষ্ণ চা আপনার দেহকে উষ্ণ রাখে। শীতের দিনে আপনি চা খেয়ে শরীর কিছুটা গরম রাখতে পারবেন।
রক্তের সুগার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও চা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সেই ভূমিকা এমনও নয় যে, চা আপনার রক্তের সুগার বা কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধের বিকল্প হয়ে উঠবে।
অনেক বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কিছু সমস্যা হতেই পারে। অনিদ্রা, মাথাব্যথা, হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, হাত-পা কাঁপা এমনই কিছু সমস্যা। অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে ঘুমের গুণগত মানও নষ্ট হতে পারে। তবে চায়ের চেয়ে কফিতেই এসব সমস্যার ঝুঁকি বেশি।
দীর্ঘদিন ধরে চা খেতে থাকলে চায়ের ক্যাফেইনের প্রতি একধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। কোনো কারণে চা খাওয়া না হলে তখন খারাপ লাগতে পারে। মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা মেজাজ খিচড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে তখন।
তা ছাড়া চা খেলে বেশি প্রস্রাব হতে পারে। অর্থাৎ চা খেলে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যেতে পারে সহজে। সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা অন্যান্য তরল খাবার না খেয়ে যদি আপনি কেবল চা খেতে থাকেন, তাহলে পানিশূন্যতার ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন আপনি।
চায়ের ক্যাফেইনের কারণে অ্যাসিডিটিতে ভোগেন কেউ কেউ। চায়ে ট্যানিন নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এই উপাদান বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে কারও কারও পেটব্যথা বা বমিভাব হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইনও কারও কারও পেটব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দুধ-চা খেলেও অ্যাসিডিটি হয় কারও কারও।
তবে মূল সমস্যা হলো শরীরে আয়রন শোষণে বাধা। চায়ের ট্যানিন আমাদের খাবার থেকে আয়রন শোষণ হতে বাধা দেয়। বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আমরা যে আয়রন পাই, আয়রনের উপস্থিতিতে তা সঠিকভাবে শোষণ হয় না।
খালি পেটে চা খাবেন না।
সারা দিনে তিন কাপের বেশি চা খাবেন না। তাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা ট্যানিন গ্রহণের ঝুঁকি থাকবে না।
শেষ কাপ খাবেন বিকালের মধ্যেই। তাহলে ঘুমের সমস্যা কম হবে।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে চা খাবেন না। এসব খাবার এবং চায়ের মধ্যে অন্তত ঘণ্টা দুই ব্যবধান রাখুন।
চায়ে চিনি না নেওয়াই ভালো। মধু, গুড়, বাদামি চিনি বা কৃত্রিম চিনিকে সাদা চিনির নিরাপদ বিকল্প ধরে নেবেন না।
চায়ে দুধ দিতে চাইলে অল্প পরিমাণে দেওয়া ভালো।
সূত্র: ওয়েবএমডি, হেলথলাইন