হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি
হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি

হার্ট সুস্থ রাখার ৫ খাবার

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে সঠিক জীবনযাপন জরুরি। সঠিক জীবনযাপনের অন্যতম অংশ সঠিক খাদ্যাভ্যাস। করোনারি ধমনিতে চর্বি জমা হৃদ্‌রোগের অন্যতম কারণ। রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই হৃদ্বান্ধব খাবার বলতে মূলত কম লবণ, কম তেল–চর্বিযুক্ত ও চিনিমুক্ত খাবার বোঝায়। এর বাইরে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী।

তিসি বীজ

তিসি বীজ আঁশ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও লিগন্যানের একটি বড় উৎস। লিগন্যানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আঁশ রক্তের খারাপ চর্বি কমায়, ভালো চর্বি বাড়ায়। উচ্চ আঁশ থাকায় এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ফল ও তাজা শাকসবজি হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়

ফল ও শাকসবজি

ফল ও তাজা শাকসবজি হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়। পেঁপে, কমলা, আপেল ও বেরি–জাতীয় ফল অন্যতম। এসব ফল আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখে। যেসব খাবারে আঁশ বেশি, সেসব খাবার স্বাস্থ্যবান্ধব। ব্রকলি, গাজর, পালংশাক, ব্রাসেলস স্প্রাউট, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি, শিম, ফুলকপি ও ঢেঁড়স আঁশসমৃদ্ধ সবজি।

সামুদ্রিক ও তৈলাক্ত মাছ

সামুদ্রিক মাছে, বিশেষত তৈলাক্ত মাছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হৃৎযন্ত্রের সুরক্ষা দেয় এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। প্রতি ১০০ গ্রাম সামুদ্রিক মাছে ১০০০ মিলিগ্রামের বেশি ওমেগা-৩ থাকতে পারে। ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের খারাপ চর্বি কমিয়ে ভালো চর্বি বৃদ্ধি করে।  হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার জন্য সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন মাছ খাওয়া উচিত। সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও তৈলাক্ত সব মাছেই ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।

বাদাম হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী

বাদাম

বাদাম হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, আঁশ ও ভিটামিন ই শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ বাদাম খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং প্রদাহ হ্রাস পায়। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট খাওয়া উপকারী। এ ছাড়া বাদাম ভিটামিন ইর একটি দুর্দান্ত উৎস হওয়ায় এটি হৃৎপিণ্ডের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।

রসুন

রসুনে অ্যালিসিন নামক একটি পদার্থ আছে, যা রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে এবং ধমনির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট গুণও রয়েছে। আজকাল রসুনের ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। যদিও এগুলো ওষুধের বিকল্প নয়। তাজা রসুন বরং সাপ্লিমেন্টের তুলনায় বেশি উপকারী। কুচি করা রসুন ও সাপ্লিমেন্টে অ্যালিসিনের পরিমাণ কম, যা তাজা টাটকা রসুনে বেশি থাকে।

হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু ভালো খাবার খেলেই হবে না, হৃৎপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলো বাদ দিতে হবে। সরাসরি চিনি, গুড় বা উচ্চশর্করাযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। ট্রান্সফ্যাট–সমৃদ্ধ খাবার, ডুবোতেলে ভাজা খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া যাবে না। লবণ খেতে হবে কম।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল