গরমে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে এই চারটি ফল দারুণ উপকারী

গ্রীষ্মের রসালো সব ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর। এসবের মধ্যে কাঠফাটা গরমে শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে নিচের চারটি ফল দারুণ কার্যকর।

তরমুজ

রক্তের খারাপ চর্বি কমিয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও তরমুজ কার্যকর
ছবি: কবির হোসেন

তরমুজে জলীয় অংশের পরিমাণ প্রায় ৯২ শতাংশ। ৬ থেকে ৭ শতাংশ শর্করা, যত্সামান্য প্রোটিন থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ২২-২৫ কিলোক্যালরি থাকে। এটি ফাইবার তথা আঁশের ভালো উৎস। রক্তের খারাপ চর্বি কমিয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও তরমুজ কার্যকর। প্রোস্টেট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। তরমুজে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিটাক্যারোটিন আছে। এর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে। এর কোলিন শিশুর মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

সতর্কতা: শিশুদের বেশি তরমুজ খাওয়ালে পেট খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত পটাশিয়াম থাকায় কিডনির রোগীদেরও তরমুজ না খাওয়া উত্তম।

জাম

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে জামের কার্যকারিতা আছে

জামের প্রায় ৮২ শতাংশ পানি। প্রতি ১০০ গ্রাম জামে প্রায় ৫০ কিলোক্যালরি থাকে। শর্করার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম পাওয়া যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে জামের কার্যকারিতা আছে। আয়রন, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল ত্বক উজ্জ্বল করে, হিমোগ্লোবিন বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে ও ধমনিগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। 

সতর্কতা: খালি পেটে জাম খাওয়া একদমই উচিত নয়। পাকা জাম খেতে হবে। থ্যালাসেমিয়া ও কিডনির রোগীরা জাম খেতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

বাঙ্গি

বাঙ্গি বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি

বাঙ্গির প্রায় ৯০ শতাংশ জলীয় অংশ। ১০০ গ্রাম বাঙ্গিতে মাত্র ১৫-১৮ কিলোক্যালরি থাকে। ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং এর অধিক আঁশ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সতর্কতা: চিনি বা গুড় মেশালে বাঙ্গির পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হবেন। পটাশিয়াম বেশি থাকায় কিডনির সমস্যা থাকলে কম পরিমাণে খাবেন।

তালশাঁস

বাজারে এখন মিলবে তালশাঁস

তালশাঁসের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ জলীয় অংশ। শর্করার পরিমাণ ৮-১৫ শতাংশ। ১০০ গ্রাম তালশাঁসে ৩০-৫০ কিলোক্যালরি থাকে। তালশাঁস আয়রন, ফসফরাস, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভালো উৎস। এর ফাইবার শরীরে পানি ধরে রাখতেও সাহায্য করে। এর সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট পূরণ করে। এর উচ্চ ফাইবার কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। লিভারের সুরক্ষায় তালশাঁস কার্যকর। এর ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের গঠনকে শক্তিশালী করে।

সতর্কতা: অতিরিক্ত তালশাঁস পেটের পীড়ার কারণ হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে পটাশিয়াম বেড়ে যেতে পারে।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল