প্রথম ছয় মাস বুকের দুধ খেলে শিশু সুস্থ থাকবে (ছবিটি প্রতীকী)
প্রথম ছয় মাস বুকের দুধ খেলে শিশু সুস্থ থাকবে (ছবিটি প্রতীকী)

নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়ানোর নিয়ম জানেন তো

অনেক সময় দেখা যায় শিশু মায়ের দুধ পাচ্ছে কিন্তু মুখে নিতে চাচ্ছে না, কান্নাকাটি করছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় মায়ের স্তনের বোঁটা ফেটে গেছে, শিশুকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছেন মা। মায়ের দুধ সঠিকভাবে খাওয়ানোর কিছু নিয়ম আছে, এটাকে বলা হয় ‘পজিশন অ্যান্ড অ্যাটাচমেন্ট’।

নবজাতকের জন্য মায়ের দুধ সবচেয়ে ভালো। যত বিকল্পই ভাবুন, মায়ের দুধের তুলনায় সেটা কিছুই না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের পরপরই দুধ খেতে না পারলে পরিবারের সদস্যরা অস্থির হয়ে পড়েন।

আর বিকল্প হিসেবে দ্রুত কৌটার দুধ খাওয়াতে শুরু করেন। তবে কৌটার দুধ শিশুর অনেক ক্ষতি করে। অন্যদিকে মায়ের বুকের দুধে মেলে নানা রকম পুষ্টি। অনেকের তা নিয়ে যেন সংশয়েরও শেষ নেই।

প্রতিবছরের মতো এবারও ১ থেকে ৭ আগস্ট মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। এই সময়ে জেনে নিন শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণা ও সঠিক উপায়।

পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনের দুটি চিত্র খুবই দেখা যায়। একটিতে মা–বাবা, স্বজনেরা উদ্বিগ্ন, শিশু তো দুধ পাচ্ছে না, সারা দিন কাঁদে। অস্থির হয়ে একসময় বোতলে ভরে কৌটার দুধ দিয়ে দেন।

কৌটার দুধ কিন্তু গরুর দুধ, আপনার শিশুর জন্য অনেক ক্ষতিকর। মায়ের বুকের দুধের জন্য একটু ধৈর্য ধরতে হয়, মাকে মানসিকভাবে সাহায্য করতে হয়।

আবার দেখা যায়, শিশু মায়ের দুধই খাচ্ছে কিন্তু সারা দিন অনেকবার পাতলা পায়খানা হচ্ছে। আত্মীয়স্বজন তো বলছেনই, কখনো কখনো ডাক্তারও বলছেন, ‘মায়ের দুধ শিশুর সহ্য হচ্ছে না।’ তাঁরা দুধ বন্ধ করে দিতে পরামর্শ দেন।

আসলে মায়ের দুধে বেশি করে ল্যাকটোজ থাকে, যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। ল্যাকটোজ থাকাতে শিশুর নরম পায়খানা হয়, এমনকি ২৪ ঘণ্টায় ২৪ বারও একটু একটু করে পায়খানা হতে পারে, এটা স্বাভাবিক।

শিশুকে দুধ খাওয়ানোর নিয়ম

শিশুকে দুধ খাওয়ানোর কিছু নিয়ম আছে

অনেক সময় দেখা যায় শিশু মায়ের দুধ পাচ্ছে কিন্তু মুখে নিতে চাচ্ছে না, কান্নাকাটি করছে। আবার অনেক সময় দেখা যায় মায়ের স্তনের বোঁটা ফেটে গেছে, শিশুকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছেন মা। মায়ের দুধ সঠিকভাবে খাওয়ানোর কিছু নিয়ম আছে, এটাকে বলা হয় ‘পজিশন অ্যান্ড অ্যাটাচমেন্ট’।

মা শিশুকে এমনভাবে কোলে নেবেন যেন শিশুর মাথা মায়ের হাতের কনুইয়ের ওপর থাকে। পুরো হাত দিয়ে শিশুর শরীরে সাপোর্ট দেবেন। শিশুর শরীর মায়ের দিকে ফেরানো থাকবে এবং শিশুর থুতনি মায়ের স্তন স্পর্শ করবে।

অন্য হাত দিয়ে মা তাঁর স্তনকে সাপোর্ট দেবেন। এখানে একটি কৌশল হলো স্তন ধরার ক্ষেত্রে ৪ আঙুল নিচে, বুড়ো আঙুল ওপরে থাকবে। এভাবে ধরলে স্তনের বোঁটা ও তার ওপরের কালো অংশ শিশুর মুখের ভেতর থাকবে। এতে করে শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাবে এবং মায়ের বোঁটা ফেটে যাবে না।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

সফলভাবে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে চাইলে তাকে মায়ের সঙ্গে একই রুমে, একই বিছানায় রাখতে হবে

শিশু সারা দিন ঘুমায়, রুচি কম: জন্মের পর শিশু ২২ ঘণ্টা ঘুমায়, এটা স্বাভাবিক। ঘুম থেকে তুলে শিশুকে খাওয়াতে চেষ্টা করবেন না। অনেক ডাক্তারও বলেন ২ ঘণ্টা পরপর দুধ খাওয়াতে। আমি বলব—না, অপেক্ষা করুন। শিশু ঘুম থেকে উঠে হাত–পা নাড়বে, মুখে আঙুল দেবে, বোঝাবে আমি ক্ষুধার্ত, তখনই খেতে দেবেন। সে যতই ছোট হোক না কেন, তাকে বুঝতে চেষ্টা করুন।

শিশু কেন এত কাঁদে: শিশু দুধ পাচ্ছে না, এই অভিযোগ নিয়ে অনেক সময়ই মা–বাবা ডাক্তারের কাছে যান। শিশু কেন এত কাঁদে, তাঁরা বুঝতে পারেন না। মনে রাখবেন শিশু যদি ২৪ ঘণ্টায় ৬ বার প্রস্রাব করে, তাহলে ধরে নিতে হবে সে দুধ পাচ্ছে। কান্নার অন্য কারণ থাকতে পারে, সেটা খুঁজে দেখুন।

বোতলে বুকের দুধ: অনেক সময় মায়েরা বুকের দুধ পাম্প করে বের করে বোতলে ভরে খাওয়ান। তবে ফিডার দিলে শিশু বুঝতে পারে না আসল মা কোনটা। সহজ হয় বলে শিশু ফিডার টানে। ফিডারে অভ্যস্ত হলে সে মায়ের দুধ টেনে খেতে চায় না।

শিশু মায়ের দুধ টানলে প্রোল্যাকটিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা দুধ আরও বাড়াতে সাহায্য করে। মায়ের দুধ না টানলে একসময় দুধ শুকিয়ে যায়। মাকে যদি বাইরে যেতে হয়, তাহলে দুধ বের করে কাপে রেখে যাবেন। শিশুর প্রয়োজনে অন্যরা সেই দুধ তাকে খাওয়াতে পারবেন। মায়ের দুধ বাইরে ৬ ঘণ্টা, রেফ্রিজারেটরে ১২ ঘণ্টা সংরক্ষণ করা যায়।

বাড়ির মুরব্বিরা অনেক সময় শিশুকে অন্য রুমে রেখে মাকে বিশ্রামের সুযোগ করে দেন। তবে সফলভাবে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে চাইলে শিশুকে অবশ্যই মায়ের সঙ্গে একই রুমে, একই বিছানায় রাখতে হবে। এতে শিশু যখন প্রয়োজন তখনই খেতে পারবে। মায়ের শরীরের উষ্ণতায় শিশু বড় হবে।